ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামপালে সংসার খরচ যোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন এক নারী ছাত্রদলের রাজনীতিতে বৃহৎ পরিসরে ভূমিকা রাখতে চান জিসান ভালোবাসি গাইবান্ধা’ সংগঠনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজির অভিযোগের কেন্দ্রে ‘আফসার সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্টের নীলফামারী জেলা কমিটি গঠন পদ্মা রেলে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম, কার পকেটে গেল এত টাকা? কাস্টমস কর্মকর্তা কাজী সুলতানা দম্পতির ‘সম্পদের পাহাড়’, উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আতীকুজ্জামানের নামে-বেনামে ৫০ কোটি টাকার সম্পদ মাদারীপুর বিআরটিএর সামসুদ্দীনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৫ গ্রেপ্তার, মামলা ৫০

পদ্মা রেলে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম, কার পকেটে গেল এত টাকা?

দেশের বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম পেয়েছে সরকারি অডিট। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ হাজার কোটিতে পৌঁছানোর পরও নিরীক্ষায় মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে।

এমনকি প্রকৃত কাজের চেয়ে বেশি বিল পরিশোধ, নিম্নমানের কাজের বিপরীতে অর্থ ছাড়সহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে অডিটে। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন ও ঠিকাদাররা এই অনিয়মে জড়িত বলে জানা যায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও উল্টো আফজালকে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে পদোন্নতি দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

পদ্মা রেল প্রকল্পের অডিট আপত্তির পাশাপাশি ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ কেনায় ৬৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর রেল মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব খালেদা আখতার স্বাক্ষরিত চিঠি গত ২ জুলাই সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়। এতে ৬ জুলাই প্রমাণপত্রসহ শুনানিতে তাদের উপস্থিত হতে বলা হয়। তবে তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, পাথর সরবরাহ ও মোটর মেরামতের নামে ডিজি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে তার সন্তানদের নামে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের আর্থিক লেনদেন যাচাই করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহযোগিতা চেয়েছে দুদক।

গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত করা সরকারি নিরীক্ষা (অডিট) হাতে এসেছে। এই প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে রেলের ইতিহাসে নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি অডিটে প্রকল্পটিতে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরও মো. আফজাল হোসেন ডিজির দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মতো বড় প্রকল্পে ওঠা এসব অভিযোগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

তিনি বলেন, তদন্তে যদি মন্ত্রণালয়, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এত বড় অভিযোগের পর তদন্তের স্বার্থে রেলের ডিজিকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করতে পারত। কিন্তু সেটি না করে তাকে পদোন্নতি দেওয়া জবাবদিহির ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

২০ অডিট আপত্তি
সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ২০টি অডিট আপত্তিতে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অডিটের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে নকশা পরিবর্তনের পরও অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপকরণ আমদানি, উচ্চমূল্যে চুক্তি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং কাজের তুলনায় বেশি বিল দেওয়ার মতো নানা অনিয়ম হয়েছে।

অডিটের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে ঢাকা-যশোর রেললাইন নির্মাণে। সেখানে মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১ দশমিক ৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ কম হওয়ার পরও ঠিকাদারকে শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে ২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা সরকারি ক্ষতির অভিযোগ তুলেছে অডিট।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে প্রকল্পটির ইপিসি চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে রেললাইনের বাঁধ নির্মাণের গড় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ মিটার। তবে সর্বশেষ জরিপে ওই উচ্চতা কমিয়ে ৫ দশমিক ৬ মিটার নির্ধারণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানায়। পরে প্রকল্প পরিচালক সংশোধিত নকশা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন।

অডিটের ভাষ্য, নকশা পরিবর্তনের ফলে মাটি ভরাট, পিভিডি, জিওটেক্সটাইল, সিমেন্ট মিক্সিং পাইল, ব্রিজ ও কালভার্টসহ বিভিন্ন কাজের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কিন্তু প্রকৃত কাজ কম হলেও ঠিকাদারকে বিল অব কোয়ান্টিটিজে (বিওকিউ) উল্লেখিত শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়। অথচ চুক্তি অনুযায়ী এসব ছিল পরিমাপযোগ্য কাজ। অর্থাৎ যতটুকু কাজ হবে, বিলও ততটুকুরই পাওয়ার কথা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংশোধিত নকশা অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে ঠিকাদারকে চিঠি দেয়। অডিটের হিসাবে, ঠিকাদারকে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের (২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা) বেশি অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জবাবে দাবি করেছে, ঠিকাদারকে চুক্তি অনুযায়ী ডলারে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত কোনো ডলার পরিশোধ করা হয়নি। বর্তমান ডলার বিনিময় হার ব্যবহার করে অডিট অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়েছে, যা সঠিক নয়। তবে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি অডিট।

নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের মতে, বিওকিউতে দর নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশি টাকায়। পরে মূল্য সমন্বয়ও করা হয়েছে। ফলে বর্তমান ডলার বিনিময় হার প্রয়োগ করাই যৌক্তিক। চুক্তির জিসিসি ২.৫ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ পরবর্তী বিল থেকে কেটে রাখার সুযোগ থাকলেও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তা করেনি। বরং সংশোধিত নকশায় কাজ কম হওয়ার পরও পুরো বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা এবং এ অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে অডিট।

অতিরিক্ত রেল এনে ঠিকাদারকে সুবিধা
অডিটের আরেকটি আপত্তিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ২ হাজার ৮৫৫ টন ইউআইসি-৬০ রেল আমদানি করে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত শুল্ক (সিডি), ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাবদ ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিটের হিসাবে, অতিরিক্ত ২ হাজার ৮৫৫ টন রেল আমদানির কারণে ঠিকাদারকে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায়যোগ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পের কাজের পরিধি বাড়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-গেন্ডারিয়া তৃতীয় লাইন, ভাঙ্গা জংশন, রূপদিয়া, সিঙ্গিয়া ও পদ্মবিলা জংশনসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত রেলের প্রয়োজন হয়। তবে এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে অডিট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিলিমিটার কম গ্রানুলার স্যান্ড ব্যবহার করেও ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, টার্নকি (ইপিসি) চুক্তির শর্ত ভেঙে বিওকিউ বাড়িয়ে ৭২৮ কোটি ৪ লাখ টাকা, দেশীয় মালামালের মূল্য বাংলাদেশি টাকার পরিবর্তে ডলারে পরিশোধ করে ৫১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত কাজ’ দেখিয়ে প্রাক্কলনের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি দামে চুক্তি করায় ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে।

অডিটে আরো বলা হয়েছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি প্রতিবেদনের তুলনায় বেশি কাজ দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। একই জমির মূল্য দ্বিতীয়বার নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অনুদান (এজিএল) দেওয়ায় ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ভাঙ্গা রেলস্টেশনের নকশা পরিবর্তন করে ২৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া গাড়ি কেনায় ১১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া ব্যালাস্টের (পাথর) পুরুত্ব কম দিয়েও ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া জমির সীমানা পিলার স্থাপনে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, চুক্তির বাইরে ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কেনায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, সরকারি জমির মূল্য ব্যক্তির নামে পরিশোধ দেখিয়ে ১১ কোটি ৫ লাখ টাকা, অতিরিক্ত অর্থ ডিএসসিসিকে দিয়ে এফডিআরে রাখায় ৪১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ভাঙ্গা জংশনে অতিরিক্ত মাটি ভরাট দেখিয়ে ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা, প্রভিশনাল সামের ওপর ওভারহেড চার্জ দিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত স্থাপনা নির্মাণে পরামর্শককে অনিয়মিত অর্থ পরিশোধের অভিযোগও তুলেছে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ।

১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যাগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেছে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ। অডিট কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম কাজ বা চুক্তির বাইরে ব্যয় দেখিয়েও ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায়, সরকারি কোষাগারে জমা এবং দায়ী ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে অডিট।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে শনিবার দুপুরে রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে প্রশ্ন আকারে খুদে বার্তা পাঠালে তিনি বলেন, অডিটের অধিকাংশ আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অনেক আপত্তি প্রত্যাহারও করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য তিনি প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তার ভাষ্য, প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ই এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য দিতে পারবে।

জানতে চাইলে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া বলেন, ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ একে একে জবাব দিচ্ছে। তার ভাষ্য, অডিট আপত্তি উঠলেই সেটিকে অনিয়ম বলা যায় না। অডিটে উত্থাপিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে।

ব্যবস্থা নেওয়া হবে : প্রতিমন্ত্রী
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ শনিবার বিকালে বলেন, রেলের মহাপরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয়গুলো আমরা নজরে রেখেছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে সংসার খরচ যোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন এক নারী

পদ্মা রেলে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম, কার পকেটে গেল এত টাকা?

আপডেট সময় ১২:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম পেয়েছে সরকারি অডিট। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ হাজার কোটিতে পৌঁছানোর পরও নিরীক্ষায় মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে।

এমনকি প্রকৃত কাজের চেয়ে বেশি বিল পরিশোধ, নিম্নমানের কাজের বিপরীতে অর্থ ছাড়সহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে অডিটে। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন ও ঠিকাদাররা এই অনিয়মে জড়িত বলে জানা যায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও উল্টো আফজালকে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে পদোন্নতি দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

পদ্মা রেল প্রকল্পের অডিট আপত্তির পাশাপাশি ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ কেনায় ৬৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর রেল মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব খালেদা আখতার স্বাক্ষরিত চিঠি গত ২ জুলাই সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়। এতে ৬ জুলাই প্রমাণপত্রসহ শুনানিতে তাদের উপস্থিত হতে বলা হয়। তবে তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, পাথর সরবরাহ ও মোটর মেরামতের নামে ডিজি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে তার সন্তানদের নামে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের আর্থিক লেনদেন যাচাই করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহযোগিতা চেয়েছে দুদক।

গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত করা সরকারি নিরীক্ষা (অডিট) হাতে এসেছে। এই প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে রেলের ইতিহাসে নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি অডিটে প্রকল্পটিতে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরও মো. আফজাল হোসেন ডিজির দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মতো বড় প্রকল্পে ওঠা এসব অভিযোগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

তিনি বলেন, তদন্তে যদি মন্ত্রণালয়, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এত বড় অভিযোগের পর তদন্তের স্বার্থে রেলের ডিজিকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করতে পারত। কিন্তু সেটি না করে তাকে পদোন্নতি দেওয়া জবাবদিহির ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

২০ অডিট আপত্তি
সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ২০টি অডিট আপত্তিতে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অডিটের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে নকশা পরিবর্তনের পরও অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপকরণ আমদানি, উচ্চমূল্যে চুক্তি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং কাজের তুলনায় বেশি বিল দেওয়ার মতো নানা অনিয়ম হয়েছে।

অডিটের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় আপত্তি এসেছে ঢাকা-যশোর রেললাইন নির্মাণে। সেখানে মূল নকশার তুলনায় গড়ে ১ দশমিক ৭ মিটার কম উচ্চতায় মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ কম হওয়ার পরও ঠিকাদারকে শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে ২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা সরকারি ক্ষতির অভিযোগ তুলেছে অডিট।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে প্রকল্পটির ইপিসি চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে রেললাইনের বাঁধ নির্মাণের গড় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ মিটার। তবে সর্বশেষ জরিপে ওই উচ্চতা কমিয়ে ৫ দশমিক ৬ মিটার নির্ধারণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানায়। পরে প্রকল্প পরিচালক সংশোধিত নকশা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন।

অডিটের ভাষ্য, নকশা পরিবর্তনের ফলে মাটি ভরাট, পিভিডি, জিওটেক্সটাইল, সিমেন্ট মিক্সিং পাইল, ব্রিজ ও কালভার্টসহ বিভিন্ন কাজের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কিন্তু প্রকৃত কাজ কম হলেও ঠিকাদারকে বিল অব কোয়ান্টিটিজে (বিওকিউ) উল্লেখিত শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়। অথচ চুক্তি অনুযায়ী এসব ছিল পরিমাপযোগ্য কাজ। অর্থাৎ যতটুকু কাজ হবে, বিলও ততটুকুরই পাওয়ার কথা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংশোধিত নকশা অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে ঠিকাদারকে চিঠি দেয়। অডিটের হিসাবে, ঠিকাদারকে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের (২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা) বেশি অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জবাবে দাবি করেছে, ঠিকাদারকে চুক্তি অনুযায়ী ডলারে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত কোনো ডলার পরিশোধ করা হয়নি। বর্তমান ডলার বিনিময় হার ব্যবহার করে অডিট অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়েছে, যা সঠিক নয়। তবে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি অডিট।

নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের মতে, বিওকিউতে দর নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশি টাকায়। পরে মূল্য সমন্বয়ও করা হয়েছে। ফলে বর্তমান ডলার বিনিময় হার প্রয়োগ করাই যৌক্তিক। চুক্তির জিসিসি ২.৫ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ পরবর্তী বিল থেকে কেটে রাখার সুযোগ থাকলেও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তা করেনি। বরং সংশোধিত নকশায় কাজ কম হওয়ার পরও পুরো বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা এবং এ অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে অডিট।

অতিরিক্ত রেল এনে ঠিকাদারকে সুবিধা
অডিটের আরেকটি আপত্তিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ২ হাজার ৮৫৫ টন ইউআইসি-৬০ রেল আমদানি করে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত শুল্ক (সিডি), ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাবদ ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিটের হিসাবে, অতিরিক্ত ২ হাজার ৮৫৫ টন রেল আমদানির কারণে ঠিকাদারকে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায়যোগ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পের কাজের পরিধি বাড়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-গেন্ডারিয়া তৃতীয় লাইন, ভাঙ্গা জংশন, রূপদিয়া, সিঙ্গিয়া ও পদ্মবিলা জংশনসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত রেলের প্রয়োজন হয়। তবে এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে অডিট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া মূল স্পেসিফিকেশনের তুলনায় গড়ে ২০০ মিলিমিটার কম গ্রানুলার স্যান্ড ব্যবহার করেও ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, টার্নকি (ইপিসি) চুক্তির শর্ত ভেঙে বিওকিউ বাড়িয়ে ৭২৮ কোটি ৪ লাখ টাকা, দেশীয় মালামালের মূল্য বাংলাদেশি টাকার পরিবর্তে ডলারে পরিশোধ করে ৫১৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং প্রকল্পকে ‘বিশেষায়িত কাজ’ দেখিয়ে প্রাক্কলনের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি দামে চুক্তি করায় ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে।

অডিটে আরো বলা হয়েছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি প্রতিবেদনের তুলনায় বেশি কাজ দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। একই জমির মূল্য দ্বিতীয়বার নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অনুদান (এজিএল) দেওয়ায় ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ভাঙ্গা রেলস্টেশনের নকশা পরিবর্তন করে ২৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া গাড়ি কেনায় ১১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া ব্যালাস্টের (পাথর) পুরুত্ব কম দিয়েও ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া জমির সীমানা পিলার স্থাপনে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, চুক্তির বাইরে ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কেনায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, সরকারি জমির মূল্য ব্যক্তির নামে পরিশোধ দেখিয়ে ১১ কোটি ৫ লাখ টাকা, অতিরিক্ত অর্থ ডিএসসিসিকে দিয়ে এফডিআরে রাখায় ৪১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ভাঙ্গা জংশনে অতিরিক্ত মাটি ভরাট দেখিয়ে ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা, প্রভিশনাল সামের ওপর ওভারহেড চার্জ দিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত স্থাপনা নির্মাণে পরামর্শককে অনিয়মিত অর্থ পরিশোধের অভিযোগও তুলেছে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ।

১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যাগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেছে নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ। অডিট কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম কাজ বা চুক্তির বাইরে ব্যয় দেখিয়েও ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায়, সরকারি কোষাগারে জমা এবং দায়ী ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে অডিট।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে শনিবার দুপুরে রেলওয়ের ডিজি মো. আফজাল হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে প্রশ্ন আকারে খুদে বার্তা পাঠালে তিনি বলেন, অডিটের অধিকাংশ আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অনেক আপত্তি প্রত্যাহারও করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য তিনি প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তার ভাষ্য, প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ই এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য দিতে পারবে।

জানতে চাইলে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া বলেন, ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ একে একে জবাব দিচ্ছে। তার ভাষ্য, অডিট আপত্তি উঠলেই সেটিকে অনিয়ম বলা যায় না। অডিটে উত্থাপিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে।

ব্যবস্থা নেওয়া হবে : প্রতিমন্ত্রী
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ শনিবার বিকালে বলেন, রেলের মহাপরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয়গুলো আমরা নজরে রেখেছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।