চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১০ কনটেইনার কাঁচা তামাকের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চালানে মোট ১৫০ মেট্রিক টন তামাক রয়েছে। গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের বন্ড সুবিধায় এসব তামাক আনা হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যালোচনায় আমদানি মূল্যে উল্লেখযোগ্য অসংগতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আটক করা তামাক দিয়ে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট তৈরি করা সম্ভব। এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
আটকের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ঘোষিত দামের বড় ফারাক। কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, একই এইচএস কোডের পণ্য এর আগে প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলার দরে শুল্কায়ন করা হয়েছে। অথচ এই চালানে প্রতি কেজি কাঁচা তামাকের ঘোষিত মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ আগের আমদানির তুলনায় ঘোষিত দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম। পূর্ববর্তী আমদানি মূল্য বিবেচনায় নিলে শুধু আমদানি পর্যায়েই এই চালানের সঙ্গে প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব জড়িত।
কম দাম দেখানো হলে শুল্ক-কর কম দিতে হয়। আমদানি পণ্যের মূল্য কম ঘোষণা করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চর্চা দেশের কাস্টমস ব্যবস্থায় পুরোনো সমস্যা। তামাকের মতো উচ্চ করযুক্ত খাতে এর ঝুঁকি আরও বেশি।
কাস্টমস গোয়েন্দা আরও সতর্ক করেছে, বন্ড সুবিধায় আনা তামাকের প্রকৃত ব্যবহার এবং তা দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ঝুঁকি তৈরি হয়। আমদানি থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, প্রতিটি ধাপেই শুল্ক-কর ফাঁকির সুযোগ থাকে। বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে আনা যায়, তবে তা কেবল নির্দিষ্ট উৎপাদনে ব্যবহার করতে হয়। সেই ব্যবহারের হিসাব না মিললে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আটক চালানের মূল্য ঘোষণা সঠিক ছিল কি না এবং এর পেছনে কারও ইচ্ছাকৃত অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























