ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আখতারুজ্জামান শতকোটি দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ, দায়মুক্তি দিলেন যুগ্মসচিব দেলোয়ার কুড়িগ্রামে ফুলে সাজানো রিকশায় গ্রাম পুলিশকে বিদায় ৬০ টাকার উমেদার আশিক এখন ধানমন্ডি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অঘোষিত জমিদার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনিছের মৃত্যুতে ধামাচাপার অভিযোগ কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বন্ধ গার্মেন্টস কারখানা শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩৮৫, শ্রমিক অসন্তোষে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ প্রথমবারের মতো আয়োজিত সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চন্দনাইশ ভূমি অফিসের নথি ফেলা হলো নদীতে, প্রতিবাদ করায় চাকরি হারালেন নৈশপ্রহরী গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে বাড়ানো হলো বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জিতলে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে যেকোনো বিল আটকে দিতে নিজের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটি অথবা উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসকে কীভাবে সামলাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তখন আমাকে মিস্টার ভেটো হতে হবে। আমি কোনোভাবেই তাদের দেশটা নষ্ট করতে দেব না।’

ট্রাম্প জানান, ডেমোক্রেটদের পাঠানো যেকোনো প্রস্তাবিত বিল তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবেন এবং একপর্যায়ে ভেটো ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তাদের আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠাতে থাকবে, আর আপনি তাতে ভেটো দিতে থাকবেন। এক বা দুই মাস ধরে তাদের সব প্রস্তাবে ভেটো খাওয়ার পর যখন তারা বুঝবে যে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে, তখন তারা নিজেরাই আপনার কাছে এসে আলোচনা করে সমঝোতা করবে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘তারপর কোনো একপর্যায়ে আমরা হয়তো একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। অতীতেও এমনটাই ঘটেছে, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়।’ তবে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, রিপাবলিকানরাই কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, যাতে তাঁকে এই পথে হাঁটতে না হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প এ পর্যন্ত মাত্র দুবার তাঁর ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। এর আগে প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল বা আইন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি বিলটির পক্ষে ভোট দেন, তাহলে প্রেসিডেন্টের সেই ভেটো বাতিল হয়ে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করার সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘সুযোগ থাকলে আমি আবারও নির্বাচনে লড়তে ভালোবাসতাম, কিন্তু সংবিধানের শব্দচয়ন খুবই কঠোর।’ মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব কটি (৪৩৫টি) এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে মুখিয়ে আছে ডেমোক্রেটরা। বর্তমানে সেখানে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে রিপাবলিকানরা। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্রেটদের নতুন করে অন্তত তিনটি আসনে জয় পেতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আখতারুজ্জামান শতকোটি দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ, দায়মুক্তি দিলেন যুগ্মসচিব দেলোয়ার

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জিতলে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:১৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে যেকোনো বিল আটকে দিতে নিজের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটি অথবা উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসকে কীভাবে সামলাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তখন আমাকে মিস্টার ভেটো হতে হবে। আমি কোনোভাবেই তাদের দেশটা নষ্ট করতে দেব না।’

ট্রাম্প জানান, ডেমোক্রেটদের পাঠানো যেকোনো প্রস্তাবিত বিল তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবেন এবং একপর্যায়ে ভেটো ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তাদের আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠাতে থাকবে, আর আপনি তাতে ভেটো দিতে থাকবেন। এক বা দুই মাস ধরে তাদের সব প্রস্তাবে ভেটো খাওয়ার পর যখন তারা বুঝবে যে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে, তখন তারা নিজেরাই আপনার কাছে এসে আলোচনা করে সমঝোতা করবে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘তারপর কোনো একপর্যায়ে আমরা হয়তো একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। অতীতেও এমনটাই ঘটেছে, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়।’ তবে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, রিপাবলিকানরাই কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, যাতে তাঁকে এই পথে হাঁটতে না হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প এ পর্যন্ত মাত্র দুবার তাঁর ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। এর আগে প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল বা আইন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি বিলটির পক্ষে ভোট দেন, তাহলে প্রেসিডেন্টের সেই ভেটো বাতিল হয়ে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করার সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘সুযোগ থাকলে আমি আবারও নির্বাচনে লড়তে ভালোবাসতাম, কিন্তু সংবিধানের শব্দচয়ন খুবই কঠোর।’ মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব কটি (৪৩৫টি) এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে মুখিয়ে আছে ডেমোক্রেটরা। বর্তমানে সেখানে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে রিপাবলিকানরা। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্রেটদের নতুন করে অন্তত তিনটি আসনে জয় পেতে হবে।