ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইন্টারপোলের কাছে বেনজীরের অবস্থান জানতে চেয়ে পুলিশের চিঠি পীরগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৭৫ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশদ্ভূত তানভীর শাহনেওয়াজ কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত গাড়িচালক মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সিআই মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আহমেদ বাওয়ানী একাডেমিতে অনিয়মের অভিযোগ পরিচালক আল ফাত্তাহকে ঘিরে ৩ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ পূর্তে প্যারাডাইমের ফের দাপট, গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাচ্ছে একই প্রতিষ্ঠানের ঝুড়িতে আয়কর নথি জালিয়াতির অভিযোগে সহকারী কর কমিশনার মিতুর পদোন্নতি ৮ বছর স্থগিত
১,৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে মামুন বিশ্বাস

নিয়োগের আগেই প্রশ্ন, পেছনে পুরোনো অভিযোগ

এক হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস। তবে তাঁর নিয়োগ ঘিরেই উঠেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পরও যখন ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছিল, এমনকি প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনের সরকারি আদেশ (জিও) জারিই হয়নি, তখনই তাঁকে পূর্ণকালীন পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রকল্পটির প্রস্তাব প্রণয়ন ও সাজানোর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি গাড়ির অপব্যবহার, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, একনেকের শর্ত বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কেন এত বড় একটি প্রকল্পের পিডি নিয়োগ করা হলো? আর যে কর্মকর্তা প্রকল্পটির প্রস্তাব তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাকেই কেন পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হলো?
নথিপত্রের সময়ক্রম বলছে, ২০২৬ সালের ২২ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন পায়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং এর অর্থায়ন সম্পূর্ণ সরকারি।

একনেকের অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল সংশোধনের পাশাপাশি পরামর্শক, গাড়ি ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণসহ কয়েকটি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব ব্যয় অত্যাবশ্যক না হলে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না করার কথাও বলা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব জনবলের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অর্থাৎ একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পরও প্রকল্পটির ডিপিপি চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল না। বরং একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের প্রশাসনিক কাজ তখনো চলছিল।

এরপর ৪ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দিয়ে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সংশোধিত বাস্তবায়নকাল, একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র এবং যথাযথ স্বাক্ষরসহ পুনর্গঠিত ডিপিপি পাঠাতে বলা হয়।

কিন্তু এই চিঠির মাত্র আট দিনের মাথায়, ১২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পের পিডি নিয়োগের বিষয়টি আসে। এর পরদিন, ১৩ আগস্ট, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা-১ শাখা থেকে এলজিইডির ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসকে প্রকল্পটির পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অর্থাৎ ২২ জুলাই একনেকে প্রকল্প অনুমোদন, ৪ আগস্ট ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ, ১২ আগস্ট পিডি নিয়োগের সভা এবং ১৩ আগস্ট নিয়োগের প্রজ্ঞাপন—সবকিছুই ঘটেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। অথচ ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের জিও জারি হয়নি বলে নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে।

এই সময়ক্রমই নিয়োগের বৈধতা ও প্রশাসনিক সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ নেই। একনেকের অনুমোদন, এরপর একনেক উইং ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক আদেশ জারির পর পিডি নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে প্রশাসনিক আদেশ জারি হওয়ার আগে পিডি নিয়োগের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো সরকারি সংস্থায় প্রকল্প তৈরির সময় থেকেই একজন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য প্রকল্প পরিচালকের মতো করে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়। এর সুবিধা হলো, ভবিষ্যৎ পিডি শুরু থেকেই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা পান। তবে এর ঝুঁকিও রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা আগে থেকেই পিডি হওয়ার সম্ভাবনায় থাকলে ডিপিপি তৈরির সময় নিজের সুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে ডিপিপি প্রণয়নে পক্ষপাতের আশঙ্কা থাকে।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রচলিত পরিপত্র অনুযায়ী একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রশাসনিক আদেশ বা জিও জারি হয়। এরপর জিও জারির এক মাসের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পে জিও জারির আগেই পিডি নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকলে তা প্রচলিত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতারও জানিয়েছেন, বর্তমান পরিপত্র অনুযায়ী জিও জারির আগে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই নিয়ম মানতে গিয়ে অনেক প্রকল্পে পিডি নিয়োগ দিতে কয়েক মাস সময় লাগে। এতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়। এ কারণে পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এর খসড়া তৈরি হয়েছে।

তবে পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এ তথ্য বর্তমান নিয়মের ব্যতিক্রমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ করে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

মামুন বিশ্বাসকে দেওয়া নিয়োগের প্রজ্ঞাপনেও বলা হয়েছে, তাঁকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলিত ব্যয়ের অন্য কোনো প্রকল্পে তিনি দায়িত্বে থাকলে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে আগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি বা আরডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী বেতন-ভাতা, যানবাহন, লজিস্টিকসহ অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু এখানেও একটি প্রশ্ন রয়েছে। পিডি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির সময়ই যদি একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলতে থাকে, তাহলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা ‘অনুমোদিত ডিপিপি বা আরডিপিপির সংস্থান’ কোন চূড়ান্ত ডিপিপির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছিল?

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন—মামুন বিশ্বাস নিজেই কি প্রকল্পটির প্রস্তাব প্রণয়ন ও সাজানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি ও সাজানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তাকেই করা হয়েছে প্রকল্পটির পূর্ণকালীন পিডি। অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করতে হলে প্রকল্প প্রণয়নের সময় তাঁর দায়িত্ব কী ছিল, ডিপিপি তৈরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার নথি কী, কারা প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছেন এবং পিডি নিয়োগের সুপারিশের সভার কার্যবিবরণীতে কী যুক্তি দেখানো হয়েছে—এসব নথি যাচাই করা জরুরি।

কারণ একটি প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির সময় কাজের পরিধি, ব্যয়ের খাত, বাস্তবায়ন কৌশল, পরামর্শক নিয়োগ, গাড়ি ভাড়া, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় প্রস্তাব করা হয়। আর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একই কর্মকর্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এসব সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে একই ব্যক্তির প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দুই পর্যায়ে ভূমিকা থাকলে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।

মামুন আল রশিদও এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, কাউকে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা আর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া এক বিষয় নয়। প্রকল্প অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এর আগের অভিযোগের কারণে।
ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগের কথা প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে সপ্তাহে দুই দিন ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি মাসে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা জ্বালানি বাবদ ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, তাঁর পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় তিনি প্রতি সপ্তাহে বিমানযোগে যাতায়াত করেন। এ সময় তিনি নিজের দপ্তরের সরকারি গাড়ির পাশাপাশি অন্য দপ্তর—বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গাড়িও ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম, যিনি বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
বিমানের টিকিট বাবদ তাঁর সাপ্তাহিক ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা, মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। বলা হয়, সরকারি চাকরির পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। ফলে তাঁর আয় ও কথিত অতিরিক্ত ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ছিল, সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করতেন। এতে অফিসের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুযোগ পেতেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। দাবি করা হয়, মামুন বিশ্বাস একসময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী হিসেবে উপস্থাপন করেন বলেও দাবি করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ—অ্যাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদারের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন টেবিলে পড়ে থাকে। ঠিকাদারদের জিম্মি করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।
ঠিকাদারদের পাশাপাশি এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাঁর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। অফিসের গাড়িচালকসহ কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, মামুন বিশ্বাসের উচ্চপর্যায়ে, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই প্রভাবের কারণে তিনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো কাজ করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
ঠাকুরগাঁও এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলমকে বলেন, “স্যার (মামুন বিশ্বাস) হয়তো ভুল করে ফেলেছেন, বিষয়টি এবারের মতো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভালো হতো।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামুন বিশ্বাস সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, জবাবদিহিতার অভাব এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই অনেক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমানো সম্ভব।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সরকারি সম্পদের ব্যবহার সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য সব সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও জেলা পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটলে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এদিকে নতুন প্রকল্পে মামুন বিশ্বাসের নিয়োগের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এটি কেবল একজন কর্মকর্তার নিয়োগের প্রশ্ন নয়; বরং ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার সরকারি অর্থের প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া, ডিপিপি প্রণয়নে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা, প্রশাসনিক অনুমোদনের আগেই পিডি নিয়োগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে প্রকাশিত অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার যোগাযোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ১৭১ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৮৪২ দশমিক ৫২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কথা রয়েছে। পাশাপাশি ১৬টি সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এত বড় প্রকল্পে পিডির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দরপত্র, ঠিকাদারি কাজ, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের কাছে জবাবদিহির ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা রয়েছে।
আরও একটি বিষয় হলো, একনেকের অনুমোদনের মাত্র ২২ দিনের মধ্যে পিডি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের জিও জারি হয়নি। প্রকাশিত নথিভিত্তিক প্রতিবেদনে একই সময় ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলমান থাকার কথাও উঠে এসেছে।
এ অবস্থায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়—একনেকের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই পিডি নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো; জিও জারির আগে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিধান বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়েছে; পিডি নিয়োগের সময় চূড়ান্ত অনুমোদিত ডিপিপি কোনটি ছিল; মামুন বিশ্বাস প্রকল্পটির ডিপিপি প্রণয়ন বা সাজানোর সঙ্গে কতটা যুক্ত ছিলেন; এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনো যাচাই বা তদন্ত হয়েছিল কি না।
প্রকল্পটির পিডি ও এলজিইডির ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানান। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারপোলের কাছে বেনজীরের অবস্থান জানতে চেয়ে পুলিশের চিঠি

১,৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে মামুন বিশ্বাস

নিয়োগের আগেই প্রশ্ন, পেছনে পুরোনো অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৩২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস। তবে তাঁর নিয়োগ ঘিরেই উঠেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পরও যখন ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছিল, এমনকি প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনের সরকারি আদেশ (জিও) জারিই হয়নি, তখনই তাঁকে পূর্ণকালীন পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রকল্পটির প্রস্তাব প্রণয়ন ও সাজানোর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি গাড়ির অপব্যবহার, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, একনেকের শর্ত বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কেন এত বড় একটি প্রকল্পের পিডি নিয়োগ করা হলো? আর যে কর্মকর্তা প্রকল্পটির প্রস্তাব তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাকেই কেন পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হলো?
নথিপত্রের সময়ক্রম বলছে, ২০২৬ সালের ২২ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন পায়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং এর অর্থায়ন সম্পূর্ণ সরকারি।

একনেকের অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল সংশোধনের পাশাপাশি পরামর্শক, গাড়ি ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণসহ কয়েকটি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব ব্যয় অত্যাবশ্যক না হলে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না করার কথাও বলা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব জনবলের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অর্থাৎ একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পরও প্রকল্পটির ডিপিপি চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল না। বরং একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের প্রশাসনিক কাজ তখনো চলছিল।

এরপর ৪ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দিয়ে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সংশোধিত বাস্তবায়নকাল, একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র এবং যথাযথ স্বাক্ষরসহ পুনর্গঠিত ডিপিপি পাঠাতে বলা হয়।

কিন্তু এই চিঠির মাত্র আট দিনের মাথায়, ১২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পের পিডি নিয়োগের বিষয়টি আসে। এর পরদিন, ১৩ আগস্ট, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা-১ শাখা থেকে এলজিইডির ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসকে প্রকল্পটির পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অর্থাৎ ২২ জুলাই একনেকে প্রকল্প অনুমোদন, ৪ আগস্ট ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ, ১২ আগস্ট পিডি নিয়োগের সভা এবং ১৩ আগস্ট নিয়োগের প্রজ্ঞাপন—সবকিছুই ঘটেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। অথচ ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের জিও জারি হয়নি বলে নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে।

এই সময়ক্রমই নিয়োগের বৈধতা ও প্রশাসনিক সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ নেই। একনেকের অনুমোদন, এরপর একনেক উইং ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক আদেশ জারির পর পিডি নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে প্রশাসনিক আদেশ জারি হওয়ার আগে পিডি নিয়োগের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো সরকারি সংস্থায় প্রকল্প তৈরির সময় থেকেই একজন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য প্রকল্প পরিচালকের মতো করে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়। এর সুবিধা হলো, ভবিষ্যৎ পিডি শুরু থেকেই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা পান। তবে এর ঝুঁকিও রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা আগে থেকেই পিডি হওয়ার সম্ভাবনায় থাকলে ডিপিপি তৈরির সময় নিজের সুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে ডিপিপি প্রণয়নে পক্ষপাতের আশঙ্কা থাকে।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রচলিত পরিপত্র অনুযায়ী একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রশাসনিক আদেশ বা জিও জারি হয়। এরপর জিও জারির এক মাসের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পে জিও জারির আগেই পিডি নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকলে তা প্রচলিত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতারও জানিয়েছেন, বর্তমান পরিপত্র অনুযায়ী জিও জারির আগে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই নিয়ম মানতে গিয়ে অনেক প্রকল্পে পিডি নিয়োগ দিতে কয়েক মাস সময় লাগে। এতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়। এ কারণে পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এর খসড়া তৈরি হয়েছে।

তবে পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এ তথ্য বর্তমান নিয়মের ব্যতিক্রমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ করে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

মামুন বিশ্বাসকে দেওয়া নিয়োগের প্রজ্ঞাপনেও বলা হয়েছে, তাঁকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলিত ব্যয়ের অন্য কোনো প্রকল্পে তিনি দায়িত্বে থাকলে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে আগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি বা আরডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী বেতন-ভাতা, যানবাহন, লজিস্টিকসহ অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু এখানেও একটি প্রশ্ন রয়েছে। পিডি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির সময়ই যদি একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলতে থাকে, তাহলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা ‘অনুমোদিত ডিপিপি বা আরডিপিপির সংস্থান’ কোন চূড়ান্ত ডিপিপির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছিল?

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন—মামুন বিশ্বাস নিজেই কি প্রকল্পটির প্রস্তাব প্রণয়ন ও সাজানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি ও সাজানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তাকেই করা হয়েছে প্রকল্পটির পূর্ণকালীন পিডি। অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করতে হলে প্রকল্প প্রণয়নের সময় তাঁর দায়িত্ব কী ছিল, ডিপিপি তৈরির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার নথি কী, কারা প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছেন এবং পিডি নিয়োগের সুপারিশের সভার কার্যবিবরণীতে কী যুক্তি দেখানো হয়েছে—এসব নথি যাচাই করা জরুরি।

কারণ একটি প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির সময় কাজের পরিধি, ব্যয়ের খাত, বাস্তবায়ন কৌশল, পরামর্শক নিয়োগ, গাড়ি ভাড়া, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় প্রস্তাব করা হয়। আর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একই কর্মকর্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এসব সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে একই ব্যক্তির প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দুই পর্যায়ে ভূমিকা থাকলে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।

মামুন আল রশিদও এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, কাউকে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা আর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া এক বিষয় নয়। প্রকল্প অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এর আগের অভিযোগের কারণে।
ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগের কথা প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে সপ্তাহে দুই দিন ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি মাসে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা জ্বালানি বাবদ ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, তাঁর পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় তিনি প্রতি সপ্তাহে বিমানযোগে যাতায়াত করেন। এ সময় তিনি নিজের দপ্তরের সরকারি গাড়ির পাশাপাশি অন্য দপ্তর—বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গাড়িও ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম, যিনি বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
বিমানের টিকিট বাবদ তাঁর সাপ্তাহিক ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা, মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। বলা হয়, সরকারি চাকরির পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। ফলে তাঁর আয় ও কথিত অতিরিক্ত ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ছিল, সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করতেন। এতে অফিসের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুযোগ পেতেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। দাবি করা হয়, মামুন বিশ্বাস একসময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী হিসেবে উপস্থাপন করেন বলেও দাবি করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ—অ্যাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ঠিকাদারের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন টেবিলে পড়ে থাকে। ঠিকাদারদের জিম্মি করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।
ঠিকাদারদের পাশাপাশি এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাঁর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। অফিসের গাড়িচালকসহ কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, মামুন বিশ্বাসের উচ্চপর্যায়ে, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই প্রভাবের কারণে তিনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো কাজ করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
ঠাকুরগাঁও এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলমকে বলেন, “স্যার (মামুন বিশ্বাস) হয়তো ভুল করে ফেলেছেন, বিষয়টি এবারের মতো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভালো হতো।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামুন বিশ্বাস সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, জবাবদিহিতার অভাব এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই অনেক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি কমানো সম্ভব।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সরকারি সম্পদের ব্যবহার সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য সব সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও জেলা পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটলে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এদিকে নতুন প্রকল্পে মামুন বিশ্বাসের নিয়োগের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এটি কেবল একজন কর্মকর্তার নিয়োগের প্রশ্ন নয়; বরং ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার সরকারি অর্থের প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া, ডিপিপি প্রণয়নে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা, প্রশাসনিক অনুমোদনের আগেই পিডি নিয়োগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে প্রকাশিত অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার যোগাযোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ১৭১ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৮৪২ দশমিক ৫২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কথা রয়েছে। পাশাপাশি ১৬টি সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এত বড় প্রকল্পে পিডির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দরপত্র, ঠিকাদারি কাজ, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের কাছে জবাবদিহির ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা রয়েছে।
আরও একটি বিষয় হলো, একনেকের অনুমোদনের মাত্র ২২ দিনের মধ্যে পিডি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের জিও জারি হয়নি। প্রকাশিত নথিভিত্তিক প্রতিবেদনে একই সময় ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলমান থাকার কথাও উঠে এসেছে।
এ অবস্থায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়—একনেকের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই পিডি নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো; জিও জারির আগে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিধান বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়েছে; পিডি নিয়োগের সময় চূড়ান্ত অনুমোদিত ডিপিপি কোনটি ছিল; মামুন বিশ্বাস প্রকল্পটির ডিপিপি প্রণয়ন বা সাজানোর সঙ্গে কতটা যুক্ত ছিলেন; এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনো যাচাই বা তদন্ত হয়েছিল কি না।
প্রকল্পটির পিডি ও এলজিইডির ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানান। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।