শেষটা আর রূপকথার মতো হলো না। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ উপহার দিয়ে বিদায় নেওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল লিওনেল মেসির।
চার বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে কেঁদেছিলেন তিনি। এবার ফাইনালে হারের পরও দীর্ঘ সময় নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। চোখের জলই বলে দিল তার মনের সব কথা।
ফাইনালে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি মেসি। গোটা ম্যাচে তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। শেষ মুহূর্তে একটি শট এবং কয়েকটি কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করা ছাড়া স্মরণীয় কিছুই করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর আনন্দাশ্রু ঝরেছিল মেসির চোখে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই আবেগ তিনি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ তিনি আগেই পেয়েছেন। তাই ম্যাচ শেষে শুরুতে তাকে অনেকটাই শান্ত ও নির্লিপ্ত মনে হচ্ছিল।
কিন্তু সেই দৃঢ়তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই কিছুক্ষণ মাঠের মাঝখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মেসি। দুই হাত কোমরে রেখে চারপাশে তাকিয়ে দেখছিলেন গ্যালারি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত অসংখ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকের দিকে যেন শেষবারের মতো তাকিয়ে ছিলেন তিনি। কয়েকজন সতীর্থ এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে মাঠেই বসে পড়েন লিও।
এ সময় এগিয়ে আসেন লামিন ইয়ামাল। ফাইনালের আগে যাদের লড়াই নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, সেই ইয়ামালই ম্যাচ শেষে মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমর্থকদের অভিনন্দন ও ভালোবাসার জবাব দেন। পরে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চের দিকেও এগিয়ে যান।
মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যত দ্রুত সম্ভব মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু ঠিক তখনই গ্যালারিজুড়ে ধ্বনিত হয়—‘মেসি, মেসি’। হাজারো সমর্থক করতালি আর স্লোগানে বিদায় জানাতে থাকেন তাদের প্রিয় ফুটবলারকে। সেই ভালোবাসার জবাব দিতে গিয়েই আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
এটাই যে মেসির শেষ বিশ্বকাপ, তা অনেকটাই স্পষ্ট। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাকে আর দেখা যাবে কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। হয়তো এই বিশ্বকাপ খেলতেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরো কিছুদিন দীর্ঘায়িত করেছিলেন। শেষবারের মতো দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
শেষ পর্যন্ত চোখের জল সঙ্গী করেই টানেলের পথে হাঁটলেন লিওনেল মেসি। যদি এটাই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হয়, তবে সেটি শেষ হলো এক অসমাপ্ত স্বপ্ন আর কোটি ভক্তের হৃদয়ভাঙার গল্প হয়ে।
ক্রীড়া ডেস্ক 
























