এলজিইডির পিডি আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকরির আড়ালে কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পতিত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের দোসর ও বরিশালের আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ডানহাত হিসেবে পরিচিত সাবেক বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে বরিশালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থেকে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে কাজ না করেই বিল-ভাউচার তৈরি করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন আতিকুল—এমন অভিযোগও রয়েছে। তাঁর আশীর্বাদ হিসেবে ছিলেন বরিশালের হেভিওয়েট নেতা ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার নিকটতম আত্মীয় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। যে কারণে সুচতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুলকে বেশি বেগ পেতে হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিলেন সুবিশাল সিন্ডিকেট বাহিনী। সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব অনিয়ম চালিয়ে গেলেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এলজিইডিতে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নখ্যাত আতিকুল ইসলাম।
একাধিক সূত্রে আরও জানা যায়, বিগত সময়ে এলজিইডির বরিশালের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সদর দপ্তরে প্রেষণে প্রকল্প পরিচালক (Project Director) হিসেবে কর্মরত আছেন। আওয়ামী লীগের দাপুটে ও দুর্নীতিপরায়ণ লীগের দোসর আতিকুল ইসলামকে প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে মহা ঘুষখোর ও দুর্নীতিপরায়ণ আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত আতিকুল বর্তমানে এলজিইডি সদর দপ্তরের RIVER (Resilient Infrastructure for Adaptation and Vulnerability Reduction) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (PD) পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির সদর দপ্তরের ওয়ার্কশপ ভবনের লেভেল-৩-এ তাঁর কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের আনাগোনা দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এককথায়, আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনর্বাসন করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরিশালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বতন কর্মস্থল বরিশালে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন।
অদৃশ্য শক্তির কারণে পরবর্তীতে তাঁকে ঢাকার সদর দপ্তরে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও নানা গুঞ্জন চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিগত সময়ে বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালী হাসনাত আব্দুল্লাহ, সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁদের দাবি, এই রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর দুর্নীতি-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগের প্রভাবের কারণে সেসব অভিযোগ আজও আলোর মুখ দেখেনি বলে দাবি তাঁদের।
এছাড়া অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগও উঠেছে আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আতিকুল ইসলাম তাঁর বন্ধু ও নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার স্ত্রীর সঙ্গে ‘পরকীয়া’ সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন সুন্দরী নারীদের নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে যাতায়াত করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুলকাম বাদশার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন। এ সুযোগে আতিকুল ইসলামও বিভিন্ন সময়ে থাইল্যান্ডে যাতায়াত করেছেন এবং সেখানে ফুলকাম বাদশার পরিবারের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
জানা গেছে, আতিকুল ইসলাম বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত থাইল্যান্ডে যাতায়াত করতেন। ওই সময় ফুলকাম বাদশার পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে একাধিক কর্মকর্তা জানান। অভিযোগ রয়েছে, আতিকুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের দোসর প্রকল্প পরিচালক আতিকুল ইসলাম ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদক তাঁর সম্পদের খোঁজখবর নিলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন এলজিইডির সাধারণ কর্মকর্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























