ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উত্তরের বিভাগে টানা বৃষ্টির দাপট বেশি, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা মোদির কাছে ক্ষমা চাইলেন আপত্তিকর মন্তব্য করা সেই তরুণী বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম কেন্দ্রীয় পর্ষদের নেতৃত্বে রুহুল আমিন -সাইশা সুলতানা সাদিয়া  রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তার আহ্বান মার্কিন বিশেষ দূতের বেগুনের কেজি ১৫০ আর ৪০০ ছুঁই ছুঁই কাঁচা মরিচ এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ ৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন ও গ্রাম্য চিকিৎসক ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৩১ জুলাই বিকেলে পাকারমাথা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের করেছে পুলিশ। পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফারুককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিজ বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। তাঁর বড় ভাই আবু বক্কর একই ওয়ার্ডের জামায়াতের সেক্রেটারি। বাবা মজিবুর রহমান স্থানীয়ভাবে ক্বারী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২২ দিন আগে শিশুটি প্রতিদিনের মতো পড়তে গেলে একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে তাকে একা পেয়ে শরীরে অনৈতিক স্পর্শ করেন ওমর ফারুক। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায়।
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, বিষয়টি অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমানকে জানানো হলেও তিনি ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমর ফারুক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ওমর ফারুকের দাবি, শিশুটি মূলত তাঁর স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। ঘটনার দিন স্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করেননি। তাঁর বাবা মজিবুর রহমানও অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন বলেন, ওমর ফারুক তাঁদের সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

উত্তরের বিভাগে টানা বৃষ্টির দাপট বেশি, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

৯ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি

আপডেট সময় ১১:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন ও গ্রাম্য চিকিৎসক ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৩১ জুলাই বিকেলে পাকারমাথা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের করেছে পুলিশ। পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফারুককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিজ বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। তাঁর বড় ভাই আবু বক্কর একই ওয়ার্ডের জামায়াতের সেক্রেটারি। বাবা মজিবুর রহমান স্থানীয়ভাবে ক্বারী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২২ দিন আগে শিশুটি প্রতিদিনের মতো পড়তে গেলে একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে তাকে একা পেয়ে শরীরে অনৈতিক স্পর্শ করেন ওমর ফারুক। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায়।
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, বিষয়টি অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমানকে জানানো হলেও তিনি ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমর ফারুক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ওমর ফারুকের দাবি, শিশুটি মূলত তাঁর স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। ঘটনার দিন স্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করেননি। তাঁর বাবা মজিবুর রহমানও অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন বলেন, ওমর ফারুক তাঁদের সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।