ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ময়মনসিংহে স্কুলের তালা ভেঙে কম্পিউটারসহ ৩ লাখ টাকার মালামাল চুরি বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে : জাহিদ হোসেন জ্যোতির রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশের সিরিজ হার খিলগাঁও পশ্চিম নন্দীপাড়া ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবি ডিলারকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়—মেসার্স আলীনগর ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগ রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধ_র্ষ_ণে অভিযোগ ফুলবাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা ও চোরাচালান  প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সফট বাইটের ম্যানেজার ফয়সালের রহস্যজনক মৃত্যু মরদেহ উদ্ধার; রুমমেট পলাতক, অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ.. মানিকগঞ্জে দালাল চক্রের ১২ সদস্য আটক, ৩ দিনের কারাদণ্ড রংপুরে এসএসসির ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রেতা শিক্ষার্থী ডিবির হাতে আটক আমেরিকায় কেমন চলছে দম?

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২ বার পড়া হয়েছে

ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ইবাদত কোরবানি। কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং কোরবানির সঙ্গে মিশে আছে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার, আয়াত : ২)

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেন, আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)

এ থেকে বোঝা যায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো ইখলাস ও আল্লাহভীতি অর্জন।

হাদিস শরীফেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২৩)

অন্য হাদিসে এসেছে , আদম সন্তানের জন্য কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো কোরবানি করা। (তিরমিজি)

কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু?

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেই প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক মুকিম মুসলিম নারী ও পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
নেসাব হল,  স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

স্বর্ণ বা রুপার কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন-অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায়, তাহলে কোরবানী ওয়াজিব হবে।

স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এমন জমি এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র—সবই কোবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব আল মুহিতুল বুরহানিতেও এই মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।

সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া (হাওল) শর্ত নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে স্কুলের তালা ভেঙে কম্পিউটারসহ ৩ লাখ টাকার মালামাল চুরি

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

আপডেট সময় ০৪:২৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ইবাদত কোরবানি। কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং কোরবানির সঙ্গে মিশে আছে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার, আয়াত : ২)

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেন, আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)

এ থেকে বোঝা যায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো ইখলাস ও আল্লাহভীতি অর্জন।

হাদিস শরীফেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২৩)

অন্য হাদিসে এসেছে , আদম সন্তানের জন্য কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো কোরবানি করা। (তিরমিজি)

কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু?

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেই প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক মুকিম মুসলিম নারী ও পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
নেসাব হল,  স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

স্বর্ণ বা রুপার কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন-অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায়, তাহলে কোরবানী ওয়াজিব হবে।

স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এমন জমি এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র—সবই কোবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব আল মুহিতুল বুরহানিতেও এই মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।

সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া (হাওল) শর্ত নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।