সংবাদ শিরোনাম ::
মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পুনরায় ‘মার্কা’ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ পরিস্থিতি বেগতিক-পালানোর প্রস্তুতিতে অতিথি ডটকমের মূল হোতা সাইফুল ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া বাবর, ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ রং-বার্নিশের নামে অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ গণপূর্তে বিদায়ী সংবর্ধনার নামে ৫০ লাখ টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ল্যাগেজ সিন্ডিকেটে বেপরোয়া এআরও আরেফিন ও জুনাব, বেনাপোলে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ স্ট্যান্ড রিলিজের পরও ছাড়েননি দায়িত্ব, ২০ দিনে তুলেছেন ২০ লাখ টাকা ডিএসসিসির প্রকৌশলী আনিছুরকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ গলদে ভরা প্রকল্পের কেন্দ্রে প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. আবু জাকির সেকান্দার

রং-বার্নিশের নামে অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নওগাঁর বদলগাছী প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের টাকায় নামমাত্র রং-বার্নিশ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানীর বিরুদ্ধে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করে তিনি তার অফিসে রং-বার্নিশ এবং অল্প কিছু সংস্কার করেছেন। যার খরচ প্রাপ্ত বরাদ্দের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সীমানা প্রাচীর বা কোনো দেয়াল নির্মাণ না করে শুধু অফিস ভবনে রং এবং অল্প কিছু সংস্কার করেই পুরো টাকা খরচ দেখান। কিন্তু পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর টাকা অবশিষ্ট থাকলে অন্যান্য সংস্কার কাজ সম্পাদন করতে হবে। এবং সকল কাজ সম্পাদন শেষে টাকা অবশিষ্ট থাকলে তা ৩০ শে জুনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পেছনের অংশটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও অনিরাপদ। সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই; পেছনের পুরো অংশই খোলা রয়েছে। ফলে ভবন ও এর মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সংস্কারকাজেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি। ভবনে মূলত রংয়ের কাজ করা হয়েছে, যা সরেজমিনে নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ব্যবহৃত রঙের পরিমাণ ছিল ১৮ লিটারের ১০টি ড্রাম, ৪ লিটারের ২০টি গ্যালন এবং ১ লিটারের কয়েকটি কৌটা। বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ দাম ধরে এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেয়ে অফিস ভবনে রং করা এবং কিছু সংস্কার করা বেশি জরুরী। সেজন্য আমি জেলা স্যারের সাথে পরামর্শ করে রং ও সংস্কার করেছি। এটাই আমার কাছে অগ্রাধিকার মনে হয়েছে। তাছাড়া যে পরিমাণ টাকা দিয়েছে সেটা দিয়ে পুরোপুরি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদার এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু যখন তাকে বলা হয় নীতিমালা আমার কাছেও আছে তখন তিনি উল্টো সুরে কথা বলেন এবং জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পুনরায় ‘মার্কা’ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

রং-বার্নিশের নামে অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৩:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছী প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের টাকায় নামমাত্র রং-বার্নিশ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানীর বিরুদ্ধে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করে তিনি তার অফিসে রং-বার্নিশ এবং অল্প কিছু সংস্কার করেছেন। যার খরচ প্রাপ্ত বরাদ্দের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সীমানা প্রাচীর বা কোনো দেয়াল নির্মাণ না করে শুধু অফিস ভবনে রং এবং অল্প কিছু সংস্কার করেই পুরো টাকা খরচ দেখান। কিন্তু পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর টাকা অবশিষ্ট থাকলে অন্যান্য সংস্কার কাজ সম্পাদন করতে হবে। এবং সকল কাজ সম্পাদন শেষে টাকা অবশিষ্ট থাকলে তা ৩০ শে জুনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পেছনের অংশটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও অনিরাপদ। সেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই; পেছনের পুরো অংশই খোলা রয়েছে। ফলে ভবন ও এর মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সংস্কারকাজেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি। ভবনে মূলত রংয়ের কাজ করা হয়েছে, যা সরেজমিনে নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ব্যবহৃত রঙের পরিমাণ ছিল ১৮ লিটারের ১০টি ড্রাম, ৪ লিটারের ২০টি গ্যালন এবং ১ লিটারের কয়েকটি কৌটা। বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ দাম ধরে এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেয়ে অফিস ভবনে রং করা এবং কিছু সংস্কার করা বেশি জরুরী। সেজন্য আমি জেলা স্যারের সাথে পরামর্শ করে রং ও সংস্কার করেছি। এটাই আমার কাছে অগ্রাধিকার মনে হয়েছে। তাছাড়া যে পরিমাণ টাকা দিয়েছে সেটা দিয়ে পুরোপুরি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদার এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু যখন তাকে বলা হয় নীতিমালা আমার কাছেও আছে তখন তিনি উল্টো সুরে কথা বলেন এবং জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।