ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, সংবাদকর্মীর স্ত্রী টুম্পাসহ আহত ৩ কালু-আকবর গংদের বিরুদ্ধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ গোপালগঞ্জে সরকারি স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক মোস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম আনায় মারধরের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু এমপির বক্তব্যে ইউএনওর হাততালি, সাংবাদিককে বললেন ‘ভাইরাল করে দেন’ মিথ্যাচার করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কে শাহরিয়ার আল হাসানের শতকোটি টাকার দুর্নীতি রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় ওসির বাকবিতণ্ডা, পুলিশের জিডি কমলনগরে সাবেক স্ত্রীর ভিডিও প্রকাশ, মারধরের পর বৃদ্ধের মৃত্যু বিপিসির জিএম মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে মিলেছে জালিয়াতির প্রমাণ, চলছে গ্রেফতার ও সম্পদ ক্রোকের প্রস্তুতি

মির্জাপুর ভূমি অফিসে রিনা রানীর দাপট, ঘুষ-নথি জালিয়াতির অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (তহসিল অফিস) অফিস সহায়ক রিনা রানী দেবনাথের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ লেনদেন, নথি জালিয়াতি ও নামজারি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর একই অফিসে কর্মরত থেকে ১৬টি মৌজার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিনা রানী সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানের মূল ভলিউম বই ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রেখে পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সেবাগ্রহীতাদের তা সরবরাহ করেন। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ১,১৭০ টাকার নামজারি ফির স্থলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ফাইল প্রসেসিং বাবদ আরও ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেন। ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২,০০০ টাকা নিয়ে মাত্র ৫২ টাকার রসিদ প্রদান, ভুয়া নোটিশ জারি, অফিসের গোপনীয় নথি টাকার বিনিময়ে সরবরাহ এবং নিজের স্বামীর মাধ্যমে দলিল সংক্রান্ত কাজ করাতে সেবাগ্রহীতাদের চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনা শতভাগ সত্য। আমরা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভূমি অফিসে গেলে পদে পদে হয়রানির শিকার হই। রিনা রানী দীর্ঘ ১৩ বছর একই টেবিলে থেকে পুরো সেবা ব্যবস্থাকে জিম্মি করে ফেলেছেন। আমার কাছ থেকেও বহু টাকা নিয়েছেন তিনি। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রিনা রানী দেবনাথ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন, “আমাকে এখান থেকে সরানোর জন্য অনেকে নানাভাবে লেখালেখি করছেন। আপনারা নিজেরাই অভিযোগ দিয়ে আমাকে সরাই দেন। ডিসি স্যার আমাকে মৌখিকভাবে এখানে রেখেছিলেন। আমি ১৩ বছর ধরে আছি নাকি সাড়ে তিন বছর, তা আমার অফিস ভালো জানে। আমি অভিযোগকারী রফিকুলকে চিনি না। এগুলো কোনো মহুরি চক্রের কাজ।” নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান জানান, এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি, তাই বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এমনকি জেলা প্রশাসক বরাবর কোনো অভিযোগ গেছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগ পেয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, সংবাদকর্মীর স্ত্রী টুম্পাসহ আহত ৩

মির্জাপুর ভূমি অফিসে রিনা রানীর দাপট, ঘুষ-নথি জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৩২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (তহসিল অফিস) অফিস সহায়ক রিনা রানী দেবনাথের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ লেনদেন, নথি জালিয়াতি ও নামজারি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর একই অফিসে কর্মরত থেকে ১৬টি মৌজার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিনা রানী সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ানের মূল ভলিউম বই ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রেখে পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সেবাগ্রহীতাদের তা সরবরাহ করেন। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ১,১৭০ টাকার নামজারি ফির স্থলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ফাইল প্রসেসিং বাবদ আরও ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেন। ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২,০০০ টাকা নিয়ে মাত্র ৫২ টাকার রসিদ প্রদান, ভুয়া নোটিশ জারি, অফিসের গোপনীয় নথি টাকার বিনিময়ে সরবরাহ এবং নিজের স্বামীর মাধ্যমে দলিল সংক্রান্ত কাজ করাতে সেবাগ্রহীতাদের চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনা শতভাগ সত্য। আমরা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভূমি অফিসে গেলে পদে পদে হয়রানির শিকার হই। রিনা রানী দীর্ঘ ১৩ বছর একই টেবিলে থেকে পুরো সেবা ব্যবস্থাকে জিম্মি করে ফেলেছেন। আমার কাছ থেকেও বহু টাকা নিয়েছেন তিনি। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রিনা রানী দেবনাথ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন, “আমাকে এখান থেকে সরানোর জন্য অনেকে নানাভাবে লেখালেখি করছেন। আপনারা নিজেরাই অভিযোগ দিয়ে আমাকে সরাই দেন। ডিসি স্যার আমাকে মৌখিকভাবে এখানে রেখেছিলেন। আমি ১৩ বছর ধরে আছি নাকি সাড়ে তিন বছর, তা আমার অফিস ভালো জানে। আমি অভিযোগকারী রফিকুলকে চিনি না। এগুলো কোনো মহুরি চক্রের কাজ।” নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান জানান, এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি, তাই বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এমনকি জেলা প্রশাসক বরাবর কোনো অভিযোগ গেছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগ পেয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।