ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে: রুহুল কবির রিজভী ‘আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু’ শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে নার্সিং ইন্সষ্টিটিউটে খাদ্য মেলা অনুষ্ঠিত

মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে: রুহুল কবির রিজভী

কোনো অপরাধী চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা না দেখে মানব পাচারকারীদের দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, মানব পাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন প্রণয়ন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে আইনের শাসন থাকলে অপরাধী চক্র গড়ে উঠত না। এই অপরাধী চক্র সমাজেরই অংশ এবং সমাজের মানুষেরাই এসব চক্র গড়ে তুলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে এসব চক্র দমন করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, আইনের শাসন না থাকার কারণে তৃণমূলে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়ন হয়। অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারেন না। এ কারণে তারা নিগৃহীত হন।

রিজভী বলেন, অনেক কিছু না বুঝে মানুষ ফড়িয়া ও প্রতারক চক্রের কাছে সামান্য জমি-জায়গা বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তারা মানব পাচারের শিকার হয়। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর পথেই অথবা গন্তব্যে পৌঁছে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের আর কোনো সহায়-সম্বল থাকে না।

তিনি বলেন, মানব পাচারের রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। এর অন্যতম মূল কারণ রাষ্ট্রহীনতা। আরেকটি কারণ সীমিত সুযোগ। এর সঙ্গে বাস্তুচ্যুতিও মানব পাচারের অন্যতম কারণ।

রিজভী বলেন, বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে সন্তান হওয়ার পর অনেকেই স্কুলে যেতে পারে না। নিজের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার বোধ তৈরি হয় না। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে না পারায় এসব মানুষই মানব পাচারের বেশি শিকার হয়।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের বা উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। মানবপাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা দেখার দরকার নেই। তাকে দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে: রুহুল কবির রিজভী

আপডেট সময় ০৫:০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কোনো অপরাধী চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা না দেখে মানব পাচারকারীদের দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, মানব পাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন প্রণয়ন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে আইনের শাসন থাকলে অপরাধী চক্র গড়ে উঠত না। এই অপরাধী চক্র সমাজেরই অংশ এবং সমাজের মানুষেরাই এসব চক্র গড়ে তুলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে এসব চক্র দমন করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, আইনের শাসন না থাকার কারণে তৃণমূলে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়ন হয়। অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারেন না। এ কারণে তারা নিগৃহীত হন।

রিজভী বলেন, অনেক কিছু না বুঝে মানুষ ফড়িয়া ও প্রতারক চক্রের কাছে সামান্য জমি-জায়গা বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তারা মানব পাচারের শিকার হয়। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর পথেই অথবা গন্তব্যে পৌঁছে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের আর কোনো সহায়-সম্বল থাকে না।

তিনি বলেন, মানব পাচারের রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। এর অন্যতম মূল কারণ রাষ্ট্রহীনতা। আরেকটি কারণ সীমিত সুযোগ। এর সঙ্গে বাস্তুচ্যুতিও মানব পাচারের অন্যতম কারণ।

রিজভী বলেন, বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে সন্তান হওয়ার পর অনেকেই স্কুলে যেতে পারে না। নিজের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার বোধ তৈরি হয় না। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে না পারায় এসব মানুষই মানব পাচারের বেশি শিকার হয়।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের বা উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। মানবপাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা দেখার দরকার নেই। তাকে দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।