সংবাদ শিরোনাম ::
মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয়

আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্যে জাফলং ইউনিয়নের আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট মহল, অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দীন এডহক কমিটিকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে প্রতি মাসে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেখিয়ে এককালীন ৮২ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কমিটির মেয়াদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সভা এড়িয়ে যাওয়া বা বিলম্ব করার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। সভাপতির পরামর্শ ছাড়াই এককভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অনুমতি ছাড়া ব্যয় পরিচালনার ঘটনাও অভিযোগে উঠে এসেছে।
শিক্ষকদের বেতন ও ঈদ বোনাস সভাপতির অনুমোদন ছাড়া বিতরণ, ভাউচার জালিয়াতি এবং অসঙ্গতিপূর্ণ বিল তৈরি, সরকারি বেতন-বোনাস বিল যথাযথ অনুমোদন ছাড়া জমা দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তার সঠিক হিসাব প্রদান না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, সময়মতো দায়িত্ব পালন না করা, দীর্ঘ সময়েও ক্লাস রুটিন প্রণয়ন না করা এবং সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন না করার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহশিক্ষাক্রম ও নির্ধারিত সময়সূচী যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করা, কমিটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি অফিস কক্ষে ধূমপানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের ঘটনাও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র

আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:৪৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্যে জাফলং ইউনিয়নের আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট মহল, অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দীন এডহক কমিটিকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে প্রতি মাসে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেখিয়ে এককালীন ৮২ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কমিটির মেয়াদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সভা এড়িয়ে যাওয়া বা বিলম্ব করার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। সভাপতির পরামর্শ ছাড়াই এককভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অনুমতি ছাড়া ব্যয় পরিচালনার ঘটনাও অভিযোগে উঠে এসেছে।
শিক্ষকদের বেতন ও ঈদ বোনাস সভাপতির অনুমোদন ছাড়া বিতরণ, ভাউচার জালিয়াতি এবং অসঙ্গতিপূর্ণ বিল তৈরি, সরকারি বেতন-বোনাস বিল যথাযথ অনুমোদন ছাড়া জমা দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তার সঠিক হিসাব প্রদান না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, সময়মতো দায়িত্ব পালন না করা, দীর্ঘ সময়েও ক্লাস রুটিন প্রণয়ন না করা এবং সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন না করার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহশিক্ষাক্রম ও নির্ধারিত সময়সূচী যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করা, কমিটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি অফিস কক্ষে ধূমপানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের ঘটনাও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।