ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্ধ গার্মেন্টস কারখানা শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩৮৫, শ্রমিক অসন্তোষে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ প্রথমবারের মতো আয়োজিত সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চন্দনাইশ ভূমি অফিসের নথি ফেলা হলো নদীতে, প্রতিবাদ করায় চাকরি হারালেন নৈশপ্রহরী গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে বাড়ানো হলো বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জিতলে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প কারামুক্ত হয়ে আখতারুজ্জামান বললেন, ‘সত্যের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না’ আমাকে আগের মতো গ্ল্যামারাস লাগে না: পিয়া জান্নাতুল মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন
কাস্টম কর্মকর্তার চেয়ার দখল করে ফাইল সাইন

চট্টগ্রাম কাস্টমসে সাইফুলের রামরাজত্ব: প্রভাব খাটিয়ে খালাস করিয়ে নেন নিষিদ্ধ পণ্য

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১১:৪৮:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫২০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মিথ্যা ঘোষণা ও নিষিদ্ধ পণ্য খালাসের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল বা সিআইসির অনুসন্ধানে আমদানিকারকদের সঙ্গে তার যোগসাজশ এবং প্রভাব বিস্তারের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অথচ গোয়েন্দাদের আটকে দেওয়া এই পণ্য চালান খালাস নিয়ে নানা নাটকীয়তা এবং কাস্টমস কমিশনারের পক্ষ থেকে তাকে প্রকাশ্য প্রটোকল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা গোটা কাস্টম হাউসে ওপেন সিক্রেট হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কাফ করপোরেশন মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে খালাসের দায়িত্ব দেয় প্রভাবশালী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এমএসটি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে, যার মালিক এস এম সাইফুল আলম। সি-১০৯৮৭৬৬ নম্বরের ওই বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তান থেকে নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিমসহ নানা অবৈধ পণ্য আনার চেষ্টা করা হয়। গোয়েন্দারা এই চালানটি লক করার পর তা পরীক্ষা করতে প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। ক্ষমতার অপব্যবহারের এই ঘটনার জেরে সিআইসির তৎকালীন মহাপরিচালক আবদুর রকিবকে পর্যন্ত পদচ্যুত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও রাজস্ব বোর্ড বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। কাস্টমসের একাধিক সূত্র জানায়, কমিশনারের রুমেই সিঅ্যান্ডএফ সভাপতিকে দাঁড়িয়ে প্রটোকল দেওয়া হয়, ফলে অধস্তন কর্মকর্তারা তার চালানের দিকে তাকানোরও সাহস পান না। এমনকি বন্ধের দিনে কাস্টম হাউসে ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তার চেয়ারে বসে ফাইল সই করার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও ক্ষমতার জোরে সবকিছু ধামাচাপা পড়ে রয়েছে।

এই বিষয়ে দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহা. মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সিআইসির কায়িক পরীক্ষায় কাফ করপোরেশনের ওই চালানটিতে ঘোষণা এবং বাস্তবের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক ধরা পড়ে। নথিপত্র অনুযায়ী কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন, টুথপিক বা সাধারণ সার্কেল আমদানির কথা থাকলেও বাস্তবে চীন ও পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে উচ্চ শুল্কের নামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, ফেস মাস্ক, অ্যান্টি-এজিং জেল, বিএসটিআই নিষিদ্ধ ক্রিম, লেজার লাইট, দামি গাড়ির ইঞ্জিন পার্টস এবং ঘোষণাবহির্ভূত যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে। শুধু তাই নয়, কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে লক করা কনটেইনারের মূল সিল কেটে নিজেদের ইচ্ছামতো নতুন সিল লাগিয়ে দেওয়ার গুরুতর প্রমাণও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ঘোষণা অনুযায়ী সাড়ে ২২ টন টুথপিকের জায়গায় মাত্র দেড় টন সাধারণ টুথপিক পাওয়া গেলেও বাকি প্রায় সাড়ে ১৫ টনেই পাওয়া গেছে বিএসটিআই নিষিদ্ধ পাকিস্তানের গৌরী বিউটি ক্রিম।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সিঅ্যান্ডএফ সভাপতি এস এম সাইফুল আলম দাবি করেছেন যে কাফ করপোরেশনের মালিককে তিনি চেনেন না এবং যে সময়ে এই চালানটি এসেছে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। কনটেইনারের লক ভাঙার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা হলো, নিয়ম অনুযায়ী পণ্য পরীক্ষার জন্যই সেটি খোলা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কাস্টম হাউসের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তার জ্ঞাতসারেই নতুন লক লাগানো হয়েছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসি একে সম্পূর্ণ জালিয়াতি হিসেবেই দেখছে। এছাড়া বন্ধের দিনে কাস্টম কর্মকর্তার চেয়ারে বসে ফাইল সই করার বিতর্কিত বিষয়টিও তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

এস এম সাইফুলের বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগ এটাই প্রথম বা একমাত্র নয়, কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে এর আগেও তিনি একাধিক আমদানিকারককে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। তার সহযোগিতায় ‘এইচ আর এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিন রাবার বুশের ঘোষণা দিয়ে প্রায় ১৩ টন ওজনের অত্যন্ত দামি আসল ইঞ্জিন মাউন্টিং ও সাসপেনশন পার্টস খালাসের অপচেষ্টা চালায়। একইভাবে ‘নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ২৩ টন হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রায় সাড়ে ২১ টন ফ্লেক্স ব্যানার অবৈধভাবে খালাসের চেষ্টা করে। এনবিআরের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে এসব জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণও মিলেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ভীতিপ্রদ পরিবেশ ও কর্মকর্তাদের অসহায়ত্ব স্পষ্ট করে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এমএসটি ইন্টারন্যাশনালের চালানে লক দেওয়ার মতো ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কারও নেই। কারণ সিআইসি লক দেওয়ার পরও দফায় দফায় কায়িক পরীক্ষা আটকে দেওয়া হয়েছিল এবং যে কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল তাকেও শাস্তিমূলকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। খোদ সিঅ্যান্ডএফ সভাপতির এমন বেপরোয়া প্রভাবে পুরো কাস্টম হাউসে এক ধরণের নৈরাজ্য চলছে এবং তার এই ছত্রছায়ায় অন্যরাও এখন একই পথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ গার্মেন্টস কারখানা শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাস্টম কর্মকর্তার চেয়ার দখল করে ফাইল সাইন

চট্টগ্রাম কাস্টমসে সাইফুলের রামরাজত্ব: প্রভাব খাটিয়ে খালাস করিয়ে নেন নিষিদ্ধ পণ্য

আপডেট সময় ১১:৪৮:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মিথ্যা ঘোষণা ও নিষিদ্ধ পণ্য খালাসের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল বা সিআইসির অনুসন্ধানে আমদানিকারকদের সঙ্গে তার যোগসাজশ এবং প্রভাব বিস্তারের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অথচ গোয়েন্দাদের আটকে দেওয়া এই পণ্য চালান খালাস নিয়ে নানা নাটকীয়তা এবং কাস্টমস কমিশনারের পক্ষ থেকে তাকে প্রকাশ্য প্রটোকল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা গোটা কাস্টম হাউসে ওপেন সিক্রেট হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কাফ করপোরেশন মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে খালাসের দায়িত্ব দেয় প্রভাবশালী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এমএসটি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে, যার মালিক এস এম সাইফুল আলম। সি-১০৯৮৭৬৬ নম্বরের ওই বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তান থেকে নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিমসহ নানা অবৈধ পণ্য আনার চেষ্টা করা হয়। গোয়েন্দারা এই চালানটি লক করার পর তা পরীক্ষা করতে প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। ক্ষমতার অপব্যবহারের এই ঘটনার জেরে সিআইসির তৎকালীন মহাপরিচালক আবদুর রকিবকে পর্যন্ত পদচ্যুত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও রাজস্ব বোর্ড বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। কাস্টমসের একাধিক সূত্র জানায়, কমিশনারের রুমেই সিঅ্যান্ডএফ সভাপতিকে দাঁড়িয়ে প্রটোকল দেওয়া হয়, ফলে অধস্তন কর্মকর্তারা তার চালানের দিকে তাকানোরও সাহস পান না। এমনকি বন্ধের দিনে কাস্টম হাউসে ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তার চেয়ারে বসে ফাইল সই করার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও ক্ষমতার জোরে সবকিছু ধামাচাপা পড়ে রয়েছে।

এই বিষয়ে দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহা. মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সিআইসির কায়িক পরীক্ষায় কাফ করপোরেশনের ওই চালানটিতে ঘোষণা এবং বাস্তবের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক ধরা পড়ে। নথিপত্র অনুযায়ী কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন, টুথপিক বা সাধারণ সার্কেল আমদানির কথা থাকলেও বাস্তবে চীন ও পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে উচ্চ শুল্কের নামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, ফেস মাস্ক, অ্যান্টি-এজিং জেল, বিএসটিআই নিষিদ্ধ ক্রিম, লেজার লাইট, দামি গাড়ির ইঞ্জিন পার্টস এবং ঘোষণাবহির্ভূত যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে। শুধু তাই নয়, কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে লক করা কনটেইনারের মূল সিল কেটে নিজেদের ইচ্ছামতো নতুন সিল লাগিয়ে দেওয়ার গুরুতর প্রমাণও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ঘোষণা অনুযায়ী সাড়ে ২২ টন টুথপিকের জায়গায় মাত্র দেড় টন সাধারণ টুথপিক পাওয়া গেলেও বাকি প্রায় সাড়ে ১৫ টনেই পাওয়া গেছে বিএসটিআই নিষিদ্ধ পাকিস্তানের গৌরী বিউটি ক্রিম।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সিঅ্যান্ডএফ সভাপতি এস এম সাইফুল আলম দাবি করেছেন যে কাফ করপোরেশনের মালিককে তিনি চেনেন না এবং যে সময়ে এই চালানটি এসেছে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। কনটেইনারের লক ভাঙার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা হলো, নিয়ম অনুযায়ী পণ্য পরীক্ষার জন্যই সেটি খোলা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কাস্টম হাউসের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তার জ্ঞাতসারেই নতুন লক লাগানো হয়েছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসি একে সম্পূর্ণ জালিয়াতি হিসেবেই দেখছে। এছাড়া বন্ধের দিনে কাস্টম কর্মকর্তার চেয়ারে বসে ফাইল সই করার বিতর্কিত বিষয়টিও তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

এস এম সাইফুলের বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগ এটাই প্রথম বা একমাত্র নয়, কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে এর আগেও তিনি একাধিক আমদানিকারককে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। তার সহযোগিতায় ‘এইচ আর এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিন রাবার বুশের ঘোষণা দিয়ে প্রায় ১৩ টন ওজনের অত্যন্ত দামি আসল ইঞ্জিন মাউন্টিং ও সাসপেনশন পার্টস খালাসের অপচেষ্টা চালায়। একইভাবে ‘নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ২৩ টন হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রায় সাড়ে ২১ টন ফ্লেক্স ব্যানার অবৈধভাবে খালাসের চেষ্টা করে। এনবিআরের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে এসব জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণও মিলেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ভীতিপ্রদ পরিবেশ ও কর্মকর্তাদের অসহায়ত্ব স্পষ্ট করে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এমএসটি ইন্টারন্যাশনালের চালানে লক দেওয়ার মতো ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কারও নেই। কারণ সিআইসি লক দেওয়ার পরও দফায় দফায় কায়িক পরীক্ষা আটকে দেওয়া হয়েছিল এবং যে কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল তাকেও শাস্তিমূলকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। খোদ সিঅ্যান্ডএফ সভাপতির এমন বেপরোয়া প্রভাবে পুরো কাস্টম হাউসে এক ধরণের নৈরাজ্য চলছে এবং তার এই ছত্রছায়ায় অন্যরাও এখন একই পথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।