ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর যুবদলের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে নয়, রাজপথে বিশ্বাসী: নয়ন ডাম্পিং থেকে সোজা বিমান সচিব পদে সড়ক সচিব জিয়াউল হকের স্ত্রী! বিদ্যালয়ের টয়লেটে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র লুটপাট করে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উদ্‌যাপন চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা তোতার বিরুদ্ধে মিঠাপুকুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪ ক্রসফায়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, নতুন আইজিপি নিয়োগে আলোচনায় ৩ কর্মকর্তা

দোয়ারাবাজারে ফসলি জমির ‘প্রাণ’ টপ সয়েল লুটের মহোৎসব

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অবাধে চলছে ফসলি জমির উর্বর মাটি বা ‘টপ সয়েল’ কেটে নেওয়ার প্রতিযোগিতা। ইটভাটা ও বিভিন্ন ভরাট কাজের জন্য একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভেকু মেশিন দিয়ে নির্বিচারে কেটে নিচ্ছে কৃষি জমির উপরিভাগ। এতে একদিকে যেমন জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্য দিবালোকেই ফসলি মাঠ, খাল ও বিলের পাড় থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে। জমির উপরিভাগের এই মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায় কিংবা বসতভিটা ভরাটের কাজে।

কৃষকদের অভিযোগ, মাটির ওপরের অংশ কেটে নেওয়ায় জমিতে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে বর্ষায় পানি জমে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘জমির ওপরের অংশই হলো ফসলের প্রাণ। এই মাটি কেটে নেওয়ায় এখন সার দিলেও আগের মতো ফলন হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে এসব জমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে।’’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমির টপ সয়েল বা ওপরের ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি মাটিতেই ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান থাকে। এটি একবার নষ্ট হলে পুনরায় উর্বরতা ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি ধ্বংস হচ্ছে এবং ফসলের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কৃষি বাঁচাতে এখনই এটি বন্ধ করা জরুরি।’’

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে ভূমিক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, ‘‘কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’’


আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর

দোয়ারাবাজারে ফসলি জমির ‘প্রাণ’ টপ সয়েল লুটের মহোৎসব

আপডেট সময় ০৩:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অবাধে চলছে ফসলি জমির উর্বর মাটি বা ‘টপ সয়েল’ কেটে নেওয়ার প্রতিযোগিতা। ইটভাটা ও বিভিন্ন ভরাট কাজের জন্য একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভেকু মেশিন দিয়ে নির্বিচারে কেটে নিচ্ছে কৃষি জমির উপরিভাগ। এতে একদিকে যেমন জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্য দিবালোকেই ফসলি মাঠ, খাল ও বিলের পাড় থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে। জমির উপরিভাগের এই মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায় কিংবা বসতভিটা ভরাটের কাজে।

কৃষকদের অভিযোগ, মাটির ওপরের অংশ কেটে নেওয়ায় জমিতে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে বর্ষায় পানি জমে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘জমির ওপরের অংশই হলো ফসলের প্রাণ। এই মাটি কেটে নেওয়ায় এখন সার দিলেও আগের মতো ফলন হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে এসব জমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে।’’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমির টপ সয়েল বা ওপরের ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি মাটিতেই ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান থাকে। এটি একবার নষ্ট হলে পুনরায় উর্বরতা ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি ধ্বংস হচ্ছে এবং ফসলের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কৃষি বাঁচাতে এখনই এটি বন্ধ করা জরুরি।’’

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে ভূমিক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, ‘‘কৃষি জমির মাটি কাটার বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’’