ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দুই পরিচালক (চঃ দাঃ) এর খুঁটির জোর কোথায়? এখনো বহাল তবিয়তে শফিকুল ইসলাম ও নাঈম গোলদার তেহরানে শতাব্দী প্রাচীন চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা ‘আপনারা কাদা ছোঁড়াছুড়ি করবেন না’ প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে অফিস না করে সচিবালয়ে এসে অফিস করেন চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি, গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল ৩৮৭ টাকা শত্রুরা স্থল হামলার চেষ্টা করলে একজনও যেন বাঁচতে না পারে মায়ের দাফন,ভাইয়ে’র জানাযায় দাফন,যেতে পারেননি ১৭ বছর নির্যাতিত বিএনপি নেতা মনোয়ার হাসান জীবন গড়তে চান চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ‘মডেল’ ওয়ার্ড লামায় শিক্ষকের হাতে মারধর ৬ বছরের শিশু শিক্ষার্থী অজ্ঞান : এলাকায় জুড়ে সমালোচনার ঝড়

লামায় শিক্ষকের হাতে মারধর ৬ বছরের শিশু শিক্ষার্থী অজ্ঞান : এলাকায় জুড়ে সমালোচনার ঝড়

বান্দরবানের লামায় স্কুলের প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলম বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শিশুটির মা স্কুলে এসে আর্তনাদ ও অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্রে সমালোচনার সৃষ্টি হয় এলাকাজুড়ে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে লামা উপজেলার গজালিয়া ইউপির বোচাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার রেশমি ত্রিপুরা (৬) বোচাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী এবং নিমন্দ্র মেম্বার পাড়ার সাথী এিপুরা ও রজনী ত্রিপুরার মেয়ে।

স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানায়, ক্লাস চলাকালীন প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রেশমিকে ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে বলেন। লিখতে না পারায় তাকে সঙ্গে সঙ্গে জোরে মাথায় ও মুখে চড়-থাপ্পড় মারেন শিক্ষক। শিশুটির কান্নার শব্দ যাথে বের না হয় সে জন্য মুখ চেপে ধরেন। এতে এক পর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে সহপাঠীরা বাসায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি শিশুটির মাকে জানায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অফিস ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অপর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তার মা মেয়েকে স্কুলের নিয়ে গিয়ে আতর্নাদ করে এভাবে মেয়েকে মারধরের কারন জানতে চান। কিন্তু স্কুলটির প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা কিছু না বলে বসে থাকতে দেখা যায়।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর মা রজনী ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই জুমে কাজ করছিলেন। মেয়ের অজ্ঞান হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাড়িতে। পরে মেয়েকে নিয়ে স্কুলের ছুটে যান গ্রামবাসীসহ তারা । তিনি আরও বলেন, বর্ণমালা লিখতে না পারায় মেয়েকে চড় মেরে অজ্ঞান করে ফেলেন শিক্ষক ফরিদ। আর মারার সময় সিসিটিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। ছোট বাচ্চাদের শিক্ষকরা এমন মারলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে কীভাবে পাঠাবে তারা।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের কাছ থেকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি হালকা একটা চড় দিয়েছিলাম ঠিক কিন্তু শিশুটি হয়তো ভয় পেয়েছে,তারপরে ও আমি এবং আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সহ সকল শিক্ষক মিলে তার বাড়ীতে গিয়ে দেখা করে আসি। কিন্তু দেখা করে আসার পরে আমারা সকল শিক্ষক যখন স্কুলে চলে আসি তখন ঐ গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে স্কুলের চারপাশে ঘিরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চৌকিদার ও এলাকাবাসীর সামনে আমাকে রজনী এিপুরা মারধর সহ লাঞ্ছিত করায়,পরবর্তীতে বিষয় টি আমি আমার সিনিয়র ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তাদের অবগতি করি। এক পর্যায়ে বেশ কিছু স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা স্কুলের সামনে অতিরিক্ত গালিগালাজ করে আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখলে আমরা পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় ঐ স্থান থেকে চলে আসতে সক্ষম হয়।

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি বলেন, ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা পরিবারের ভুক্তভোগীরা বিষয়টি অবগত করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে,তদন্তে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলম দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি আপনারা যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দুই পরিচালক (চঃ দাঃ) এর খুঁটির জোর কোথায়? এখনো বহাল তবিয়তে শফিকুল ইসলাম ও নাঈম গোলদার

লামায় শিক্ষকের হাতে মারধর ৬ বছরের শিশু শিক্ষার্থী অজ্ঞান : এলাকায় জুড়ে সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় ০২:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বান্দরবানের লামায় স্কুলের প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলম বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শিশুটির মা স্কুলে এসে আর্তনাদ ও অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্রে সমালোচনার সৃষ্টি হয় এলাকাজুড়ে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে লামা উপজেলার গজালিয়া ইউপির বোচাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার রেশমি ত্রিপুরা (৬) বোচাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী এবং নিমন্দ্র মেম্বার পাড়ার সাথী এিপুরা ও রজনী ত্রিপুরার মেয়ে।

স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানায়, ক্লাস চলাকালীন প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রেশমিকে ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে বলেন। লিখতে না পারায় তাকে সঙ্গে সঙ্গে জোরে মাথায় ও মুখে চড়-থাপ্পড় মারেন শিক্ষক। শিশুটির কান্নার শব্দ যাথে বের না হয় সে জন্য মুখ চেপে ধরেন। এতে এক পর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে সহপাঠীরা বাসায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি শিশুটির মাকে জানায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অফিস ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অপর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তার মা মেয়েকে স্কুলের নিয়ে গিয়ে আতর্নাদ করে এভাবে মেয়েকে মারধরের কারন জানতে চান। কিন্তু স্কুলটির প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা কিছু না বলে বসে থাকতে দেখা যায়।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর মা রজনী ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই জুমে কাজ করছিলেন। মেয়ের অজ্ঞান হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাড়িতে। পরে মেয়েকে নিয়ে স্কুলের ছুটে যান গ্রামবাসীসহ তারা । তিনি আরও বলেন, বর্ণমালা লিখতে না পারায় মেয়েকে চড় মেরে অজ্ঞান করে ফেলেন শিক্ষক ফরিদ। আর মারার সময় সিসিটিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। ছোট বাচ্চাদের শিক্ষকরা এমন মারলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে কীভাবে পাঠাবে তারা।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের কাছ থেকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি হালকা একটা চড় দিয়েছিলাম ঠিক কিন্তু শিশুটি হয়তো ভয় পেয়েছে,তারপরে ও আমি এবং আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সহ সকল শিক্ষক মিলে তার বাড়ীতে গিয়ে দেখা করে আসি। কিন্তু দেখা করে আসার পরে আমারা সকল শিক্ষক যখন স্কুলে চলে আসি তখন ঐ গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে স্কুলের চারপাশে ঘিরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চৌকিদার ও এলাকাবাসীর সামনে আমাকে রজনী এিপুরা মারধর সহ লাঞ্ছিত করায়,পরবর্তীতে বিষয় টি আমি আমার সিনিয়র ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তাদের অবগতি করি। এক পর্যায়ে বেশ কিছু স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা স্কুলের সামনে অতিরিক্ত গালিগালাজ করে আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখলে আমরা পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় ঐ স্থান থেকে চলে আসতে সক্ষম হয়।

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি বলেন, ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা পরিবারের ভুক্তভোগীরা বিষয়টি অবগত করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে,তদন্তে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলম দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি আপনারা যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।