লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বরাদ্দ করা প্রায় ১৫ কোটি টাকার নগদ অর্থ এবং ৩৭২ মেট্রিক টন চাল-গমের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অনুমোদিত ২৬৩টি প্রকল্পের সিংহভাগে ভুয়া বিল-ভাউচার, অস্তিত্বহীন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় এবং খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম মাজহানুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কাগজে-কলমে যেখানে ৩০ জুনের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, সেখানে মাঠপর্যায়ে উন্নয়নকাজের অস্তিত্ব ও বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে অভিযোগ উঠছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য, প্রশাসনিক তদন্তের উদ্যোগ এবং প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা মিলিয়ে বিষয়টি এখন শুধু একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন নয়; বরং সরকারি অর্থ ছাড়, খাদ্যশস্য বিতরণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকির পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহির প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বরাদ্দের বিপরীতে উন্নয়ন কোথায়: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতে কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট ২৬৩টি উপপ্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পগুলোর বিপরীতে নগদ বরাদ্দ ছিল ১৫,০০,১৯,৪৭৯ টাকা। পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৮৮ মেট্রিক টন গম এবং ১৮৪ মেট্রিক টন চাল—সব মিলিয়ে ৩৭২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য।
দাপ্তরিক হিসাবে প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন এবং বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের অভিযোগ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগ অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রকল্প অস্তিত্বহীন অথবা আংশিক সম্পন্ন; কোথাও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, কোথাও মাস্টাররোলে গরমিল, আবার কোথাও উপকারভোগীদের অজান্তে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা নির্ধারণে প্রতিটি প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, বরাদ্দ আদেশ, ব্যাংক লেনদেন, বিল-ভাউচার, মাস্টাররোল এবং সরেজমিন পরিমাপের তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে ২৬৩টি প্রকল্পের প্রতিটিকে অনিয়মপূর্ণ বলা যেমন যথাযথ নয়, তেমনি কাগজে শতভাগ সমাপ্ত দেখানো হয়েছে বলেই বাস্তবে কাজ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। মূল প্রশ্ন হচ্ছে, প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি যদি নথিতে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অবকাঠামো কোথায়? ৩৭২ মেট্রিক টন চাল-গম কোন প্রকল্পে, কাদের মাধ্যমে এবং কী পরিমাণে বিতরণ করা হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রকল্পভিত্তিক হিসাব জনসমক্ষে আনা এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্ট্যান্ড রিলিজ, কিন্তু জবাবদিহির শেষ কোথায়: অভিযোগ সামনে আসার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) স্বাক্ষরিত জরুরি অফিস আদেশে পিআইও এইচ এম মাজহানুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে কালীগঞ্জের দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করা হয়। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) আব্দুল মতিন অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অতীত কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেনের নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে স্ট্যান্ড রিলিজ কোনো চূড়ান্ত শাস্তি নয়, আবার এটি নিজে থেকেই অভিযোগের সত্যতাও প্রমাণ করে না। ফলে প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর প্রকৃত অনুসন্ধান কতদূর এগিয়েছে, আর্থিক নথি সংরক্ষণ হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এই প্রতিবেদনে এইচ এম মাজহানুর রহমানের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য ছাড়া অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না।
দুটি তদন্ত, কিন্তু কতটা স্বাধীন যাচাই: স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান গত ২২ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মীর ফয়সাল আলীকে আহ্বায়ক করা হয়। কমিটিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) সহকারী প্রকৌশলীদের কারিগরি সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়।
কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব, মাটির কাজের পরিমাণ, ইটের গাঁথুনি ও অন্যান্য অবকাঠামোর গুণগত মান এবং ব্যয়ের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি বিশেষ তদন্ত দল গত ২৯ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জে পৌঁছে মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি এবং পিআইও কার্যালয়ের ক্যাশ বই, স্টক রেজিস্টার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) অনুমোদনপত্র ও মাস্টাররোল যাচাইয়ের দায়িত্ব নেয়। দুটি তদন্তের কার্যপরিধি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয়েছে বলা যাবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, আটটি ইউনিয়নের ২৬৩টি প্রকল্পের প্রতিটির জন্য কি পৃথক পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি হবে? খাদ্যশস্যের গুদাম থেকে খালাস, পরিবহন, গ্রহণ এবং প্রকল্পে ব্যবহারের হিসাব কি পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে? আর তদন্তের ফলাফল কি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে?
ভুয়া কমিটি ও বিল-ভাউচারের অভিযোগ: অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে পিআইও এইচ এম মাজহানুর রহমান এবং তাঁর কার্যালয়ের কার্য সহকারী রওশন ইসলামের নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে কাজ শুরু না করেই কাগজে কাল্পনিক প্রকল্প দেখানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের অজ্ঞাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের ঘটনা ঘটেছে।
তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলজার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী—একাধিক প্রকল্পের ভৌগোলিক অস্তিত্ব নেই। তাঁকে না জানিয়েই একটি অস্তিত্বহীন প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল সরেজমিন পরিদর্শনে আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। কাকিনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইয়াছিন আলীর অভিযোগ, তিনি দুটি প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করলেও বিল ছাড়ের জন্য দিনের পর দিন পিআইও কার্যালয়ে ঘুরেছেন। অথচ তাঁর দাবি অনুযায়ী, বাস্তবে কাজ না করা কিছু প্রকল্পের বিপরীতে পুরো অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
এই দুই অভিযোগের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন স্পষ্ট: প্রকল্পের সভাপতি যদি নিজের নাম ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি না জানেন—তাহলে অনুমোদন, ব্যাংক হিসাব, স্বাক্ষর যাচাই ও বিল ছাড়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে তা অনুমোদন করলেন? তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি, ব্যাংক হিসাব এবং কমিটির সদস্যদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কার্য সহকারী রওশন ইসলাম দাপ্তরিক নথিপত্র ফেলে কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। এর ফলে প্রকল্পের বৈধ পাওনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সভাপতি ও বাস্তব কাজ করা ব্যক্তিরা সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর বর্তমান অবস্থান, অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য এবং নথিপত্রের হেফাজত বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ প্রতিবেদনে রওশন ইসলামের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
চাল-গম বিতরণের হিসাবও তদন্তের আওতায় আসুক: প্রকল্পে নগদ অর্থের পাশাপাশি খাদ্যশস্য বরাদ্দ থাকায় সম্ভাব্য অনিয়মের পরিধি আরও বিস্তৃত। অভিযোগ রয়েছে, গ্রামীণ মাটির রাস্তা সংস্কার এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চাল-গম প্রকল্পে ব্যবহার না করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে এবং পরে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করা হয়েছে।
এ অভিযোগ যাচাইয়ে শুধু দাপ্তরিক বিতরণ তালিকা যথেষ্ট নয়। খাদ্যগুদামের ছাড়পত্র, পরিবহনসংক্রান্ত নথি, প্রকল্পের মজুত ও ব্যবহার হিসাব, উপকারভোগীদের স্বাক্ষর বা টিপসই এবং বাস্তব কাজের পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদাম, প্রকল্প কমিটি ও উপকারভোগীদের বক্তব্যও নিতে হবে। প্রমাণ ছাড়া খাদ্যশস্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে ফৌজদারি তদন্ত: অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি নথি জালিয়াতি, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়গুলো প্রযোজ্য আইনের অধীনে তদন্তের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারার প্রাসঙ্গিকতা আইনগতভাবে যাচাই করা যেতে পারে। একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের এখতিয়ার ও তফসিলভুক্ত অপরাধের শর্ত পূরণ হলে সংস্থাটির অনুসন্ধানের বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা যায় না। এটি উল্লিখিত নগদ বরাদ্দের পরিমাণ; প্রকৃত ক্ষতি বা আত্মসাতের অঙ্ক নির্ধারণে তদন্ত, নিরীক্ষা ও প্রমাণ প্রয়োজন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় কিংবা ফৌজদারি দায়ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
কালীগঞ্জের ঘটনায় তাই জরুরি হলো—প্রতিটি প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় ও বাস্তব অগ্রগতি প্রকাশ, অনিয়মের অভিযোগে জড়িত সবার বক্তব্য গ্রহণ, তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে আনা এবং প্রমাণিত আর্থিক ক্ষতি থাকলে আইন অনুযায়ী অর্থ ও সম্পদের মূল্য পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা। সরকারি বরাদ্দ জনগণের অর্থ; এর সঙ্গে জড়িত চাল-গমও জনগণের সম্পদ। সুতরাং শুধু একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াই কি যথেষ্ট, নাকি ২৬৩টি প্রকল্পের প্রতিটির হিসাব প্রকাশ করে দায় নির্ধারণ করতে হবে? প্রায় ১৫ কোটি টাকা ও ৩৭২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের প্রকৃত হিসাব কে দেবে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কত দিনে শেষ হবে, আর প্রমাণিত অনিয়মের দায়ে যাঁদের ভূমিকা পাওয়া যাবে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে—কালীগঞ্জের মানুষ এখন সেই জবাবই প্রত্যাশা করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















