জামায়াতে ইসলামির প্রতি ইঙ্গিত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা বলছেন আমাদের চেহারা বদলে গেছে, আসলে আমাদের চেহারা বদলায়নি। তারা হঠাৎ করেই বদলে গেল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে ৫ই আগস্টের পরে উনারা বলছেন যে আমাদের চেহারা বদলে গেছে। আমাদের চেহারা বদলায়নি, বরং তারা হঠাৎ করেই বদলে গেল। হঠাৎ করে তাদের মনে হলো যে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সবকিছু তৈরি হয়ে গেছে। তখন তারা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যে সমস্ত উক্তি এবং কথা বলেছেন, সেই বক্তব্যগুলো গণতন্ত্রকে সাহায্য করেনি।
আজকের যে দূরত্ব, এই দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার পেছনে এটি একটি কারণ ছিল। আপনারা নির্বাচনকে অস্বীকার করছেন এবং বলছেন যে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এটি কেউই মেনে নেবে না। এই দেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি এবং কখনো মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আমাদের একজন সম্মানিত সদস্য বলেছেন যে আমি সংবিধানকে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি। সংবিধান যেন ঠিক থাকে, সেই ব্যাপারে আমি বডি ল্যাংগুয়েজ দিয়ে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ, আমি করেছি। কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত এবং এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।
মন্ত্রী বলেন, এই সংবিধানের অনেকগুলো অনুচ্ছেদ ও অধ্যায় আছে যেগুলো বারবার পরিবর্তন হয়েছে। এই সংবিধানকে কেটে কেটে, বলা যেতে পারে একটি কাটাছেঁড়া পাতায় পরিণত করা হয়েছে। আমরা এই সংবিধানের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি। এটি একটি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান। মাননীয় স্পিকার অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন। সালাহউদ্দিন সাহেব বলেছেন যে আজকে আমরা রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে কথা বলছি। রাষ্ট্রপতি যিনিই হোন না কেন, তিনি কোনো ব্যক্তি নন বরং একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করেছি। কারণ ৫ই আগস্টের পরে যদি এই রাষ্ট্রপতি না থাকতেন, তবে এই রাষ্ট্রে একটি অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস আমরা বুকে ধারণ করি এবং এই দেশের সব মানুষই তা ধারণ করে। মাননীয় স্পিকার, যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কটাক্ষ করা হয়, তখন অবশ্যই আমরা কষ্ট পাই। লাখ লাখ মানুষ যে সংগ্রাম ও লড়াই করেছে, তারাও একইভাবে কষ্ট পায়।
ফখরুল বলেন, লন্ডনে আমাদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে যে ঐতিহাসিক বৈঠক হলো, সেই বৈঠক সম্পর্কে তারা বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করে বলেছেন যে সেখানে নাকি কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত হয়েছে। যার ফলে আজকে বিএনপি এই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বসে আছে।
এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। এই ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। লন্ডন বৈঠক হয়েছিল বলেই আজকে আমরা সবাই এখানে আসতে পেরেছি। কারণ ওই বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা সেই বৈঠকেই দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিতে রাজি হয়েছিলেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা এবং এটি আমাদের সবাইকে স্বীকার করে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের সংস্কার বিরোধী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। পোস্টার নিয়ে এসেছেন এবং সংসদে বলেছেন যে আমরা সংস্কার চাই না। অথচ সংস্কারের জনক তো আমরাই।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























