ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গার্মেন্টসে অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড়লেখার দাসের বাজারে বিএনপির মতবিনিময় সভা, প্রধান অতিথি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু অটোরিকশা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাইকিং গঙ্গার পানি না এলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম নাটোরের সাবেক এমপি শিমুলের সহযোগী যুবলীগ নেতা আটক তাহসিফের মৃত্যুরহস্য: বারে মদ্যপান থেকে টঙ্গীর মাঠে যাওয়ার বর্ণনা দীপের পিডিবিকে পাত্তা দিচ্ছে না চট্টগ্রাম বিআরটিএ, বকেয়া বিলের কারণে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে মাতলেন শাবনূর নতুন ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেড পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া অক্টোবরে প্রবাসী আয় বাড়ল ১২ শতাংশ, দেশে এলো ৩৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা

অক্টোবরে প্রবাসী আয় বাড়ল ১২ শতাংশ, দেশে এলো ৩৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ১১ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বাড়ল প্রায় ১২ শতাংশ।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৪৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল প্রায় ১ হাজার ১৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত বছরের প্রথম ৪ মাসের তুলনায় এবার প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার। আগস্টে প্রবাসীরা পাঠান ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

ধারাবাহিকভাবে ২৭০ থেকে ২৯০ কোটি ডলারের আশপাশে প্রবাসী আয় আসায় চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। ব্যাংকিং চ্যানেলে এই অর্থ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করা, ব্যাংকিং সেবা সহজ করা এবং প্রবাসী আয়ে সরকারি সুবিধার কারণে বৈধ চ্যানেলে অর্থপ্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিভিন্ন উদ্যোগও প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়াতে সহায়তা করছে।

এর আগে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। পুরো অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার দেশে আসে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছিল ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এর আগে এত বেশি প্রবাসী আয় দেশে আসেনি। সেই রেকর্ডের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গার্মেন্টসে অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অক্টোবরে প্রবাসী আয় বাড়ল ১২ শতাংশ, দেশে এলো ৩৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৯:০০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ১১ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বাড়ল প্রায় ১২ শতাংশ।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৪৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল প্রায় ১ হাজার ১৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত বছরের প্রথম ৪ মাসের তুলনায় এবার প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার। আগস্টে প্রবাসীরা পাঠান ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

ধারাবাহিকভাবে ২৭০ থেকে ২৯০ কোটি ডলারের আশপাশে প্রবাসী আয় আসায় চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। ব্যাংকিং চ্যানেলে এই অর্থ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করা, ব্যাংকিং সেবা সহজ করা এবং প্রবাসী আয়ে সরকারি সুবিধার কারণে বৈধ চ্যানেলে অর্থপ্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিভিন্ন উদ্যোগও প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়াতে সহায়তা করছে।

এর আগে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। পুরো অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার দেশে আসে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছিল ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এর আগে এত বেশি প্রবাসী আয় দেশে আসেনি। সেই রেকর্ডের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।