সচিবসহ ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ; প্রশিক্ষণ না দিয়েই সম্মানী উত্তোলন, ভুয়া ব্যাংক হিসাব ও জাল বিল-ভাউচারের দাবি উঠেছে। তদন্তের প্রতিবেদন ও নথির গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন—সরকারি অর্থের হিসাব কোথায়?
সরকারি অর্থ ব্যয়ের কথা ছিল বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে। কিন্তু ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ব্যয় ঘিরে উঠেছে প্রশিক্ষণ না দিয়েই সম্মানী উত্তোলন, ভুয়া পরিচয়পত্রে ব্যাংক হিসাব খোলা, জাল বিল-ভাউচারে অর্থ উত্তোলন এবং মাঠকর্মীদের ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও গুরুতর দাবি—দুর্নীতির অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিবেদন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তর থেকে গায়েব হয়ে গেছে।
অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলার ১০টি উপজেলায় কর্মসূচিটির বরাদ্দ ছিল ২৯২ কোটি ১১ লাখ ৫১২ টাকা। এর মধ্যে গৌরীপুর, হালুয়াঘাট, ফুলবাড়ীয়া ও ত্রিশাল—এই চার উপজেলায় প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যয়, অনিয়মিত লেনদেন এবং প্রমাণিত আত্মসাতের অঙ্ক এক নয়। প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণে প্রয়োজন মূল হিসাব, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, ব্যাংক লেনদেন ও তদন্তের ফলাফল।
অভিযোগের সূত্র ধরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মহিউদ্দিন, বর্তমান সচিব মাহাবুব উল আলম, যুগ্ম সচিব লুলু বিলকিছ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মফিজুল ইসলাম, সাবেক উপসচিব রবিউল ইসলাম এবং উপসচিব ডা. জহিরুল ইসলামসহ ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে। তবে অভিযোগে নাম থাকা অপরাধ প্রমাণের সমান নয়; প্রত্যেকের ভূমিকা ও দায় পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
চার উপজেলায় ব্যয়ের হিসাব কতটা স্বচ্ছ: অভিযোগকারীর দেওয়া বিবরণে গৌরীপুরে ৪৭ কোটি, হালুয়াঘাটে ৩৭ কোটি, ফুলবাড়ীয়ায় ৪৪ কোটি এবং ত্রিশালে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এই চারটি অঙ্কের যোগফল ১৭১ কোটি টাকা—প্রায় ১৮০ কোটি নয়। ফলে উপজেলা-ভিত্তিক হিসাব ও সামগ্রিক অভিযোগের মধ্যে পার্থক্যটি ব্যাখ্যা করা জরুরি। বরাদ্দ, প্রকৃত ব্যয়, অনিয়মিত ব্যয় এবং কথিত আত্মসাতের অর্থ কি এক করে দেখানো হচ্ছে? সরকারি নথি প্রকাশ করা হলে এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকের দাবি, ২০১৭ সালের ২০ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক চার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি অংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অর্থের অনিয়ম সংঘটিত হয়। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা পদ-পদবি দিয়ে দায় নির্ধারণ করা যায় না; অভিযোগের পক্ষে নথিভিত্তিক প্রমাণ প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণ ছাড়াই সম্মানী—রেজিস্টারে কত ক্লাস: সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, প্রশিক্ষণ না দিয়েই প্রশিক্ষকদের নামে সম্মানী উত্তোলন। মামলার আবেদনে উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী, ত্রিশাল উপজেলায় ফারজানা পারভীনের নামে ৪৫২টি, নুরুজ্জামান চৌধুরীর নামে ৪৩৪টি, জোয়াহের আলী মিয়ার নামে ৪৩৪টি এবং আবু জুলহাসের নামে ৮৩৩টি ক্লাস দেখানো হয়েছে।
একই আবেদনে সাহানা আক্তারের নামে ৪২০টি, চিকিৎসক ওয়াজিদ আহমেদের নামে ৬৬৮টি, ইন্সপেক্টর মতিউর রহমানের নামে ৫৪৮টি, প্রভাষক সাবিনা ইয়াসমিনের নামে ৬৬৮টি, মৎস্য প্রশিক্ষক বদরুজ্জামান ফকিরের নামে ৭০০টি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবুল বাশারের নামে ২২০টি ক্লাস দেখানোর কথা বলা হয়েছে। আবুল বাশার বর্তমানে চট্টগ্রামে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিভিন্ন উপজেলায় ফারজানা পারভীনের নামে মোট ১ হাজার ৮৪৮টি, নুরুজ্জামান চৌধুরীর নামে ১ হাজার ৭০৮টি, জোয়াহের আলী মিয়ার নামে ১ হাজার ৭০৪টি, নন্দন কুমার দেবনাথের নামে ১ হাজার ২৫৭টি, নূর মোহাম্মদের নামে ১ হাজার ৮৫টি এবং আবু জুলহাসের নামে ৮৩৩টি ক্লাস দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
কর্মসূচির নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ব্যাচের ক্লাস সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং দ্বিতীয় ব্যাচের ক্লাস দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল। এত বিপুলসংখ্যক ক্লাস বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ে প্রশিক্ষণের তারিখ, সময়, স্থান, উপস্থিতির তালিকা, প্রশিক্ষণার্থীদের সাক্ষ্য এবং সম্মানী পরিশোধের নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সময়ে একাধিক স্থানে ক্লাস দেখানো হয়ে থাকলে তার ব্যাখ্যাও জরুরি। শুধু ক্লাসের সংখ্যা বেশি হলেই অনিয়ম প্রমাণিত হয় না; কিন্তু রেজিস্টারের সঙ্গে বাস্তব কার্যক্রমের অমিল পাওয়া গেলে তার জবাব দিতে হবে।
ভুয়া ব্যাংক হিসাব, জাল বিল-ভাউচার ও অর্থ ফেরতের প্রশ্ন: মাঠকর্মীদের ব্যাংক হিসাব খোলা ও ভাতা বিতরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হিসাব পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন বাদী। তাঁর দাবি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ, ভুয়া পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং জাল বিল-ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ নিজে অনিয়মের প্রমাণ নয়। মূল প্রশ্ন হলো, হিসাবগুলো প্রকৃত উপকারভোগীদের নামে খোলা হয়েছিল কি না এবং সরকারি অর্থ যথাযথ ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছিল কি না। এজন্য হিসাব খোলার আবেদনপত্র, পরিচয় যাচাইয়ের নথি, লেনদেনের বিবরণ, মূল বিল-ভাউচার ও উপকারভোগীদের তালিকা পরীক্ষা করা দরকার।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রিশাল উপজেলায় ৪৩ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাঁর দাবি, কমিটির প্রতিবেদনে ভুয়া ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অনিয়ম উঠে আসে এবং ৫৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়। তবে প্রতিবেদনটির পূর্ণাঙ্গ কপি, সুপারিশ বাস্তবায়নের নথি এবং অর্থ ফেরতের প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
পরবর্তী সময়ে ত্রিশাল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু জুলহাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং তাঁকে হালুয়াঘাটে বদলির কথা জানিয়েছেন অভিযোগকারী। বিভাগীয় মামলার ফল কী হয়েছিল, দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না এবং অর্থ ফেরতের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—সেসব তথ্য প্রকাশ না হলে জবাবদিহি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
এ ছাড়া তিন কর্মকর্তার স্বজনদের মাধ্যমে কানাডায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও মামলার আবেদনে তোলা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে ব্যাংক নথি, সম্পদের বিবরণ বা বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই এটিকে প্রমাণিত অর্থ পাচারের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
তদন্তের নথি গায়েব—তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছিল কি: অর্থ ব্যয়ের অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তের নথি গায়েব হওয়ার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অভিযোগকারী খায়রুল আলম রফিকের দাবি, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির অনিয়ম নিয়ে প্রস্তুত করা একটি তদন্ত প্রতিবেদন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তর থেকে গায়েব হয়ে গেছে। তাঁর আরও অভিযোগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভোলা অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপপরিচালক রোকন উদ্দিনের দপ্তর থেকে তাঁর অনুমতি ছাড়া দুর্নীতিসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
রোকন উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ফুটেজ ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে জিডির কপি, ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় এবং তদন্তের ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্ন হলো, কোন নথি কার হেফাজত থেকে সরানো হয়েছিল? নথিগুলো কি হারিয়ে গেছে, নাকি অন্য কোথাও সংরক্ষিত রয়েছে? ঘটনার বিষয়ে কোনো বিভাগীয় বা ফৌজদারি তদন্ত হয়েছে কি? নথি সরানোর ঘটনা সত্য হলে তা কি প্রশাসনিক অবহেলা, নাকি তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা? এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমানের ভিত্তিতে নয়, নথির গতিপথ, জিডি, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বাড়ির পরিচয়কে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের ওই অঞ্চলে পদায়নের সুযোগ তৈরির দাবি করেছেন বাদী। একইভাবে উপপরিচালক ফারজানা পারভীন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিমের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন বলেও অভিযোগকারীর দাবি। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রত্যক্ষ নথি বা যোগাযোগের রেকর্ড যাচাই করা যায়নি। বদলি-পদায়নের আদেশ, প্রশাসনিক সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
মামলার আবেদনে আরও যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপপরিচালক ফারজানা পারভীন, সাবেক সহকারী পরিচালক ও বর্তমানে জামালপুরের উপপরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সহকারী পরিচালক মো. জোয়াহের আলী মিয়া, গৌরীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ, ত্রিশাল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু জুলহাস এবং ফুলবাড়ীয়ার সাবেক উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও গোলাম মোস্তফা। মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় ডা. জহিরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও তিনি কার্যকর প্রতিকার পাননি। তাঁর ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁর অজ্ঞাতে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং কিছু অভিযোগের নথি দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণের রেজিস্টার, তদন্তের আদেশ, প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হলে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
দুদকের অনুসন্ধান, জবাবদিহি কোথায়: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ময়মনসিংহের জেলা জজ, দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেছেন। আবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নম্বর ০১/২০২৩ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে দুদকের ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী আনিসুর রহমান ও শাহজাহানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে সচিবসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের কথা বলা হলেও অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা, কী তথ্য পাওয়া গেছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে দুদকের হালনাগাদ বক্তব্য প্রয়োজন। অনুসন্ধান, বিভাগীয় তদন্ত, মামলা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণ—এগুলো পৃথক প্রক্রিয়া। একটির অস্তিত্বকে অন্যটির চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখানো যথাযথ নয়। উপপরিচালক ফারজানা পারভীনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং দুদকের বক্তব্যও প্রয়োজন। বক্তব্য না পাওয়া অভিযোগ স্বীকারের সমান নয়; সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সেই কর্মসূচির অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশিক্ষণ, ভাতা, ব্যাংক হিসাব, বিল-ভাউচার এবং তদন্তের নথি—প্রতিটি স্তরে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি শুধু কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং তদন্তের স্বাধীনতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
এখন প্রয়োজন চার উপজেলার বরাদ্দ ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, প্রশিক্ষণ রেজিস্টার, ব্যাংক লেনদেনের নথি, জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন, ৫৩ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ বাস্তবায়নের তথ্য এবং কথিত নিখোঁজ নথি নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ করা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও সরকারি অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে; অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ও অধিকারও রক্ষা করতে হবে।
সরকারি অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, প্রকৃত উপকারভোগীরা তাঁদের প্রাপ্য পেয়েছেন কি না, আর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে যদি নথির নিরাপত্তাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়—তবে সেই জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে? দুদকের অনুসন্ধান কি শেষ পর্যন্ত সরকারি অর্থের প্রকৃত হিসাব এবং তদন্তের নথির অবস্থান জনসমক্ষে আনতে পারবে?
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















