জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। একইভাবে জ্বালানি খাতেও সরকার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে এনসিপির আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে এনসিপি। এ কর্মসূচি সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ শুরু করেছে এনসিপি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। এই গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ছাড়া জনগণের অধিকার আদায় হবে না। তিনি বলেন, সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে নিতে হবে। সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পারেননি। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত, সংবিধান কাটাছেঁড়া করছেন, যাতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী কায়দায় জনগণের অধিকার স্থায়ীভাবে হরণ করা যায়। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। জ্বালানিমন্ত্রীর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, তিনি এখন কথাও বলেন না। জ্বালানি খাতে সাত মাস ধরে সরকার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে জ্বালানিমন্ত্রীরও দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বলতে গেলে মন্ত্রিপরিষদের একজনের পর একজনের নাম বলতে হবে। তবে আপাতত আমরা এই দুজনকে সরিয়ে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি। যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছেন, তাদের সরানো হচ্ছে না বা জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না। আমরা তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চাই। নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর আমরা একটি গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করব। চারটি বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এগুলো হলো আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নির্লজ্জ দলীয়করণ। এসবের প্রতিবাদেই আমাদের গণবিক্ষোভ কর্মসূচি। ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সরকারপ্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে তারা কাজ করেছে। তারা বিভিন্ন নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সেই মামলা দিয়ে মামলাবাণিজ্য করেছে, মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করেছে এবং ভোটব্যাংক সংগ্রহ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এখনো তারা আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে। গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে কী হবে, সরকার এখনো তা বলতে পারছে না। সরকারকে বলব, আপনারা নিজেদের দিকে তাকান, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখেছি, সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু বন্দোবস্তের পরিবর্তন হয়নি। আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, সরকার বা ব্যক্তি পরিবর্তন হলেই হবে না, বন্দোবস্তের পরিবর্তন হতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে সংখ্যালঘু ও দলিত মুসলমানদের ক্রমাগত নিপীড়ন-নির্যাতন করা হচ্ছে। আসাম, পশ্চিমবঙ্গসহ দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, মুসলমানদের ঘরবাড়ি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই দুই দেশের চিত্র দেখলেই বোঝা যায়, কোন দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এবং কোন দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগসহ দিল্লির হিন্দুত্ববাদী গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করে। এবারও দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া তার একটি বড় উদাহরণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























