বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সতীর্থদের নিয়ে আবেগঘন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা দলের ঐক্য, সংগ্রাম ও অর্জনের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তার বার্তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও খুঁজে পাচ্ছেন সমর্থকেরা।
মাঠে নামার আগে শেয়ার করা ছবিতে আর্জেন্টিনা দলের সব ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত অন্য সদস্যদের দেখা যায়। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকদের মন্তব্য ও শুভকামনায় ভরে যায় মেসির ইনস্টাগ্রাম।
ছবির ক্যাপশনে মেসি লিখেছেন, ‘একটা পরিবার। গত কিছু বছরে কয়েকটা খেতাব জয়ই শুধু নয়, পুরো যাত্রাপথটাই ছিল অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিনের পথচলা, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো-সব কিছুই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমরা। আমার প্রত্যেক সতীর্থ, দলের সব টেকনিক্যাল স্টাফ এবং সেই সব মানুষকে ধন্যবাদ, যারা আমাদের জাতীয় দলকে পরিবারের মতো ধরে রাখতে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘রবিবার যা-ই হোক না কেন, এই দলটা এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে, যেটা আমরা কখনো ভুলব না। গল্পটা কেউ মুছে দিতেও পারবে না।’
ফাইনালের আগে সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। সেমিফাইনালে জাতীয় সংগীত বেজে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমরা অনুভব করতে পারছিলাম। জানি, সমর্থকরা যেকোনো ম্যাচের থেকে বেশি ওই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। প্রথমত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। দ্বিতীয়ত, জিততে পারলে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর তাৎপর্য অপরিসীম।’
সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের কথাও তুলে ধরেন মেসি। তিনি লেখেন, ‘আমি জানি, আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা খুশি হয়েছে। আমার মা, পরিবারের অন্যরা আমাকে মানুষের উদ্যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনাবাসীকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত।
বিশ্বকাপ ফাইনালকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। মেসির ভাষায়, ‘এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর অনুশীলন করেছি। নিজেকে শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখতে সর্বস্ব দিয়েছি। এই মুহূর্তে শুধু উপভোগ করতে চাই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত বিশ্বকাপ জয় বা অন্য কোনো ট্রফির কথা বলছি না। এই দল সব সময় নিজেদের সেরাটাই দেয়। এই দল কারও কাছে ঋণী নয়। আমরা কখনো চেষ্টা করা বন্ধ করি না। নিজেদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি।’
ক্রীড়া ডেস্ক 

























