বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল ইরান। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন আর মাত্র ছয় সপ্তাহ বাকি, তখনও তাদের টুর্নামেন্টটিতে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সম্প্রতি ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দের মতে– বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত!
বার্তা সংস্থা এপি বলছে, ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার সম্মেলনের পূর্বে ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি ‘জেনেছেন’ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আনিতা নিশ্চিত হয়েছেন বলে মনে হলেও, তিনি বলেছেন কর্মকর্তাদের ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ছিল।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে ‘অভিবাসন কর্মকর্তাদের অনুপযুক্ত আচরণের’ কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ এবং আরও দুজন ইরানি কর্মকর্তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে আনিতা আনন্দ বলছেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত সূত্র নয়, তবে আমি বুঝতে পারছি যে, তাদের (কানাডায় প্রবেশের) অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল, তবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার ভার আমি মন্ত্রীর (অভিবাসন মন্ত্রী লীনা দিয়াব) ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’
ইরানের অনলাইন পত্রিকা সর্বপ্রথম ফুটবল কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, সোমবার মেহেদী তাজের ভিসা অনুমোদন করা হয় এবং মঙ্গলবারের শেষ নাগাদ সেটি প্রত্যাহার করে কানাডা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে আইআরজিসির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে এবং সংস্থাটি কানাডার সন্ত্রাসী তালিকায় আগে থেকে অন্তর্ভুক্ত। ইরানি ফুটবল কর্তাদের এমন বিড়ম্বনা নিয়ে পরবর্তীতে নিজেদের পর্যালোচনা জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী দিয়াবের কার্যালয়।
দিয়াবের প্রেস সচিব তাউস আইত বলছেন, ‘গোপনীয়তা আইনের কারণে আমরা ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে না পারলেও, সরকার তার অবস্থানে স্পষ্ট ও অবিচল। আইআরজিসি কর্মকর্তারা কানাডায় অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের দেশে তাদের কোনো স্থান নেই।’
এদিকে, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক কানাডা, যদিও সেখানে ইরানের কোনো ম্যাচ পড়েনি। তবে দেশটির ভ্যাঙ্কুভার শহরে এখন ফিফার সম্মেলন চলছে। যেখানে বৃহস্পতিবার ফিফার সদস্যভুক্ত ২১১টি দেশ থেকে ন্যূনতম একজন প্রতিনিধি হাজির থাকার কথা রয়েছে। তবে অনিশ্চিত ইরানের অংশগ্রহণ। এর আগে ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিল ইরান। শুরু থেকে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ফিফা আশাবাদী দেখালেও সাম্প্রতিক বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























