ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কচুয়ায় দেড় কিলোমিটার সড়ক বেহাল: ঝুঁকিতে ২৫০ শিক্ষার্থী, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল বিএনপি সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী গোপালগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পিতার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা  নগর গুলিস্তান স্টপওভার বাস-মিনিবাস টার্মিনাল শ্রমিক পরিচালনা কমিটির পরিচিতি সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গাজায় ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার দাম বাড়ানোর পর দেশে আজ সোনার ভরি কত? কক্সবাজারের মাতারবাড়ী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বেরোবির শিক্ষার্থীদের ‘দরিচা’, বিহারি নারীদের দক্ষতায় খুলছে সম্ভাবনার নতুন জানালা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে তিন মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের গত ৫৫ বছর ধরে নানা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিকতা অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলারও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। অনেক আসামি জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলেও অধিকাংশ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন বিমাতৃসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো ধরনের হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি খেয়াল রাখবেন। তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকবো।”

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যের পর সাংগঠনিক রুপরেখা তুলে ধরেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।

এ সময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ জন সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।
পরে সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় দেড় কিলোমিটার সড়ক বেহাল: ঝুঁকিতে ২৫০ শিক্ষার্থী, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

আপডেট সময় ১১:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে তিন মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের গত ৫৫ বছর ধরে নানা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিকতা অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলারও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। অনেক আসামি জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলেও অধিকাংশ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন বিমাতৃসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো ধরনের হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি খেয়াল রাখবেন। তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকবো।”

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতির বক্তব্যের পর সাংগঠনিক রুপরেখা তুলে ধরেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।

এ সময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ জন সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।
পরে সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।