ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুমরাহ’র সবচেয়ে বাজে আইপিএল আসর, কারণ খুঁজছেন বিশ্লেষকরা

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৩ বার পড়া হয়েছে

ভুলে যাওয়ার মতো এক আইপিএল আসর পার করছেন ভারতীয় তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। গতকাল (বুধবার) সানরাইজার্স হায়রাবাদের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হারের ম্যাচেও তিনি বেশ খরুচে ছিলেন। ৪ ওভারে ৫৪ রান দিলেও ছিলেন উইকেটশূন্য। তার স্লো বল সহজেই সীমানাছাড়া করেছেন অভিষেক শর্মা। ট্রাভিস হেডও ৯৯ মিটার ছক্কা হাঁকিয়েছেন বুমরাহ’র বলে। ফলে পাওয়ার প্লের ২ ওভারেই তিনি ৩২ রান দিয়েছেন।

এর আগে আইপিএলের পাওয়ার প্লেতে কখনোই এত রান খরচের নজির নেই ডানহাতি এই তারকা পেসারের। পরবর্তী স্পেল করতে এসে হেইনরিখ ক্লাসেনের হাতে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছয় হজম করেছেন বুমরাহ। তার স্লোয়ার বল স্কয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে খেলেছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি। বুমরাহ’র ইয়র্কার বল লং-অফের ওপর দিয়ে নো-লুক শটে ছয় মেরেছেন তরুণ ব্যাটার সলিল অরোরাও। সবমিলিয়ে ম্যাচে পাঁচটি ছক্কা হজমের পর আইপিএলে নিজের তৃতীয় সর্বোচ্চ খরুচে দিন দেখলেন বুমরাহ। যদিও ২৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হায়দরাবাদের ব্যাটাররা মুম্বাইয়ের কোনো বোলারকেই ছাড় দেননি।

আইপিএলের চলমান আসরে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে বুমরাহর পরিসংখ্যানটা তার নামের সঙ্গে কোনোভাবেই মানানসই নয়। ৮ ম্যাচে শিকার করেছেন মোটে ২ উইকেট। উইকেটপ্রতি দিয়েছেন ১৩২ রান, বোলিং ইকোনমি ৮.৮০। অথচ তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বোলিং ইকোনমি ৭.৩৩ এবং গড় ২৩.২১। যদিও বিগত আসরগুলোয় যখন অন্যান্য বোলাররা সমানে রান বিলাতেন, তখনও ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল বুমরাহ। চলতি আসরে তার গড় গতিও কমে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ১৩২.১ কিলোমিটার।

বুমরাহ’র বোলিং দেখে নিজের মতো করে বিশ্লেষণ হাজির করেছেন সাবেক ভারতীয় স্পিন অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার মতে, শুধু উইকেট না পাওয়াকে সমস্যা মনে করা ভুল। ইয়র্কার বোলিংয়ে রান আটকে রাখা, বিশেষ করে ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামের মতো মাঠে উইকেট নেওয়ার চেয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক ইউনিট হিসেবে জুটি বেঁধে বোলিং করার ধারণাটি অবমূল্যায়িত থেকে গেছে।

ক্রমান্বয়ে স্লোয়ার বলে জোর বাড়াচ্ছেন বুমরাহ। এ প্রসঙ্গে আরেক সাবেক ভারতীয় তারকা ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার ইরফান পাঠান বলছেন, ‘তার ফর্ম নিয়ে বড় ভাবনার বিষয় নেই। তবে চলতি মৌসুমে তার গড় গতি ১৩০ কিলোমিটারের আশপাশে ঘুরছে। যদি সে আরও বেশি গতিময় বল করে এবং স্লোয়ার বলের পরিমাণ কমায় তাহলে ভালো ফলাফল পেতে পারে। এটি খুবই সহজ সমাধান, বুমরাহ’র জন্য কোচের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে আসলে কী হচ্ছে।’

যেকোনো ক্রিকেটারের খারাপ সময় যায় বলে মন্তব্য করেছেন মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ড, ‘যখন কোনো ক্রিকেটার ভালো করতে পারে না, তখন আমরা তার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় বিশ্লেষণ করি। জাসপ্রিত বুমরাহ’র ক্ষেত্রেও ব্যত্যয় ঘটেনি। সে বছরের পর বছর ধরে এটা করে আসছে। মানুষ হিসেবে তার ভুল হতে পারে, ভালো দিন না–ও যেতে পারে, যা স্থায়ী হতে পারে দুয়েক মাসও। আমার মতে সে তার ভালো পারফরম্যান্সের কথা একটু স্মরণ করতে পারে, আমরা যদিও বর্তমানে থাকার চেষ্টা করছি এবং যেখানে সে কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নেই। তবে এখনও সে মুম্বাই এবং ভারতের নম্বর ওয়ান বোলার।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বুমরাহ’র সবচেয়ে বাজে আইপিএল আসর, কারণ খুঁজছেন বিশ্লেষকরা

আপডেট সময় ০৩:৩২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ভুলে যাওয়ার মতো এক আইপিএল আসর পার করছেন ভারতীয় তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। গতকাল (বুধবার) সানরাইজার্স হায়রাবাদের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হারের ম্যাচেও তিনি বেশ খরুচে ছিলেন। ৪ ওভারে ৫৪ রান দিলেও ছিলেন উইকেটশূন্য। তার স্লো বল সহজেই সীমানাছাড়া করেছেন অভিষেক শর্মা। ট্রাভিস হেডও ৯৯ মিটার ছক্কা হাঁকিয়েছেন বুমরাহ’র বলে। ফলে পাওয়ার প্লের ২ ওভারেই তিনি ৩২ রান দিয়েছেন।

এর আগে আইপিএলের পাওয়ার প্লেতে কখনোই এত রান খরচের নজির নেই ডানহাতি এই তারকা পেসারের। পরবর্তী স্পেল করতে এসে হেইনরিখ ক্লাসেনের হাতে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছয় হজম করেছেন বুমরাহ। তার স্লোয়ার বল স্কয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে খেলেছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি। বুমরাহ’র ইয়র্কার বল লং-অফের ওপর দিয়ে নো-লুক শটে ছয় মেরেছেন তরুণ ব্যাটার সলিল অরোরাও। সবমিলিয়ে ম্যাচে পাঁচটি ছক্কা হজমের পর আইপিএলে নিজের তৃতীয় সর্বোচ্চ খরুচে দিন দেখলেন বুমরাহ। যদিও ২৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হায়দরাবাদের ব্যাটাররা মুম্বাইয়ের কোনো বোলারকেই ছাড় দেননি।

আইপিএলের চলমান আসরে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে বুমরাহর পরিসংখ্যানটা তার নামের সঙ্গে কোনোভাবেই মানানসই নয়। ৮ ম্যাচে শিকার করেছেন মোটে ২ উইকেট। উইকেটপ্রতি দিয়েছেন ১৩২ রান, বোলিং ইকোনমি ৮.৮০। অথচ তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বোলিং ইকোনমি ৭.৩৩ এবং গড় ২৩.২১। যদিও বিগত আসরগুলোয় যখন অন্যান্য বোলাররা সমানে রান বিলাতেন, তখনও ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল বুমরাহ। চলতি আসরে তার গড় গতিও কমে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ১৩২.১ কিলোমিটার।

বুমরাহ’র বোলিং দেখে নিজের মতো করে বিশ্লেষণ হাজির করেছেন সাবেক ভারতীয় স্পিন অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার মতে, শুধু উইকেট না পাওয়াকে সমস্যা মনে করা ভুল। ইয়র্কার বোলিংয়ে রান আটকে রাখা, বিশেষ করে ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামের মতো মাঠে উইকেট নেওয়ার চেয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক ইউনিট হিসেবে জুটি বেঁধে বোলিং করার ধারণাটি অবমূল্যায়িত থেকে গেছে।

ক্রমান্বয়ে স্লোয়ার বলে জোর বাড়াচ্ছেন বুমরাহ। এ প্রসঙ্গে আরেক সাবেক ভারতীয় তারকা ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার ইরফান পাঠান বলছেন, ‘তার ফর্ম নিয়ে বড় ভাবনার বিষয় নেই। তবে চলতি মৌসুমে তার গড় গতি ১৩০ কিলোমিটারের আশপাশে ঘুরছে। যদি সে আরও বেশি গতিময় বল করে এবং স্লোয়ার বলের পরিমাণ কমায় তাহলে ভালো ফলাফল পেতে পারে। এটি খুবই সহজ সমাধান, বুমরাহ’র জন্য কোচের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে আসলে কী হচ্ছে।’

যেকোনো ক্রিকেটারের খারাপ সময় যায় বলে মন্তব্য করেছেন মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ড, ‘যখন কোনো ক্রিকেটার ভালো করতে পারে না, তখন আমরা তার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় বিশ্লেষণ করি। জাসপ্রিত বুমরাহ’র ক্ষেত্রেও ব্যত্যয় ঘটেনি। সে বছরের পর বছর ধরে এটা করে আসছে। মানুষ হিসেবে তার ভুল হতে পারে, ভালো দিন না–ও যেতে পারে, যা স্থায়ী হতে পারে দুয়েক মাসও। আমার মতে সে তার ভালো পারফরম্যান্সের কথা একটু স্মরণ করতে পারে, আমরা যদিও বর্তমানে থাকার চেষ্টা করছি এবং যেখানে সে কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নেই। তবে এখনও সে মুম্বাই এবং ভারতের নম্বর ওয়ান বোলার।’