লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নে নতুন করে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড করে দেওয়ার নাম করে ৯ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। জনপ্রতি ২০০ টাকা করে প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর গণস্বাক্ষরসহ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোগলহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের পুরাতন কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান আব্দুল মালেক। কার্ডপ্রতি ২০০ টাকা করে প্রায় ৯০০ জন দরিদ্র নারী-পুরুষের কাছ থেকে তিনি অর্থ আদায় করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে রাতের আঁধারে তিনি কৌশল অবলম্বন করেন। অভিযোগ উঠেছে, ঘুষের টাকা বৈধ করতে তিনি ভুক্তভোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘গরু-ছাগলের খোয়াড়’ ও ‘বিবিধ কর’ আদায়ের রশিদ ধরিয়ে দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী নুরনবী জানান, গ্রামবাসী অনেকে আগে থেকেই নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের কর পরিশোধ করে আসছিলেন। এখন ঘুষ গ্রহণের দায় থেকে বাঁচতে ইউপি সদস্য তড়িঘড়ি করে পরিষদের বিবিধ রশিদ দিচ্ছেন।
অপর দুই ভুক্তভোগী পঞ্চানন্দ বর্মন ও জোবেদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টাকা দেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ইউপি সদস্য আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। এখন তিনি আর নতুন কার্ড দিচ্ছেন না। খাদ্য অফিসে যোগাযোগ করেও আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছি না।’
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি ঘুষ নিইনি। পরিষদের পক্ষ থেকে ২০০ টাকা করে কর আদায় করে তাদের রশিদ প্রদান করেছি।’
মোগলহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া জানান, এ ঘটনায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ইউএনও অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রশিক্ষণের কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















