হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ও ইবাদতের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। নতুন বছর ২০২৬ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে প্রশ্ন জাগে—এ বছর পবিত্র রমজান, ঈদ, শবে বরাত ও শবে কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো কবে পালিত হবে? ইসলামি বিধান অনুযায়ী সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের জন্য এসব দিবস পালন করা জরুরি। ইসলামে ইবাদতের পাশাপাশি হালাল উপার্জনের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে বৈরাগ্যবাদের কোনো স্থান নেই। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নামাজ ও ইবাদতের পাশাপাশি জীবিকা অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা জুমআর ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘‘অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ করো ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’’ অর্থাৎ, পার্থিব জীবন ও পরকালের প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।
ঈদ উৎসবের উৎপত্তি
ইসলামে ইবাদতের পাশাপাশি নির্মল আনন্দ উদযাপনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বছরে দুটি ঈদ—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর প্রধান ধর্মীয় উৎসব। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর দেখলেন সেখানকার মানুষ বছরে দুটি বিশেষ দিনে আনন্দ-উৎসব ও খেলাধুলা করে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই দুই দিনে তোমরা কিসের উৎসব পালন করো?’ তারা জানাল, জাহেলিয়াতের যুগ থেকেই তারা এই রীতি পালন করে আসছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুটি দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। এর একটি হলো ঈদুল ফিতর, অপরটি হলো ঈদুল আজহা।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১১৩৪)।
২০২৬ সালের সম্ভাব্য ধর্মীয় দিনপঞ্জি
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে হিজরি মাসের তারিখ নির্ধারিত হয়। তবে সরকারি ছুটির তালিকা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসগুলোর সম্ভাব্য তারিখ নিচে তুলে ধরা হলো:
-
পবিত্র শবে মেরাজ: ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার দিবাগত রাত)।
-
পবিত্র শবে বরাত: ০৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার দিবাগত রাত)।
-
পবিত্র রমজান মাস শুরু: ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)। (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।
-
জুমাতুল বিদা: ১৩ মার্চ (শুক্রবার)।
-
পবিত্র শবে কদর: ১৫ মার্চ (রবিবার দিবাগত রাত)।
-
পবিত্র ঈদুল ফিতর: ১৯ অথবা ২০ মার্চ (শুক্রবার, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।
-
পবিত্র হজ: ১৪ মে থেকে শুরু হতে পারে (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।
-
পবিত্র ঈদুল আজহা: ১৬ মে (শনিবার, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।
-
পবিত্র আশুরা: ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার)।
-
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার)।
বি.দ্র.: নির্বাচনের কারণে এ বছর বিশ্ব ইজতেমার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়া রমজান, ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় দিবসের চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার সাপেক্ষে পরিবর্তন হতে পারে।
ধর্ম ডেস্ক 






















