আজকাল সুপারশপ বা বাজারে অর্গানিক ট্যাগ লাগানো ফলমূল কিংবা সবজি দেখলে আমরা সেটিকে চোখ বন্ধ করে সেরা পুষ্টিকর খাবার বলে ধরে নেই। বেশি দাম দিয়েও অনেকে শুধু ‘বেশি ভিটামিন’ পাওয়ার আশায় এই খাবারগুলো কিনেন। কিন্তু হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষক ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, অর্গানিক খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে আমাদের ধারণায় কিছুটা ভুল রয়েছে। চলুন, জেনে নিই।
পুষ্টিগুণে বড় কোনো পার্থক্য নেই
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. ত্রিশা পাশরিচা সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, অরগানিক এবং সাধারণ পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাবারের পুষ্টিগুণে (ভিটামিন বা মিনারেল) তেমন বড় কোনো তফাৎ নেই। তাই শুধু বাড়তি পুষ্টির আশায় অরগানিক বেছে নেওয়া খুব একটা লাভজনক নয়।
আসল পার্থক্য যেখানে
অর্গানিক এবং সাধারণ খাবারের মূল পার্থক্য পুষ্টিতে নয়, বরং কীটনাশকের ব্যবহারে।
গবেষণায় দেখা গেছে:
১। অর্গানিক চাষাবাদে রাসায়নিক কীটনাশক অনেক কম ব্যবহার করা হয়।
২। সাধারণ খাবারের তুলনায় অর্গানিক খাবারে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ প্রায় ৩০ শতাংশ কম থাকে।
তবে ড. পাশরিচা আশ্বস্ত করে বলেন, বাজারে প্রচলিত সাধারণ সবজিতে কীটনাশকের যে সামান্য অংশ থাকে, তা একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে প্রমাণিত।
কাদের জন্য অর্গানিক বেশি জরুরি?
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সবার জন্য না হলেও নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য অর্গানিক খাবার বেছে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে: ১. গর্ভবতী নারী এবং ২. ছোট শিশু। তাদের শরীর অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় রাসায়নিক কীটনাশকের সামান্য প্রভাবও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত অর্গানিক খাবার খান, তারা সাধারণত স্বাস্থ্য সচেতন হন এবং একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেন।
তাদের সুস্বাস্থ্যের পেছনে কেবল খাবার নয়, বরং এই জীবনধারারও বড় ভূমিকা থাকে।
সবশেষে ড. পাশরিচার পরামর্শ হলো— খাবারের গায়ে লাগানো অর্গানিক লেবেল দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে প্লেটের দিকে নজর দিন। সুস্থ থাকতে চাইলে:
খাবারে বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি রাখুন।
প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
অর্গানিক হোক বা সাধারণ— খাবার যেন তাজা এবং প্রাকৃতিক হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
জীবনযাপন ডেস্ক 

























