জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী কর কমিশনার (সাময়িক বরখাস্তকৃত ও বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মিজ জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর পদোন্নতি আগামী ৮ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ (১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কর-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মিজ জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু (আইডি: ২০০৬৯৭) কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৩-এ সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের (টিআইএন: ৪৮৩৩৮৪২২৩৯১৯) আয়কর নথির মূল রেকর্ডপত্র পরিবর্তন করে নতুন রেকর্ড সংযোজন করেন। এর বিনিময়ে তিনি ওই করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি আয়কর আইনজীবী মো. ওবায়দুল হক সরকার ও তাঁর সহকারী সোহেলের কাছ থেকে নগদ ৩৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া তিনি পুরোনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ ও আপীল-ট্রাইব্যুনাল আদেশসহ বিভিন্ন মূল নথি আইনজীবীদের নিকট হস্তান্তর করেন।
এই অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে একটি বিভাগীয় মামলা (মামলা নং- ০১/২০১৬) রুজু করা হয়েছিল এবং ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ তাঁর ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বিধি ৩(ঘ) অনুযায়ী আনীত ‘দুর্নীতি পরায়ণ’-এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদন এবং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তাঁকে ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৮ বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব।
উল্লেখ্য, এসএ গ্রুপের কর্ণধার ও এসএ পরিবহনের মালিক সালাহ উদ্দিন আহমেদ ১২ কর বর্ষের কর ফাইল সম্পূর্ণ করে সাজিয়ে ২৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার আয়ে মোটা অঙ্কের করফাঁকি দিতে ১ কোটি টাকার ঘুষ চুক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। তার আয়কর আইনজীবী ওবায়দুল হক সরকার চুক্তির পর জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুকে ঘুষের প্রথম কিস্তির ৩৮ লাখ টাকাও প্রদান করেন। এর বিনিময়ে মিতু ১২ করবর্ষের আয়কর রিটার্নসহ স্পর্শকাতর নথি ওবায়দুলের হাতে তুলে দেন।
এই বিষয়ে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের তৎকালীন সচিব মো. আবদুর রহমান খানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
ওই সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, কর অঞ্চল-৫, ঢাকা-এ কর্মরত সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু বিপুল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের মনোনীত প্রতিনিধিকে (আয়কর আইনজীবী) গুরুত্বপূর্ণ আয়কর নথিপত্র সরবরাহ করেন। এসব নথির মধ্যে পূর্ববর্তী কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল ও ট্রাইব্যুনাল আদেশসহ বিভিন্ন গোপন নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি-১২ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে ওই সময়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আকারে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















