ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনবিআর কর কমিশনার রাকিবের বিরুদ্ধে ৩২৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের মামলার পরও বহাল এএসপি, জানেন না এসপি-ডিআইজি মুকসুদপুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের পরিবারের নামে ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ দুবাইয়ে এইচবিএম ইকবালের ৭ বিলাসবহুল সম্পত্তি নিয়ে এনবিআরের অনুসন্ধান বরগুনার বেতাগীতে সেই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন বড়লেখায় সিন্ডিকেট ভাঙায় হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিল পুনঃনিলামে, রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিআরডিবি সূত্র জানায়, দারিদ্র্য নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠ সংগঠক সাইদুর রহমান নাজমুল ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা অর্থ তিনি অফিসে জমা দেননি। পরপর দুটি নোটিশ দেওয়ার পরও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় ১২ জানুয়ারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুর রহমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের ১২টি সমিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সদস্যদের পাস বইয়ের সঙ্গে হিসাবের গরমিল পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের-তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের রেফারেন্সে এবং মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সুপারিশে চাকরি পাওয়ায় এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণে মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপপরিচালক সাদেকুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি মাঠ সংগঠক সাইদুরের নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন।

বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমান শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০১৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান মামলার আসামি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারি বিধান অনুযায়ী ডিএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করছেন বলে জানান।

তবে এসব কারণেই মাঠ সংগঠকের কাছ থেকে অর্থ আদায় কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাইদুর রহমান নাজমুল বলেন, ‘টাকা পাওনা আছে, আমি পরিশোধ করে দেব। হেড অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

বাউফল বিআরডিবি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা (ইরেসপো) নাজমুন নাহার ইরানি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পটুয়াখালী জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক হাসানুল হক মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি হেড অফিস সরাসরি মনিটরিং করছে। পরে জেনেছি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ইরেসপো হেড অফিসের উপপ্রকল্প পরিচালক এ এস এম সোলেমান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিআরডিবি সূত্র জানায়, দারিদ্র্য নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠ সংগঠক সাইদুর রহমান নাজমুল ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা অর্থ তিনি অফিসে জমা দেননি। পরপর দুটি নোটিশ দেওয়ার পরও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় ১২ জানুয়ারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুর রহমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের ১২টি সমিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সদস্যদের পাস বইয়ের সঙ্গে হিসাবের গরমিল পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের-তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের রেফারেন্সে এবং মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সুপারিশে চাকরি পাওয়ায় এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণে মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপপরিচালক সাদেকুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি মাঠ সংগঠক সাইদুরের নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন।

বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমান শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০১৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান মামলার আসামি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারি বিধান অনুযায়ী ডিএমপি কমিশনারের কাছে আবেদন করছেন বলে জানান।

তবে এসব কারণেই মাঠ সংগঠকের কাছ থেকে অর্থ আদায় কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাইদুর রহমান নাজমুল বলেন, ‘টাকা পাওনা আছে, আমি পরিশোধ করে দেব। হেড অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

বাউফল বিআরডিবি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা (ইরেসপো) নাজমুন নাহার ইরানি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পটুয়াখালী জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক হাসানুল হক মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি হেড অফিস সরাসরি মনিটরিং করছে। পরে জেনেছি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ইরেসপো হেড অফিসের উপপ্রকল্প পরিচালক এ এস এম সোলেমান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’