কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক (ডিডি) মো. জামাল হোসেন। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির ও নব্য বিএনপি সাজার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে নব্য বিএনপির সমর্থক পরিচয়ে তদবিরসহ বদলি-বাণিজ্যের মাধ্যমে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামাল হোসেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ড. সেলিম মাহমুদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং বর্তমানে নব্য বিএনপির সমর্থক পরিচয়ের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জামাল হোসেন সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকাকালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ড. সেলিম মাহমুদের নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং সভায় নেতৃত্ব দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ডিডি জামাল হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালেও জামাল হোসেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামাল হোসেনের পরিচয় ও যোগাযোগের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন তদবিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















