ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝড়ে উড়ে গেছে স্কুলের ছাউনি, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান লক্ষ্মীপুরে খালে মিলল ডামভর্তি ১৩৬০ লিটার ডিজেল বায়তুল মোকাররম এলাকায় অভিযান, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬ ৪ বছরের ছেলেকে হত্যার পর ফাঁস নিলেন প্রবাসীর স্ত্রী বীমা খাতে প্রফেশনালিজম নেই, আছে শুধু অব্যবস্থাপনা ও তদবির নওগাঁয় ১ হাজার ৫০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দু’জনকে আটক ও ১টি মোটরসাইকেল জব্দ  নওগাঁয় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিন আইনজীবী বহিষ্কার  ‘নূরানি’ চেহারার আড়ালে ভয়ংকর আফজাল মাহমুদুর রহমান পিয়াল:জেফরি এপস্টেইনের বাংলাদেশ সংস্করণ! জেলা ভূমি রেজিস্ট্রার মোঃ রমজান খানের সততার মুখোশে দুর্নীতির পাহাড় !

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক নয়, ব্যক্তি আন্দোলনে রূপ দিতে চাই : সড়ক মন্ত্রী

বৃক্ষরোপণ কেবল প্রথাগত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং একে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আন্দোলনে রূপ দিতে চায় সরকার। প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তিকে নিজ নিজ জায়গা থেকে গাছ লাগানোর দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বুধবার (১ এপ্রিল) সরকার ঘোষিত আগামী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ আওতায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সংযোগ সড়কে (জলসিঁড়ি আবাসনসংলগ্ন) এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেবল একটি সূচনা মাত্র। এটি যেন কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং আজ থেকেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সব সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী, অনাড়ম্বর ও কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে।’

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, কার্যক্রমবান্ধব বলতে যে এলাকায় যে গাছ ভালো জন্মায়, সেই গাছ নির্বাচন করা, উপযুক্ত মানের চারা ব্যবহার করা এবং রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হোক; বরং আমরা চাই ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ যেন টিকে থাকে এবং পূর্ণতা পায়।’

জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিকে সফল করতে হলে এটিকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন কিংবা যেকোনো আনন্দঘন মুহূর্তে যদি প্রতিটি পরিবার গাছ লাগায়, তবে দ্রুতই সবুজে ভরে উঠবে দেশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকেও এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, সংযোগ সড়ক ও নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসমূহের খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা টেকসই বাংলাদেশ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উদ্যোগকে সফল করতে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝড়ে উড়ে গেছে স্কুলের ছাউনি, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক নয়, ব্যক্তি আন্দোলনে রূপ দিতে চাই : সড়ক মন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৩২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বৃক্ষরোপণ কেবল প্রথাগত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং একে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আন্দোলনে রূপ দিতে চায় সরকার। প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তিকে নিজ নিজ জায়গা থেকে গাছ লাগানোর দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বুধবার (১ এপ্রিল) সরকার ঘোষিত আগামী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ আওতায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সংযোগ সড়কে (জলসিঁড়ি আবাসনসংলগ্ন) এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেবল একটি সূচনা মাত্র। এটি যেন কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং আজ থেকেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সব সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী, অনাড়ম্বর ও কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে।’

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, কার্যক্রমবান্ধব বলতে যে এলাকায় যে গাছ ভালো জন্মায়, সেই গাছ নির্বাচন করা, উপযুক্ত মানের চারা ব্যবহার করা এবং রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হোক; বরং আমরা চাই ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ যেন টিকে থাকে এবং পূর্ণতা পায়।’

জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিকে সফল করতে হলে এটিকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন কিংবা যেকোনো আনন্দঘন মুহূর্তে যদি প্রতিটি পরিবার গাছ লাগায়, তবে দ্রুতই সবুজে ভরে উঠবে দেশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকেও এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, সংযোগ সড়ক ও নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসমূহের খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা টেকসই বাংলাদেশ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উদ্যোগকে সফল করতে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।