বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব হজের খরচ কমানো হয়েছে। এখন দেশের পক্ষ থেকে ব্যয় কমানোর সুযোগ খুবই সীমিত। তবে সৌদি আরব আরোপিত বিভিন্ন চার্জ কমানো গেলে হজযাত্রীদের ব্যয় আরও কমানো সম্ভব।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব চার্জ কমানো গেলে একজন হজযাত্রীর ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে ইতোমধ্যে হজের ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব হজযাত্রীপ্রতি ১০ টাকা বিমানবন্দর চার্জসহ বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় করে। সৌদি আরবের এসব চার্জ কমানো গেলে একজন হজযাত্রীর মোট ব্যয় আরও ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
পাশাপাশি বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের ধর্ম ও বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজযাত্রীদের আবাসনের ক্ষেত্রে ‘ডি’ ক্যাটাগরির পরিবর্তে ‘সি’ ক্যাটাগরির সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এতে হাজিরা তুলনামূলক উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ‘ডি’ ক্যাটাগরির ভাড়ায় ‘সি’ ক্যাটাগরির সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। অনেক মানুষ জমিজমা বিক্রি করে বা দীর্ঘদিন সঞ্চয় করে হজে যান। তাই তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সামর্থ্যহীন মানুষের হজ পালনে সহায়তার জন্য প্রয়োজনে সরকারি ভর্তুকির বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এ নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক আচরণ ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হজযাত্রী এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা হলে দায়ী এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হজে যারা যাবেন তাদের মানবিক হতে হবে। একইসঙ্গে, যারা হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন, তাদেরও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে।
লাগেজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কিছু করণীয় ছিল। এখন লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব সৌদি আরবের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ওই কোম্পানি আবার ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দালাল নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের হয়রানি করে। অনেককে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হোটেলে রাখা হয় না, প্রয়োজনীয় সেবাও দেওয়া হয় না। কোনো বৈধ এজেন্সি যদি হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬ উদ্বোধনের কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত না থাকায় বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত মেলার উদ্বোধন করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















