ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি ঢাবিতে ৯ ককটেল বিস্ফোরণ: আটক তিনজনের পরিচয় জানা গেল দুর্নীতিতে কার্যকারিতা হারিয়েছে সমবায় সমিতিগুলো: রাষ্ট্রপতি সরকারি ওষুধ কেনা-বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, রাজস্থলী হাসপাতালে দুদকের অভিযান এলজিইডির উদ্যোগে পঞ্চগড়ে তিন সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন আ.লীগের ফিরে আসা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী দীপকের ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা নিয়ে ক্ষোভ, ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফ্লাইওভার থেকে পল্লবী থানায় ককটেল নিক্ষেপ দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে পাকিস্তান গেলেন ৩৪ সরকারি কর্মকর্তা

মহামায়া ইকোপার্কে কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব গিলে খাচ্ছে বন কর্মকর্তারা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীনস্থ মিরসরাই রেঞ্জের ‘মহামায়া ইকোপার্ক’-এ সরকারি রাজস্ব চুরির মহোৎসব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, উপ বন সংরক্ষক (ডিএফও) আবু নাসের মোহসিন হোসেন, ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ আল-আমিন এবং পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার উজ্জ্বল হোসেনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ও নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে। গত ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে পার্কটির ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২৩ জুলাই থেকে সরাসরি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইজারা না থাকার সুযোগে এই কর্মকর্তা ত্রয়ীর সাথে তিনজন ফরেস্ট গার্ড এবং চারজন আউটসোর্সিং কর্মচারী মিলে রাজস্বের টাকা নিজেদের পকেটে পুড়ছেন। সরকারিভাবে ইঞ্জিনচালিত বোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও অভিযুক্তরা গোপনে পুরো লেক ভ্রমণের জন্য ২০০০ টাকা এবং ঝরনা পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য ১০০০ টাকা হারে পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করে হরিলুট করছেন।

পর্যটক ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের এই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সিন্ডিকেট পার্কের সাধারণ দর্শনার্থীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ফি-এর চেয়েও অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রবেশ ফি এবং গাড়ি পার্কিং—প্রতিটি খাত থেকেই সরকারি হারের চেয়ে দুই থেকে চার টাকা বাড়িয়ে আদায় করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে সরকারি আসল টিকিটের পাশাপাশি তারা নিজেদের বানানো ভুয়া টিকিট বানিয়ে বিক্রি করছে এবং সেই টাকা সরাসরি পকেটে ভরছে।

একই সাথে পার্কে থাকা প্যাডেল বোট থেকে প্রাপ্ত আয়ের অত্যন্ত সামান্য অংশ সরকারি খাতায় জমা দেখিয়ে বাকি সিংহভাগ টাকাই নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এভাবে ব্যক্তি পকেট ভারী করার পেছনে এই পুরো চক্রটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও দর্শনার্থীরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত এই তিন কর্মকর্তাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে আকলিমা-নুরের নামজারি সিন্ডিকেট: ঘুষ না দিলেই ফাইল বন্দি

মহামায়া ইকোপার্কে কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব গিলে খাচ্ছে বন কর্মকর্তারা

আপডেট সময় ০২:২৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীনস্থ মিরসরাই রেঞ্জের ‘মহামায়া ইকোপার্ক’-এ সরকারি রাজস্ব চুরির মহোৎসব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, উপ বন সংরক্ষক (ডিএফও) আবু নাসের মোহসিন হোসেন, ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ আল-আমিন এবং পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার উজ্জ্বল হোসেনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ও নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে। গত ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে পার্কটির ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২৩ জুলাই থেকে সরাসরি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইজারা না থাকার সুযোগে এই কর্মকর্তা ত্রয়ীর সাথে তিনজন ফরেস্ট গার্ড এবং চারজন আউটসোর্সিং কর্মচারী মিলে রাজস্বের টাকা নিজেদের পকেটে পুড়ছেন। সরকারিভাবে ইঞ্জিনচালিত বোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও অভিযুক্তরা গোপনে পুরো লেক ভ্রমণের জন্য ২০০০ টাকা এবং ঝরনা পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য ১০০০ টাকা হারে পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করে হরিলুট করছেন।

পর্যটক ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের এই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সিন্ডিকেট পার্কের সাধারণ দর্শনার্থীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ফি-এর চেয়েও অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রবেশ ফি এবং গাড়ি পার্কিং—প্রতিটি খাত থেকেই সরকারি হারের চেয়ে দুই থেকে চার টাকা বাড়িয়ে আদায় করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে সরকারি আসল টিকিটের পাশাপাশি তারা নিজেদের বানানো ভুয়া টিকিট বানিয়ে বিক্রি করছে এবং সেই টাকা সরাসরি পকেটে ভরছে।

একই সাথে পার্কে থাকা প্যাডেল বোট থেকে প্রাপ্ত আয়ের অত্যন্ত সামান্য অংশ সরকারি খাতায় জমা দেখিয়ে বাকি সিংহভাগ টাকাই নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এভাবে ব্যক্তি পকেট ভারী করার পেছনে এই পুরো চক্রটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও দর্শনার্থীরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত এই তিন কর্মকর্তাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।