ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদে ফেনীতে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর মহা দুর্নীতিবাজ, টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরীর ঢাকায় পোষ্টিং শিক্ষা প্রকৌশলী আলেক হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পিলার ও কয়েন চক্রের মূলহোতা ফরিদপুরের আওয়ামী নেতা আব্দুস সোবহান মিথ্যা বলাৎকারের মামলায় পাঁচ মাস ধরে কারাবন্দি শ্রমজীবী মোতালেব হোসেন দুর্নীতির অভিযোগ ঝুলে থাকতেই এলজিইডির শীর্ষ পদে বেলাল হোসেন শহীদুল্লাহ সিন্ডিকেটের ৩৮৭ কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য আমিনবাজার ভূমি অফিসে ঘুষের আখড়া নাজির-ক্যাশিয়ার সাজেদুল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ভবভদী আদর্শ যুব সংঘ’-এর উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন

মিথ্যা বলাৎকারের মামলায় পাঁচ মাস ধরে কারাবন্দি শ্রমজীবী মোতালেব হোসেন

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বড়বাড়ি ডালার পাড়া এলাকায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় মোতালেব হোসেন (৪৫) নামের এক শ্রমজীবী ব্যক্তি পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী হিরামতি বেগম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোতালেব হোসেন পেশায় দিনমজুর। তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে নির্ধারিত হওয়ায় কোনো জমানো অর্থ না থাকায় জীবনের শেষ সম্বল তিন শতাংশ জমি বিক্রি করেন তিনি। মেয়ের বিয়ের তারিখও চূড়ান্ত হয়।
কিন্তু জমি বিক্রির পর স্থানীয় কিছু ক্লাবসংশ্লিষ্ট যুবক মোতালেব হোসেনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, যে বাড়িতে কথিত ভিকটিম বসবাস করেন, সেই বাড়ির তিন শতাংশ জমি মোতালেব হোসেনের স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। জমি না দিলে মামলা দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারাগারে বন্দি মোতালেব হোসেনের স্ত্রী হিরামতি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। শুধু জমি বিক্রির টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আজ পাঁচ মাস ধরে সে জেলে। আমাদের একমাত্র মেয়ে, আর কোনো সন্তান হবে না। আমরা টাকা দেইনি বলেই এই মিথ্যা অভিযোগ। আদালতের ওপর বিশ্বাস আছে, আমরা খালাস পাব। কিন্তু আমাদের সম্মান—তার কী হবে? যে ছেলে অভিযোগ করেছে, সে আমাদের জমিতেই থাকে। সামান্য জমির লোভে মানুষ এত নিচে নামতে পারে ভাবিনি। প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কাছে সঠিক বিচারের দাবি জানাই। সাংবাদিকদের অনুরোধ, আপনারা দেশবাসীর সামনে সত্য তুলে ধরুন।”
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মোতালেব হোসেন অত্যন্ত নিরীহ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তারা বলেন,
“এই লোক জীবনে কারও সঙ্গে ঝগড়া তো দূরের কথা, তেমন মেলামেশাও করে না। সে কীভাবে এমন অপরাধ করতে পারে—এলাকার কেউই বিশ্বাস করে না। কিছু উশৃঙ্খল ছেলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে। আমরা চাই আইন সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করুক।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদে ফেনীতে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ

পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন

মিথ্যা বলাৎকারের মামলায় পাঁচ মাস ধরে কারাবন্দি শ্রমজীবী মোতালেব হোসেন

আপডেট সময় ১১:১৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বড়বাড়ি ডালার পাড়া এলাকায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় মোতালেব হোসেন (৪৫) নামের এক শ্রমজীবী ব্যক্তি পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী হিরামতি বেগম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোতালেব হোসেন পেশায় দিনমজুর। তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে নির্ধারিত হওয়ায় কোনো জমানো অর্থ না থাকায় জীবনের শেষ সম্বল তিন শতাংশ জমি বিক্রি করেন তিনি। মেয়ের বিয়ের তারিখও চূড়ান্ত হয়।
কিন্তু জমি বিক্রির পর স্থানীয় কিছু ক্লাবসংশ্লিষ্ট যুবক মোতালেব হোসেনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, যে বাড়িতে কথিত ভিকটিম বসবাস করেন, সেই বাড়ির তিন শতাংশ জমি মোতালেব হোসেনের স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। জমি না দিলে মামলা দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারাগারে বন্দি মোতালেব হোসেনের স্ত্রী হিরামতি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। শুধু জমি বিক্রির টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আজ পাঁচ মাস ধরে সে জেলে। আমাদের একমাত্র মেয়ে, আর কোনো সন্তান হবে না। আমরা টাকা দেইনি বলেই এই মিথ্যা অভিযোগ। আদালতের ওপর বিশ্বাস আছে, আমরা খালাস পাব। কিন্তু আমাদের সম্মান—তার কী হবে? যে ছেলে অভিযোগ করেছে, সে আমাদের জমিতেই থাকে। সামান্য জমির লোভে মানুষ এত নিচে নামতে পারে ভাবিনি। প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কাছে সঠিক বিচারের দাবি জানাই। সাংবাদিকদের অনুরোধ, আপনারা দেশবাসীর সামনে সত্য তুলে ধরুন।”
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মোতালেব হোসেন অত্যন্ত নিরীহ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তারা বলেন,
“এই লোক জীবনে কারও সঙ্গে ঝগড়া তো দূরের কথা, তেমন মেলামেশাও করে না। সে কীভাবে এমন অপরাধ করতে পারে—এলাকার কেউই বিশ্বাস করে না। কিছু উশৃঙ্খল ছেলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে। আমরা চাই আইন সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করুক।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।