আমার টাকা-পয়সা সব নিয়ে গেছে, আমাকে ৭-৮ জন লোক বেঁধে রেখেছে”—মুঠোফোনের ওপাশ থেকে স্বামী মিজানুর রহমান ওরফে ভুট্টুর এমন আতঙ্কিত কণ্ঠ শোনার পর থেকেই উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছে তার পরিবার। সেই ফোনের পর কেটে গেছে সাত দিন। কিন্তু স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা স্ত্রী ও সন্তানরা।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপারী কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে বোরহানগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন মিজানুর রহমান ওরফে ভুট্টু। বোরহানগঞ্জ বাজারের কামাল নামে এক গরু ব্যবসায়ী টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে সেখানে যেতে বলেছিলেন বলে পরিবারের দাবি। একই সঙ্গে আরও কিছু গরু কেনা এবং পরে তাদের বাড়িতে যাওয়ার কথাও ছিল।
কিন্তু পরদিন শুক্রবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের কাছে আসে ভুট্টুর সেই শেষ ফোনকল। ফোনে তিনি জানান, তার টাকা-পয়সা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৭ থেকে ৮ জন লোক তাকে বেঁধে রেখেছে বলেও জানান তিনি। এতটুকু বলার পরই হঠাৎ ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এরপর থেকে ভুট্টুর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। মোবাইল ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বামীর শেষ কথাগুলো মনে করে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা।
ঘটনার পর স্বজনরা দ্রুত তজুমদ্দিন থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। পরিবারের দাবি, সাত দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভুট্টুর সন্ধান না পাওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তজুমদ্দিন থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর নিখোঁজ ভুট্টুর মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার অবস্থান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় পাওয়া যায়। পরে ট্র্যাকিংয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন হয়ে চর মন্দালিয়া, কবিরহাট এলাকায় পাওয়া যায়।
ওসি বলেন, নিখোঁজ ভুট্টুকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বাদীর সঙ্গেও পুলিশের যোগাযোগ রয়েছে।
এদিকে, স্বামীর অপেক্ষায় দিন গুনছেন ভুট্টুর স্ত্রী। কখন দরজায় কড়া নাড়বে স্বামী—সেই অপেক্ষাতেই যেন প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে পরিবারের।
পরিবারের দাবি, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মিজানুর রহমান ওরফে ভুট্টুকে জীবিত উদ্ধার করা হোক। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ফোনে তাকে ৭-৮ জন ব্যক্তি বেঁধে রাখার অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
ভোলা প্রতিনিধি 





















