সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অবাধে চলছে ফসলি জমির উর্বর মাটি বা ‘টপ সয়েল’ কেটে নেওয়ার প্রতিযোগিতা। ইটভাটা ও বিভিন্ন ভরাট কাজের জন্য একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভেকু মেশিন দিয়ে নির্বিচারে কেটে নিচ্ছে কৃষি জমির উপরিভাগ। এতে একদিকে যেমন জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্য দিবালোকেই ফসলি মাঠ, খাল ও বিলের পাড় থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে। জমির উপরিভাগের এই মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায় কিংবা বসতভিটা ভরাটের কাজে।
কৃষকদের অভিযোগ, মাটির ওপরের অংশ কেটে নেওয়ায় জমিতে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে বর্ষায় পানি জমে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘জমির ওপরের অংশই হলো ফসলের প্রাণ। এই মাটি কেটে নেওয়ায় এখন সার দিলেও আগের মতো ফলন হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে এসব জমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে।’’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমির টপ সয়েল বা ওপরের ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি মাটিতেই ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান থাকে। এটি একবার নষ্ট হলে পুনরায় উর্বরতা ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি ধ্বংস হচ্ছে এবং ফসলের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কৃষি বাঁচাতে এখনই এটি বন্ধ করা জরুরি।’’
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে ভূমিক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, ‘‘কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’’
দোয়ারাবাজার, (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 






















