সয়াবিন তেল বোতলে দাম ১৯৫ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়!

প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকায় নির্ধারণ করেছে সরকার। বাড়তি দাম গতকাল বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। অবশ্য দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে।

গত সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে অল্পসংখ্যক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিললেও গায়ের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। আজ অবশ্য পাল্টে গেছে সেই চিত্র। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের বোতলে এক লিটারের দাম ১৯৫ টাকা লেখা থাকলেও প্রায় প্রতিটি দোকানেই দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে সুপারশপগুলোতে পুরোনো দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকা ঘুরে পুরোনো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামবৃদ্ধির এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই এখনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এই চিত্র অবশ্য দুই-এক দিনের নয়; ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহে চরম সংকট দেখা যায়। এমনকি সুপারশপগুলো থেকেও একপর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন ধরে অবশ্য সুপারশপগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনেক মুদি দোকানে এখনো বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

রাজধানীর মুগদা-মানিকনগর এলাকায় অন্তত ১০টি দোকানে ঘুরে মাত্র ছয়টি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। প্রায় প্রতিটি দোকানে নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন পাওয়া গেছে। দু’মাস আগে প্রতিটি দোকানে কয়েকটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ থাকতো। ওইসব দোকানগুলোতে তীর, রূপচাঁদা, পিওর ও স্টারশিপ ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশসহ পরিচিত অনেকগুলো ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, দুইদিন আগে তীর ব্র্যান্ডের কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেল এনেছেন তিনি। এখন সরকার নির্ধারিত ১৯৯ টাকা দামে বিক্রি করছেন। নতুন দাম গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে, তাই দাম বাড়িয়েছে তারা। সয়াবিন তেলের উৎপাদক ব্র্যান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলো। এখন যেহেতু দাম বেড়েছে, সেহেতু আশা করা যায় দুই-তিনদিনের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মহল্লার দোকানিরা জানান, সরকার গতকাল দাম বাড়ালেও ডিলার পর্যায়ে ব্র্যান্ডগুলো অনেকদিন আগে থেকেই দাম বাড়িয়েছে। তারা বাড়তি দামে কিনে এনেছেন, তাই বোতলের দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে মুগদা, মানিকনগর ও খিলগাঁও এলাকার ‘স্বপ্ন’, ‘ডেইলি শপিং’ এবং স্থানীয় কয়েকটি সুপারশপ ঘুরে অল্প কিছু সংখ্যক পুরোনো দামের বোতলজাত সয়াবিন তেল দেখা গেছে। সুপারশপগুলোতে অবশ্য বোতলে নির্ধারিত দামেই সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সয়াবিন তেল বোতলে দাম ১৯৫ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়!

আপডেট সময় ০৪:৩৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকায় নির্ধারণ করেছে সরকার। বাড়তি দাম গতকাল বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। অবশ্য দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা যাচ্ছে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে।

গত সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে অল্পসংখ্যক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিললেও গায়ের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। আজ অবশ্য পাল্টে গেছে সেই চিত্র। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের বোতলে এক লিটারের দাম ১৯৫ টাকা লেখা থাকলেও প্রায় প্রতিটি দোকানেই দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে সুপারশপগুলোতে পুরোনো দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকা ঘুরে পুরোনো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামবৃদ্ধির এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই এখনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এই চিত্র অবশ্য দুই-এক দিনের নয়; ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহে চরম সংকট দেখা যায়। এমনকি সুপারশপগুলো থেকেও একপর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন ধরে অবশ্য সুপারশপগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনেক মুদি দোকানে এখনো বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

রাজধানীর মুগদা-মানিকনগর এলাকায় অন্তত ১০টি দোকানে ঘুরে মাত্র ছয়টি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। প্রায় প্রতিটি দোকানে নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন পাওয়া গেছে। দু’মাস আগে প্রতিটি দোকানে কয়েকটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ থাকতো। ওইসব দোকানগুলোতে তীর, রূপচাঁদা, পিওর ও স্টারশিপ ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশসহ পরিচিত অনেকগুলো ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, দুইদিন আগে তীর ব্র্যান্ডের কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেল এনেছেন তিনি। এখন সরকার নির্ধারিত ১৯৯ টাকা দামে বিক্রি করছেন। নতুন দাম গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে, তাই দাম বাড়িয়েছে তারা। সয়াবিন তেলের উৎপাদক ব্র্যান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলো। এখন যেহেতু দাম বেড়েছে, সেহেতু আশা করা যায় দুই-তিনদিনের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মহল্লার দোকানিরা জানান, সরকার গতকাল দাম বাড়ালেও ডিলার পর্যায়ে ব্র্যান্ডগুলো অনেকদিন আগে থেকেই দাম বাড়িয়েছে। তারা বাড়তি দামে কিনে এনেছেন, তাই বোতলের দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে মুগদা, মানিকনগর ও খিলগাঁও এলাকার ‘স্বপ্ন’, ‘ডেইলি শপিং’ এবং স্থানীয় কয়েকটি সুপারশপ ঘুরে অল্প কিছু সংখ্যক পুরোনো দামের বোতলজাত সয়াবিন তেল দেখা গেছে। সুপারশপগুলোতে অবশ্য বোতলে নির্ধারিত দামেই সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে।