ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে ক্ষমতা হারাতে পারেন নেতানিয়াহু বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও যাত্রীরা ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত উখিয়ায় এসআই কিবরিয়াসহ ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়াবা ও পিস্তল গায়েবের অভিযোগ নেতানিয়াহুর বদলে ‘কম ক্ষতিকর’ প্রধানমন্ত্রী চান গাজাবাসী বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৬৬৯ শূন্যপদে নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীন সেট-আপভুক্ত গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত ৮টি ক্যাটাগরির মোট ৬৬৯টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা ও ভাইভাসহ সার্বিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীরা।

গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেক্টরে ভাউচারভিত্তিকভাবে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি উপেক্ষা করে নতুন করে স্থায়ী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করায় ওই নিয়োগ বাতিল চেয়ে তারা মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রিটের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইসাহাক মিয়া একটি রেফারেন্স অব সুপ্রিম কোর্ট চিঠি প্রেরণ করেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগসমূহকে।

সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এস্টাবলিশমেন্ট), গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকা কর্তৃক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০.২১১.১১.৪০২.২০২৫-৪৮০ এর মাধ্যমে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে এই রিট দায়ের করা হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার টাইপিস্ট, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী, কার্য সহকারী, নকশাকার, মালী, পিয়ন ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ৮টি পদে নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

রিটের শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল-জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম–এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি রুল জারি করেন।

রিটকারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীরা গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-২০ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, আদালত এর আগেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বিবেচনায় নিয়ে আদালত বর্তমান রুল জারি করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত প্রায় ২০ বছর ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় রিটকৃত পদগুলোর বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন ভাউচারভিত্তিক কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার দাবিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দায়ের করা ৭টি মামলায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিভাগ তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেছেন। এর মধ্যে একটি মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ ডিভিশনে বিচারাধীন রয়েছে। ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের প্রশ্ন, আমাদের মামলা নিষ্পত্তি না করেই কীভাবে অধিদপ্তর নতুন করে স্থায়ী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে পারে—তা আমাদের বোধগম্য নয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৬৬৯ শূন্যপদে নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

আপডেট সময় ০২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীন সেট-আপভুক্ত গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত ৮টি ক্যাটাগরির মোট ৬৬৯টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা ও ভাইভাসহ সার্বিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীরা।

গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেক্টরে ভাউচারভিত্তিকভাবে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি উপেক্ষা করে নতুন করে স্থায়ী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করায় ওই নিয়োগ বাতিল চেয়ে তারা মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রিটের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইসাহাক মিয়া একটি রেফারেন্স অব সুপ্রিম কোর্ট চিঠি প্রেরণ করেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগসমূহকে।

সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এস্টাবলিশমেন্ট), গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকা কর্তৃক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০.২১১.১১.৪০২.২০২৫-৪৮০ এর মাধ্যমে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে এই রিট দায়ের করা হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার টাইপিস্ট, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী, কার্য সহকারী, নকশাকার, মালী, পিয়ন ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ৮টি পদে নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

রিটের শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল-জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম–এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি রুল জারি করেন।

রিটকারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীরা গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-২০ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, আদালত এর আগেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বিবেচনায় নিয়ে আদালত বর্তমান রুল জারি করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত প্রায় ২০ বছর ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় রিটকৃত পদগুলোর বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন ভাউচারভিত্তিক কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার দাবিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দায়ের করা ৭টি মামলায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিভাগ তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেছেন। এর মধ্যে একটি মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ ডিভিশনে বিচারাধীন রয়েছে। ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের প্রশ্ন, আমাদের মামলা নিষ্পত্তি না করেই কীভাবে অধিদপ্তর নতুন করে স্থায়ী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে পারে—তা আমাদের বোধগম্য নয়।