কুমিল্লায় মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের মৃত আলী আজমের পরিবারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত আলী আজমের তিন মেয়ে—কুসুম বেগম, আমেনা বেগম ও জোসনা বেগম তাদের পৈতৃক কৃষিজমির মালিক। তবে তাদের বড় ভাই বেলায়েত হোসেন বেলাল দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে বিক্রি করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী জোসনা বেগম জানান, সম্প্রতি রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে তার জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি বাধা দিতে গেলে উল্টো তার ভাই তাকে হুমকি দেন।
পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় গত ২৭ মার্চ তিনি মনোহরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ করার পরও মাটি কাটার কাজ বন্ধ হয়নি বলে জানান তিনি। বরং রাত হলেই আবারও সেই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমার ফসলি জমি এখন প্রায় পুকুরের মতো হয়ে গেছে। বারবার বাধা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। পুলিশ আসার পর কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলেও তারা চলে গেলে আবার শুরু হয়।”
জোসনা বেগম আরও জানান, সর্বশেষ গতকাল রাতেও মাটি কাটার সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন ভেকু ফেলে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন বেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃষিজমি রক্ষা পায় এবং এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়।
এস এম আনোয়ার,মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি। 





















