ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদে ফেনীতে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর মহা দুর্নীতিবাজ, টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরীর ঢাকায় পোষ্টিং শিক্ষা প্রকৌশলী আলেক হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পিলার ও কয়েন চক্রের মূলহোতা ফরিদপুরের আওয়ামী নেতা আব্দুস সোবহান মিথ্যা বলাৎকারের মামলায় পাঁচ মাস ধরে কারাবন্দি শ্রমজীবী মোতালেব হোসেন দুর্নীতির অভিযোগ ঝুলে থাকতেই এলজিইডির শীর্ষ পদে বেলাল হোসেন শহীদুল্লাহ সিন্ডিকেটের ৩৮৭ কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য আমিনবাজার ভূমি অফিসে ঘুষের আখড়া নাজির-ক্যাশিয়ার সাজেদুল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ভবভদী আদর্শ যুব সংঘ’-এর উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

কার্যকর হলো কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৫ বার পড়া হয়েছে

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও যুগোপযোগী ও কঠোর করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন এই অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দেশে ই-সিগারেটসহ সব ধরনের ভ্যাপিং পণ্য নিষিদ্ধ এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জরিমানা এক লাফে ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

বিদ্যমান ২০০৫ সালের আইনটিকে শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই সংশোধনে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) এবং নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিধান অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। শিশুদের তামাকের ধোঁয়া ও প্রভাবমুক্ত রাখতেই এই কঠোর নির্দেশনা।

পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি এখন থেকে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারও নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

তামাক কোম্পানির যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন—তা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মেই হোক না কেন, সব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন এবং সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের নামে তামাক কোম্পানির লোগো বা নাম ব্যবহারও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো তামাকপণ্য বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তামাকের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সুগন্ধি বা আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

নতুন এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবাদে ফেনীতে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ

কার্যকর হলো কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ

আপডেট সময় ০১:১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও যুগোপযোগী ও কঠোর করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন এই অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দেশে ই-সিগারেটসহ সব ধরনের ভ্যাপিং পণ্য নিষিদ্ধ এবং পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জরিমানা এক লাফে ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

বিদ্যমান ২০০৫ সালের আইনটিকে শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই সংশোধনে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) এবং নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিধান অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। শিশুদের তামাকের ধোঁয়া ও প্রভাবমুক্ত রাখতেই এই কঠোর নির্দেশনা।

পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি এখন থেকে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারও নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

তামাক কোম্পানির যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপন—তা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মেই হোক না কেন, সব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন এবং সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের নামে তামাক কোম্পানির লোগো বা নাম ব্যবহারও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো তামাকপণ্য বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তামাকের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সুগন্ধি বা আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

নতুন এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।