ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনবিআর কর কমিশনার রাকিবের বিরুদ্ধে ৩২৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের মামলার পরও বহাল এএসপি, জানেন না এসপি-ডিআইজি মুকসুদপুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের পরিবারের নামে ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ দুবাইয়ে এইচবিএম ইকবালের ৭ বিলাসবহুল সম্পত্তি নিয়ে এনবিআরের অনুসন্ধান বরগুনার বেতাগীতে সেই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন বড়লেখায় সিন্ডিকেট ভাঙায় হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিল পুনঃনিলামে, রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ

দুদকের মামলার পরও বহাল এএসপি, জানেন না এসপি-ডিআইজি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৯:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৩ বার পড়া হয়েছে

আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে মামলা হওয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও একই পদে বহাল রয়েছেন আব্দুস ছালাম।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন। মামলায় এএসপি আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময়ও আব্দুস ছালাম গোদাগাড়ী সার্কেলের এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাত মাস পরও তিনি একই পদে বহাল রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শাহানা পারভীন তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে অনুসন্ধানে তাঁর নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া যায় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে তাঁর বিরুদ্ধে ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, শাহানা পারভীন একজন গৃহিণী। এএসপি আব্দুস ছালাম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে সেই অর্থ তাঁর স্ত্রীর নামে বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল বারী বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় এএসপি আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ সিদ্দিক তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে দুদকের মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসপি আব্দুস ছালাম। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ অনুসন্ধানের পর আমার স্ত্রী দুদকের কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, তাঁরাই দুর্নীতি করেন। এই মন্তব্যের কারণেই প্রতিহিংসাবশত মামলাটি করা হয়েছে। দুদকের মামলার কোনো ভিত্তি নেই। আমি লিখিত দিয়েছি।’

এদিকে মামলার বিষয়ে জানেন না রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমি রাজশাহীতে নতুন এসেছি। এএসপি আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিষয়টি জানা নেই। আমাকে খোঁজ নিতে হবে।’

পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদও মামলাটির বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

দুদকের মামলার পরও বহাল এএসপি, জানেন না এসপি-ডিআইজি

আপডেট সময় ০৯:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে মামলা হওয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও একই পদে বহাল রয়েছেন আব্দুস ছালাম।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন। মামলায় এএসপি আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময়ও আব্দুস ছালাম গোদাগাড়ী সার্কেলের এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাত মাস পরও তিনি একই পদে বহাল রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শাহানা পারভীন তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে অনুসন্ধানে তাঁর নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া যায় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে তাঁর বিরুদ্ধে ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, শাহানা পারভীন একজন গৃহিণী। এএসপি আব্দুস ছালাম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে সেই অর্থ তাঁর স্ত্রীর নামে বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল বারী বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় এএসপি আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ সিদ্দিক তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে দুদকের মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসপি আব্দুস ছালাম। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ অনুসন্ধানের পর আমার স্ত্রী দুদকের কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, তাঁরাই দুর্নীতি করেন। এই মন্তব্যের কারণেই প্রতিহিংসাবশত মামলাটি করা হয়েছে। দুদকের মামলার কোনো ভিত্তি নেই। আমি লিখিত দিয়েছি।’

এদিকে মামলার বিষয়ে জানেন না রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমি রাজশাহীতে নতুন এসেছি। এএসপি আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিষয়টি জানা নেই। আমাকে খোঁজ নিতে হবে।’

পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদও মামলাটির বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’