ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন, যুব ঋণের চেক বিতরণ বান্দরবানে ডেপুটি রেঞ্জার রাশেদুজ্জামানকে ঘিরে সংরক্ষিত বন উজাড়ের অভিযোগ জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি ও বকেয়া বেতন না দেওয়ার অভিযোগ ছয় বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা, স্বামীকে লিখলেন ‘তুমি আবার বিয়ে কোরো’ কালিয়াকৈরে গোডাউনে আগুন, আটকে দেওয়া হলো ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ডিপিডিসি প্রকৌশলী হাবিবুল্লাহর মেগা অনিয়ম ও চরম দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ান চাঁদপুরে পারিবারিক কলহে শাশুড়িকে মারধর, ঘরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, ১৪ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন আওয়ামী প্রভাবে শূন্য থেকে শতকোটির দুর্নীতি : তবুও বহাল তবিয়তে খাদ্য কর্মকর্তা জিকরুল!

চাঁদপুরে পারিবারিক কলহে শাশুড়িকে মারধর, ঘরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ ও দাম্পত্য কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের মালের ভাংতি গ্রামের মজিদ খানের বাড়িতে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শাশুড়িকে মারধর ও বসতঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে তাঁর প্রবাসী ছেলে এমরানের স্ত্রী রুমা আক্তার জোরপূর্বক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। শাশুড়ি তা অস্বীকার করলে রুমা আক্তার তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন রোকেয়া বেগম। এ ঘটনায় তিনি প্রথমে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অন্যদিকে, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য কলহের জের ধরে পুত্রবধূ রুমা আক্তারও থানায় একটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উভয় পক্ষের দায়ের করা এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের দিন নির্ধারিত ছিল।

নির্ধারিত ওই দিন স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর রুমা আক্তার ১০-১৫ জন লোক নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে তাঁর নিজের বসতঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত রুমা আক্তার, তাঁর মা ও ভাই ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ভয়ে শাশুড়ি রোকেয়া বেগম ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। এ সময় ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

শাশুড়ি রোকেয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এর আগেও আমার ছেলের বউ রুমা আমাকে একাধিকবার মারধর করেছে। আজও লোকজন নিয়ে এসে আমার নিজের বসতঘরে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমার ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর বনিবনা না হতেই পারে, কিন্তু সেই ক্ষোভে কেন আমাকে এভাবে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত হতে হবে? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

প্রবাসে থাকা স্বামী এমরান বলেন, “আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার দাম্পত্য বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু এর জন্য আমার বৃদ্ধ মাকে কেন জড়িয়ে হেনস্তা করা হবে? আমরা কেউ বাড়িতে না থাকায় আমার মা একা থাকেন, আর এই সুযোগে তারা এসে নানাভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে।”

পক্ষান্তরে, অভিযুক্ত রুমা আক্তার দাবি করেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে তাঁর বিয়ে হওয়ার এক মাস পরই স্বামী প্রবাসে চলে যান। এর দুই-তিন মাস পর থেকে স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেন এবং নির্ধারিত দিনে সালিশে বসার কথা থাকলেও স্বামীর পরিবারের কেউ উপস্থিত না হওয়ায় তিনি মা, খালা ও ভাইকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন। তবে শাশুড়িকে মারধর বা অবরুদ্ধ করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা করা হয় এবং পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সুরাহা করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন, যুব ঋণের চেক বিতরণ

চাঁদপুরে পারিবারিক কলহে শাশুড়িকে মারধর, ঘরে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০২:৪২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ ও দাম্পত্য কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের মালের ভাংতি গ্রামের মজিদ খানের বাড়িতে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শাশুড়িকে মারধর ও বসতঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে তাঁর প্রবাসী ছেলে এমরানের স্ত্রী রুমা আক্তার জোরপূর্বক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। শাশুড়ি তা অস্বীকার করলে রুমা আক্তার তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন রোকেয়া বেগম। এ ঘটনায় তিনি প্রথমে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অন্যদিকে, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য কলহের জের ধরে পুত্রবধূ রুমা আক্তারও থানায় একটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উভয় পক্ষের দায়ের করা এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের দিন নির্ধারিত ছিল।

নির্ধারিত ওই দিন স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর রুমা আক্তার ১০-১৫ জন লোক নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে তাঁর নিজের বসতঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত রুমা আক্তার, তাঁর মা ও ভাই ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ভয়ে শাশুড়ি রোকেয়া বেগম ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। এ সময় ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

শাশুড়ি রোকেয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এর আগেও আমার ছেলের বউ রুমা আমাকে একাধিকবার মারধর করেছে। আজও লোকজন নিয়ে এসে আমার নিজের বসতঘরে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমার ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রীর বনিবনা না হতেই পারে, কিন্তু সেই ক্ষোভে কেন আমাকে এভাবে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত হতে হবে? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

প্রবাসে থাকা স্বামী এমরান বলেন, “আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার দাম্পত্য বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু এর জন্য আমার বৃদ্ধ মাকে কেন জড়িয়ে হেনস্তা করা হবে? আমরা কেউ বাড়িতে না থাকায় আমার মা একা থাকেন, আর এই সুযোগে তারা এসে নানাভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে।”

পক্ষান্তরে, অভিযুক্ত রুমা আক্তার দাবি করেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে তাঁর বিয়ে হওয়ার এক মাস পরই স্বামী প্রবাসে চলে যান। এর দুই-তিন মাস পর থেকে স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেন এবং নির্ধারিত দিনে সালিশে বসার কথা থাকলেও স্বামীর পরিবারের কেউ উপস্থিত না হওয়ায় তিনি মা, খালা ও ভাইকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন। তবে শাশুড়িকে মারধর বা অবরুদ্ধ করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা করা হয় এবং পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সুরাহা করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।