গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ওই সাংবাদিক রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই ঘটনায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত সাংবাদিক মো. বেলায়েত হোসেন রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের তথ্য অনুসন্ধান করছিলেন।
এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে মো. আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগে জাকির হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে গড়ে ওঠা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। ওই অভিযোগপত্রে ঢাকার উত্তরার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট, গাজীপুরে বহুতল বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং একাধিক লাভজনক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা সম্পদের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, চাকরিজীবনের শুরুতে জাকির হোসেনের বৈধ আয় সীমিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে স্বল্প সময়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়েও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একটি স্মারক জমা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর পূর্বের কর্মজীবন, সম্পদের হিসাব এবং বাড়ির কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। তবে দুদক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
জিডির বিবরণ অনুযায়ী, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার নিজ বাসভবনে যান সাংবাদিক মোয় বেলায়েত হোসেন। নিয়ম অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ শেষে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আকস্মিক এই হুমকির মুখে পড়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হন তিনি।
সাংবাদিকের হাতে থাকা নথিপত্রের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিবের কাছে দেওয়া মূল অভিযোগপত্রের অনুলিপি, মিরপুর থানায় করা সাধারণ ডায়েরির কপি এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক ভবনের ছবি ও কাগজপত্র রয়েছে। এই তথ্য-উপাত্তগুলোই তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল উপকরণ।
দায়িত্বশীল মহলের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি বা অনিয়মের তথ্য উন্মোচন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের এভাবে হেনস্তা করা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা সম্পদের অসংগতির অভিযোগ এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















