ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজারে সরকারি নির্ধারিত ২২ ফুট রাস্তার জায়গা ও পথচারীদের ফুটপাত দখল করে চলায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
বিশেষ করে ডিটিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাত্যহিক শিক্ষা জীবন এখন বিষিয়ে উঠেছে অসহ্য দুর্গন্ধ আর চলাচলের চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের সরকারি ফুটপাতগুলো এখন পথচারীদের চলাচলের অনুপযুক্ত। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ফুটপাতের ওপর বিশাল বিশাল খালি পানির ট্যাংকি ও গ্যাসের সিলিন্ডার রেখে পথ আটকে রেখেছেন। এতে করে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার ভাগাড়
সবচেয়ে অমানবিক চিত্র দেখা গেছে দুই স্কুলের মিলনস্থলে।আশপাশের কয়েক এলাকার ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিন ধরে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে ঠিক স্কুলের সামনেই। পচা আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে ক্লাসরুমে বসে পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান আক্ষেপ করে বলে, “বহুবার স্যারদের কাছে আবেদন করেও স্কুলের সামনে থেকে ময়লা সরানো যায়নি। এই দুর্গন্ধে আমাদের শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।”
স্থানীয় পথচারী তুহিন জানান, ২০১৯ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা থাকাকালীন কুঞ্জেরহাটে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হতো। তখন বাজার এলাকায় এক ধরণের শৃঙ্খলা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রশাসনিক তৎপরতা দৃশ্যমান না থাকায় দখলদারিত্ব ও অব্যবস্থাপনা চরম আকার ধারণ করেছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন,মোবাইল কোর্ট কি তবে এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ? এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুইটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে কেন ময়লার স্তূপ থাকবে আর কেনই বা সরকারি ফুটপাত দখল হয়ে থাকবে।
এই প্রশ্ন এখন ২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ফুটপাত দখলমুক্ত করে এবং ময়লা অপসারণ করে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
রিয়াজ ফরাজী(ভোলা) 

























