ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙার ঠিকাদারকে ৩০০ কোটি টাকার কাজ দিলেন বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলু

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন ( বিসিআইসি )–এর অধীনে বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (এমএসসিএল)-যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতীতে নানা বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিসিআইসি চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হকের সঙ্গে ‘সেটেলমেন্ট’-এর মাধ্যমে এই কাজ বণ্টন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় (লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও) বাফার সার গুদাম নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে এমএসসিএলকে। প্রতিটি গুদামের বরাদ্দ প্রায় ৬০ কোটি টাকা-মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ের কাজের জন্য নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে।
২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র আমলে ক্যান্টনমেন্টে বেগম খালেদা জিয়া–র বাসভবন ভাঙার কাজে এমএসসিএল যুক্ত ছিল-এ বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘বালিশ কাণ্ড’সহ বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনায় আলোচিত হয়।
২০২৫ সালে জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে এবং বিসিআইসির কাছে একাধিকবার নথি চায়। একই সময়ে শিল্প মন্ত্রণালয় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অভিযোগ রয়েছে-তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি তদন্ত কমিটির প্রধান দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে যুক্ত হওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার ও প্রকল্প কাজে অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক দাবি করেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। দুদক ও বিভাগীয় তদন্তের ক্ষেত্রেও তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।
এমএসসিএলের অতীত রেকর্ড ও চলমান অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিসিআইসির মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের প্রকল্পে তাদের পুনরায় কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্রয়প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুতর আঘাত। এখন দেখার বিষয়-সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙার ঠিকাদারকে ৩০০ কোটি টাকার কাজ দিলেন বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলু

আপডেট সময় ০৩:১৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন ( বিসিআইসি )–এর অধীনে বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (এমএসসিএল)-যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতীতে নানা বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিসিআইসি চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হকের সঙ্গে ‘সেটেলমেন্ট’-এর মাধ্যমে এই কাজ বণ্টন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় (লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও) বাফার সার গুদাম নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে এমএসসিএলকে। প্রতিটি গুদামের বরাদ্দ প্রায় ৬০ কোটি টাকা-মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ের কাজের জন্য নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে।
২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র আমলে ক্যান্টনমেন্টে বেগম খালেদা জিয়া–র বাসভবন ভাঙার কাজে এমএসসিএল যুক্ত ছিল-এ বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘বালিশ কাণ্ড’সহ বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনায় আলোচিত হয়।
২০২৫ সালে জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে এবং বিসিআইসির কাছে একাধিকবার নথি চায়। একই সময়ে শিল্প মন্ত্রণালয় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অভিযোগ রয়েছে-তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি তদন্ত কমিটির প্রধান দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটিতে যুক্ত হওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার ও প্রকল্প কাজে অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক দাবি করেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। দুদক ও বিভাগীয় তদন্তের ক্ষেত্রেও তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।
এমএসসিএলের অতীত রেকর্ড ও চলমান অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিসিআইসির মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের প্রকল্পে তাদের পুনরায় কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্রয়প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুতর আঘাত। এখন দেখার বিষয়-সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।