বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ দূরের কথা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) পাত্তাই দিচ্ছেন না চট্টগ্রামের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা। আর এর জের ধরে নগরীর বালুছড়া বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের ষোলশহর বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক লাখ ৭৮ হাজার এবং ৮৩ হাজার টাকার দুটি বিল বকেয়া রয়েছে বিআরটিএ অফিসের কাছে। বারবার তাদেরকে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়ার পরও বিল পরিশোধ কিংবা চিঠির জবাব না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ষোলশহর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ কার্যালয়টির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। একপর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়ে কার্যালয় প্রাঙ্গণ। হাটহাজারী সড়কের নতুনপাড়ায় বিআরটিএর বিভাগীয়, জেলা ও চট্ট মেট্রো-২ কার্যালয়। পুরো কমপ্লেক্স ছিল বিদ্যুৎবিহীন। পরে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে সেবা দিতে হয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিআরটিএ ইচ্ছা করেই এই ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও সরকারের আইন মানছে না, যথাসময়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। এতে গ্রাহকদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার দায় তাদের নিতে হবে।
ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অনেকেই বিআরটিএর নানা হয়রানির ঘটনা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিন তারা কোটি কোটি টাকা আয় করছেন অথচ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন না। তাদের কারণেই গ্রাহকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ওইদিন যারা হালনাগাদের ফি জমা দিতে পারেনি তাদের এখন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর দায় বিআরটিএর কর্মকর্তাদের নিতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিআরটিএর দাবি, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে পিডিবির কর্মীরা জানান, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় এবং একাধিকবার তাগাদা দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পিডিবি ষোলশহর বিক্রয় ও বিতরণ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানা উল্লাহ বলেন, বকেয়া বিল পরিশোধ করা নিয়ে বিআরটিএর সাথে দীর্ঘদিন চিঠি চালাচালি হচ্ছে। ১ লাখ ৭৮ হাজার এবং ৮৩ হাজার ২০০ টাকার দুটি বিল বকেয়া রয়েছে। কিন্তু তারা বিল পরিশোধ করছে না, চিঠির জবাবও দিচ্ছে না। আর এই কারণে নিয়মের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এটি পিডিবির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে যা করা হয় বিআরটিএর ক্ষেত্রেও তা করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ কর্মকর্তারা বিল পরিশোধে গড়িমসি করেন। এটা তাদের ব্যবস্থাপনার সংকট। অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বিল পরিশোধ করছে। কোনো কারণে দেরি হলে তারা যোগাযোগ করছেন, সময় নিচ্ছেন। কিন্তু বিআরটিএ পিডিবিকে পাত্তাই দিচ্ছে না। তারা সময়মতো চিঠির জবাব দেওয়ার গরজও বোধ করছেন না।
বিআরটিএ চট্ট মেট্রো-২ এর উপপরিচালক মো. সানাউল হক বলেন, আমাদের কোনো লোক সেখানে যায়নি। আমাদের বিলও বকেয়া নেই।
তাহলে লাইন বিচ্ছিন্ন করল কেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানেন না বলে জানান।
পিডিবি ষোলশহর বিক্রয় ও বিতরণ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানা উল্লাহ বলেন, আমাদের দুটি বিল বকেয়া রয়েছে। তাদেরকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা বিল পরিশোধ করেনি। যার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছি। বিআরটিএর লোকজন বিদ্যুৎ অফিসে এসে মানববন্ধন করার চেষ্টা করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















