চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৪নং পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাঁচাইয়া গ্রামের প্রধান কাঁচা রাস্তাটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ৩ থেকে ৪ হাজার বাসিন্দা। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে পড়ে। সড়কটির এমন জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে অটোরিকশা, সিএনজি ও রিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলো প্রায়ই উল্টে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১১৮নং বাঁচাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এই রাস্তাটির সিংহভাগ অংশই পুকুরপাড় ঘেঁষে অবস্থিত। পুকুরপাড়ের মাটি ধসে রাস্তাটি অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কর্দমাক্ত ও খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়ত যানবাহন উল্টে যাত্রী ও চালকেরা আহত হচ্ছেন।
বাঁচাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহদেব তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। দেড় কিলোমিটারের এই কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে এবং পুকুরপাড়ের বিপজ্জনক সড়ক পার হয়ে কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পা পিছলে কাদার মধ্যে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এবং জামাকাপড় নষ্ট হওয়ায় বিদ্যালয়ে না এসে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল সরকার, রতন সরকার ও সঞ্জয় সরকারসহ অনেকেই বলেন, “এই দেড় কিলোমিটার রাস্তা আমাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। রাস্তা খারাপ হওয়ায় কোনো অটো বা সিএনজি গ্রামে ঢুকতে চায় না, আর আসলেও প্রায়ই উল্টে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রামে কোনো রোগী বা গর্ভবতী নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ারও কোনো উপায় নেই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মনু মিয়া বলেন, “রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি সত্যি। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার এবং পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
৪নং পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব মজুমদার জয় জানান, “বাঁচাইয়া গ্রামের এই দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি স্থানীয় জনসাধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের দুর্ভোগ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রাস্তাটি পাকাকরণ এবং টেকসই সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বরাদ্দ চাওয়া হবে।”
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা এবং হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে অনতিবিলম্বে সড়কটি পাকাকরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
দীন মোহাম্মদ-কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি 




















