ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা ‘জামায়াত’ হঠাৎ করেই বদলে গেল জামালপুরে ধ্বংস করা হলো দুই ইটভাটার চিমনি, আটক ২ সংরক্ষিত নারী আসনের ৬৫ শতাংশই কোটিপতি : টিআইবি নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে কারাদণ্ড   ডাব পাড়া নিয়ে একজনকে ‍কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যায় সেই জনিরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

শবে কদর লাভের সহজ ৫ উপায়

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৫৬১ বার পড়া হয়েছে

বিদায় নিচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের বিদায়ের মুহূর্তগুলোতেই মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম পবিত্র লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে ইবাদত করা মানে হলো টানা এক হাজার মাস বা প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার সমান সওয়াব অর্জন করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এই মহা সুযোগ কাজে লাগাতে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

১. নির্দিষ্ট রাতটি খোঁজার চেষ্টা করুন
লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই এই রাতগুলোতে ইবাদতের বিশেষ প্রস্তুতি রাখা জরুরি।

২. ইতিকাফের মাধ্যমে মনোযোগ বাড়ানো
রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নত। তবে কেউ যদি পুরো সময় না পারেন, তবে সাধ্যমতো অন্তত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য ইতিকাফের নিয়ত করতে পারেন। এতে দুনিয়াবি কোলাহল থেকে দূরে থেকে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়া সহজ।

৩. ইবাদতের রুটিন তৈরি করুন
কদরের রাতে সময় অপচয় না করে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলা ভালো। তারাবি নামাজের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টি ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করুন। এই সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, অর্থসহ পাঠ ও অনুধাবন করা এবং নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ পড়ার ওপর গুরুত্ব দিন। নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়ে একান্ত মনে মোনাজাত করুন।

৪. বিশেষ দোয়া ও দান-সদকা
হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কদরের রাতে কোন দোয়াটি পড়া উত্তম? নবীজি (সা.) শিখিয়েছিলেন— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।

পাশাপাশি এই রাতে দান-সদকা করারও বিশেষ সওয়াব রয়েছে।

৫. আল্লাহর কাছে নিজের চাওয়া ও আগামীর পরিকল্পনা পেশ করুন
আপনার জীবনের দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী চাওয়াগুলো কী কী? তার একটি তালিকা মনে মনে তৈরি করে নিন। কদরের রাতে মন খুলে সেই চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে পেশ করুন। একইসঙ্গে শপথ নিন যে, এই রমজানে যে পরিবর্তন নিজের মধ্যে এনেছেন, তা যেন আগামী বছর পর্যন্ত ধরে রাখা যায়।

পবিত্র এই রাতটি আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল সুযোগ। তাই অলসতা না করে এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও রহমত লাভ করতে পারি আমরা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

শবে কদর লাভের সহজ ৫ উপায়

আপডেট সময় ০৩:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বিদায় নিচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের বিদায়ের মুহূর্তগুলোতেই মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম পবিত্র লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে ইবাদত করা মানে হলো টানা এক হাজার মাস বা প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার সমান সওয়াব অর্জন করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এই মহা সুযোগ কাজে লাগাতে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

১. নির্দিষ্ট রাতটি খোঁজার চেষ্টা করুন
লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই এই রাতগুলোতে ইবাদতের বিশেষ প্রস্তুতি রাখা জরুরি।

২. ইতিকাফের মাধ্যমে মনোযোগ বাড়ানো
রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নত। তবে কেউ যদি পুরো সময় না পারেন, তবে সাধ্যমতো অন্তত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য ইতিকাফের নিয়ত করতে পারেন। এতে দুনিয়াবি কোলাহল থেকে দূরে থেকে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়া সহজ।

৩. ইবাদতের রুটিন তৈরি করুন
কদরের রাতে সময় অপচয় না করে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলা ভালো। তারাবি নামাজের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টি ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করুন। এই সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, অর্থসহ পাঠ ও অনুধাবন করা এবং নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ পড়ার ওপর গুরুত্ব দিন। নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়ে একান্ত মনে মোনাজাত করুন।

৪. বিশেষ দোয়া ও দান-সদকা
হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কদরের রাতে কোন দোয়াটি পড়া উত্তম? নবীজি (সা.) শিখিয়েছিলেন— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।

পাশাপাশি এই রাতে দান-সদকা করারও বিশেষ সওয়াব রয়েছে।

৫. আল্লাহর কাছে নিজের চাওয়া ও আগামীর পরিকল্পনা পেশ করুন
আপনার জীবনের দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী চাওয়াগুলো কী কী? তার একটি তালিকা মনে মনে তৈরি করে নিন। কদরের রাতে মন খুলে সেই চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে পেশ করুন। একইসঙ্গে শপথ নিন যে, এই রমজানে যে পরিবর্তন নিজের মধ্যে এনেছেন, তা যেন আগামী বছর পর্যন্ত ধরে রাখা যায়।

পবিত্র এই রাতটি আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল সুযোগ। তাই অলসতা না করে এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও রহমত লাভ করতে পারি আমরা।