খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম, বয়স জালিয়াতি, বিধিবহির্ভূত নিয়োগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অডিট আপত্তি থাকলেও এসবের তোয়াক্কা না করে নিয়োগ কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এলেও অনিয়মের অভিযোগ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বের হতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। একের পর এক বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, বয়সসীমা লঙ্ঘন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তির পরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিয়োগের আগেই বেতন চালু, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বয়স নিয়ে প্রশ্ন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগ পান মোহাম্মদ সাহিদ আলী। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল ইসলামের ইস্যু করা নিয়োগপত্রে বলা হয়, নিয়োগটি ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, সাহিদ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পাওয়ার তিন দিন আগ থেকেই নিয়োগ কার্যকর দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে নিয়োগের বৈধতা ও বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত বয়সসীমার চেয়েও সাহিদ আলীর বয়স বেশি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বয়স বেশি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, বয়স বেশি হলেও তাঁর অন্যান্য বিশেষ যোগ্যতা রয়েছে।
সাহিদ আলীর নিয়োগ ও বয়সসংক্রান্ত বিষয়ে অডিট আপত্তি রয়েছে বলেও জানা গেছে।
দুদকের মামলার আসামি যেভাবে হলেন প্রধান প্রকৌশলী
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৌশল দপ্তরের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার এস এম মনিরুজ্জামানকে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাও চলমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব তথ্য গোপন করে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁকে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এস এম মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পরে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের আপত্তির মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগেও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জহুরুল জান্নাত প্রিয়াকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়োগের বৈধতা নিয়ে ইউজিসি আপত্তি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জহুরুল জান্নাত প্রিয়া ইউজিসির আপত্তির কথা স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনা থাকায় তাঁর নিয়োগ যথাযথ হয়েছে।
অন্যদিকে, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে ড. ওয়াহেদা রহমান আনসারীর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিজ্ঞপ্তির শর্ত ও বয়সসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর নিয়োগের বিষয়ে ইউজিসির আপত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপত্তি ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আফসানা ইয়াসমিন, কারিমুন্নেসা, জাতিয়া সুলতানা, রিমু দাস, আরিফুল ইসলাম, মাহমুবা মিশু, আসমাইল হুসনা, ফৌজিয়া বাহার, মৌসুমী আক্তার সুমি এবং নুসরাত মুমুকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বক্তব্য মেলেনি উপাচার্যের
এসব নিয়োগ ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















