দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
ব্যবসায়ীদের অনুরোধে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা হ্যান্ডসেটের তথ্য বিটিআরসিতে জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বুধবার সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই আজ থেকে এনইআইআর কার্যক্রম আলোর মুখ দেখল।
সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ করা হবে না—তা অনুমোদিত হোক বা অননুমোদিত। এছাড়া ব্যবসায়ীরা যেসব অবিক্রীত ফোনের আইএমইআই (IMEI) তালিকা জমা দিয়েছেন, সেগুলোও সচল থাকবে। মূলত নতুন করে আর যেন কোনো অবৈধ ফোন নেটওয়ার্কে ঢুকতে না পারে, সেটাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।
প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ফেরার সময় নিজেদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট শুল্কমুক্ত সুবিধায় দেশে আনতে পারবেন। দেশে আসার পর এনইআইআর-এ নিবন্ধনের জন্য তাদের তিন মাস সময় দেওয়া হবে। এই তিন মাস হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। পাসপোর্ট ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবহার করে সহজেই এই নিবন্ধন করা যাবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেই এনইআইআর পুরোপুরি কার্যকর হবে।
এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর অবৈধ ফোন বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের পর কার্যক্রমটি তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, কমিশনকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তাই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ এগোচ্ছে।
বিটিআরসি দাবি করেছে, এনইআইআর মূলত অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ফোন চুরি ঠেকানোর জন্য চালু করা হয়েছে। এটি কল রেকর্ড বা মেসেজ পড়ার মতো কাজ করে না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে ডিভাইস ও সিম স্থায়ীভাবে সংযুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হলে এটি নজরদারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















