ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মায়ানমারে‎ আটক হওয়া ১৬ জেলেকে ফিরে পেতে আকুতি করেন কমলনগরের জেলে পরিবার

বাংলাদেশ জলসীমা থেকে ১৬ মাঝিমাল্লাসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে গেছে মায়ানমার কোস্টগার্ড। তাদের মধ্যে ১০ জনই লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় জেলেদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান।
‎এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
‎বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে জেলেদের পরিবার তাদের ফিরে পেতে আকুতি জানান। এর আগে, গত ২৩ মার্চ বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গেলে ‘এফবি মা-বাবার দোয়া’ নামক ট্রলারসহ ওই ১৬ জেলেকে আটক করে নিয়ে যায় মিয়ানমার কোস্টগার্ড।
‎আটক ১৬ জেলের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতির ৯ জন, কমলনগরের একজন এবং নোয়াখালীর তিনজন রয়েছেন। এ ছাড়া কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ভোলার আরও তিনজন জেলে ওই ট্রলারে ছিলেন।
‎আটক জেলেরা হলেন— লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. জুয়েল, মো. নিরব, রাকিব হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মো. লিটন, ফরহাদ হোসেন, মো. তাহমীদ ও মো. তামজিদ। কমলনগর উপজেলার মো. অজি উল্লাহ। নোয়াখালীর মো. শাহজাহান, জাবের হোসেন ও মো. সোহাগ। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার কামাল হোসেন, ভোলার কবির হোসাইন এবং কক্সবাজারের তারেক রহমান।
‎ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান জানান, গত ২৩ মার্চ মহেশখালী থেকে ১৬ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায় তার ট্রলারটি। পরদিন থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ২৮ মার্চ মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
‎তিনি আরও বলেন, অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশ জলসীমা থেকেই মিয়ানমার কোস্টগার্ড তাদের আটক করে নিয়ে গেছে। জেলেদের তথ্য সংগ্রহ করে আমরা ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাদের উদ্ধারে আমরা জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
‎রামগতির চর পোড়াগাছা গ্রামের জেলে মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা জানান, তার স্বামী, ভাসুর, নন্দাই ও ভাগিনাসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ওই ট্রলারে ছিলেন। ২৩ মার্চের পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
‎লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা এরইমধ্যে অবগত হয়েছি। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার

মায়ানমারে‎ আটক হওয়া ১৬ জেলেকে ফিরে পেতে আকুতি করেন কমলনগরের জেলে পরিবার

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ জলসীমা থেকে ১৬ মাঝিমাল্লাসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে গেছে মায়ানমার কোস্টগার্ড। তাদের মধ্যে ১০ জনই লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় জেলেদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান।
‎এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
‎বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে জেলেদের পরিবার তাদের ফিরে পেতে আকুতি জানান। এর আগে, গত ২৩ মার্চ বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গেলে ‘এফবি মা-বাবার দোয়া’ নামক ট্রলারসহ ওই ১৬ জেলেকে আটক করে নিয়ে যায় মিয়ানমার কোস্টগার্ড।
‎আটক ১৬ জেলের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতির ৯ জন, কমলনগরের একজন এবং নোয়াখালীর তিনজন রয়েছেন। এ ছাড়া কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ভোলার আরও তিনজন জেলে ওই ট্রলারে ছিলেন।
‎আটক জেলেরা হলেন— লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. জুয়েল, মো. নিরব, রাকিব হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মো. লিটন, ফরহাদ হোসেন, মো. তাহমীদ ও মো. তামজিদ। কমলনগর উপজেলার মো. অজি উল্লাহ। নোয়াখালীর মো. শাহজাহান, জাবের হোসেন ও মো. সোহাগ। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার কামাল হোসেন, ভোলার কবির হোসাইন এবং কক্সবাজারের তারেক রহমান।
‎ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান জানান, গত ২৩ মার্চ মহেশখালী থেকে ১৬ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায় তার ট্রলারটি। পরদিন থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ২৮ মার্চ মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
‎তিনি আরও বলেন, অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশ জলসীমা থেকেই মিয়ানমার কোস্টগার্ড তাদের আটক করে নিয়ে গেছে। জেলেদের তথ্য সংগ্রহ করে আমরা ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাদের উদ্ধারে আমরা জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
‎রামগতির চর পোড়াগাছা গ্রামের জেলে মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা জানান, তার স্বামী, ভাসুর, নন্দাই ও ভাগিনাসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ওই ট্রলারে ছিলেন। ২৩ মার্চের পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
‎লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা এরইমধ্যে অবগত হয়েছি। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।